সোমবার | আগস্ট ১০, ২০২০ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

সিল্করুট

মার্কো পোলোর বয়ানে কুবলাই খান

তরুণ পর্যটক ও এক আমুদে সম্রাট

মুহিত হাসান

মার্কো পোলো যখন নিজের দেখা নগরগুলোর বিবরণ দেন, তখন তার সব কথাই যে কুবলাই খান নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন এমনটি নয়। কিন্তু নিজের অন্য কোনো দূত বা অভিযাত্রীর চেয়ে তাতার সম্রাট তরুণ ভেনিসবাসীর কথাই শুনতে থাকেন অধিকতর মনোযোগ কৌতূহলের সঙ্গে।ইতালো কালভিনো তার ব্যতিক্রমী উপন্যাসইনভিজিবল সিটিজ’-এর শুরুটা করেছিলেন ঠিক এভাবেই। কার্যত পুরো উপন্যাসটাই লেখা হয়েছিল সম্রাট কুবলাই খানের সঙ্গে তরুণ অভিযাত্রী মার্কো পোলোর কল্পসংলাপের মারফত। বস্তুত কুবলাই খানের সঙ্গে মার্কো পোলোর মোলাকাত গোটা দুনিয়াতেই আগ্রহীজনের এক বিরাট কৌতূহলের বিষয় হয়ে টিকে আছে শতকের পর শতক ধরে। যেন প্রাচ্য পাশ্চাত্যের মুখোমুখি দেখা হওয়ারই এক রূপক চিত্র। ইতিহাসবিদ থেকে শুরু করে কথাসাহিত্যিক বা নিতান্ত সাধারণ পাঠক কেউই মার্কো পোলোর লেখা কুবলাই খানের দরবারের বিবরণ এড়িয়ে যেতে পারেন না। বিশেষত আগ্রাসী মনোভাবে দীপ্ত বীর কুবলাই খানের পাশাপাশি তিনি যে আমুদে সম্রাট কুবলাই খানের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন নিজের লেখায়, তা সত্যিই আকর্ষণীয় কৌতূহলোদ্দীপক।

আনুমানিক ১২৭৪ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় বণিক পিতা পিতৃব্যর সঙ্গে মার্কো পোলো হাজির হন চীনে, কুবলাই খানের দরবারে। কুবলাই খান তখন অবস্থান করছিলেন তার গ্রীষ্মকালীন রাজধানী জানাডুতে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই আগমন? ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, ১২৭১ সালে কুবলাই খান তখন সদ্যনির্বাচিত পোপ দশম গ্রেগরিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এই বলে, অন্তত ১০০ জন মিশনারি যেন তিনি চীনে পাঠান। আর সঙ্গে তার চাই জেরুজালেমের লণ্ঠনের তেল। দুজন ভিন্ন ব্যক্তি উদ্দেশে রওনা হলেও পরে ভয়ে তারা মাঝপথেই ফিরে আসেন, কিন্তু কুবলাই খানের সঙ্গে পূর্ব যোগাযোগ থাকায় মার্কো পোলোর বাবা কাকাই শেষমেশ পুনরায় জানাডুতে যান। সঙ্গে করে নিয়ে যান পোপের পবিত্র উপহার। বাবা-কাকার সঙ্গে সে যাত্রায় ২১ বছর বয়সী মার্কো পোলোরও সুযোগ ঘটে সুদূর চীন দেশে গিয়ে ইউয়ান সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি কুবলাই খানের সঙ্গে মোলাকাত করার। মার্কো পোলোর ভ্রমণকথার একটা বড় অংশ জুড়ে তাই কুবলাই খানের জীবনকথা তার সাম্রাজ্যের বর্ণনা উঠে এসেছে। কার্যত পোলোর ওই বিবরণী যেন মোঙ্গল ইউয়ান রাজবংশের ইতিহাসের এক অপরূপ ক্যালাইডোস্কোপ।

প্রথম দর্শনেই তরুণ মার্কো পোলোর ব্যক্তিত্ব কুবলাই খানকে মুগ্ধ করেছিল। বিশেষ করে তার গল্প বলার ক্ষমতা তাতার সম্রাটকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। অন্যপক্ষে কুবলাই খানের শৌর্য-বীর্যও টেনেছিল মার্কো পোলোকে। নিজের ভ্রমণকথায় তাই কুবলাই খান প্রসঙ্গ শুরুই করেছেন এমন প্রশংসাসূচক বাক্যাবলি দিয়ে: ‘...কুবলাই খান, যিনি শ্রেষ্ঠতম অধিক শক্তিশালী অন্য যে কারো চেয়ে। বাকি পাঁচজনকে (চেঙ্গিস খানসহ পূর্বতন পাঁচ সম্রাটের কথা বলা হচ্ছে) এক করলেও কুবলাই খানের সমান শক্তি তারা সঞ্চয় করতে পারবে না এবং এখন এর চেয়েও বড় কথা হলো, যা কিনা আমি দৃঢ়ভাবেই বিবৃত করতে পারি: পৃথিবীর সব সম্রাট এবং খ্রিস্টান আরবদের সব রাজাকে এক করা হলেও তারা সেই মহান কুবলাই খানের সমান ক্ষমতা দেখাতে পারবে না বা তার সমান ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না।হয়তো অতিশয়োক্তি আছে বয়ানে। কিন্তু কুবলাই খানেরক্যারিশমাযে তরুণ মার্কো পোলোকে মুগ্ধ করেছিল, তার অকাট্য প্রমাণ মেলে ভ্রমণকথার অংশটুকু থেকে

অপরিসীম মুগ্ধতামাখা প্রাথমিক আলাপের প্রসঙ্গের পর মার্কো পোলা জানাডুতে কুবলাই খানের প্রাসাদের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, কুবলাই খান জানাডুতে থাকার সময় (শহরটি কার্যত তারই গড়া) মার্বেল পাথর অন্যান্য রত্ন দিয়ে গড়া এক প্রাসাদে অবস্থান করেন। দারুণভাবে সজ্জিত চাকচিক্যময় ওই প্রাসাদের দরবার যেন সোনায় মোড়া। প্রাসাদের সঙ্গে আছে একটি ১৬ বর্গমাইল এলাকার উদ্যান। যেখানে সম্রাট তার পছন্দের প্রাণীদের পোষ্য করে রেখেছেন। সম্রাট যখন উদ্যানে আসেন, তখন তার সঙ্গে থাকে একটি চিতাবাঘ। আর কাঁধে থাকে শিকারি বাজপাখি। ঘোড়ায় চড়ে তিনি উদ্যানে এসে প্রায়ই সঙ্গী চিতাবাঘটিকে শিকলহীন করে ছেড়ে দেন, যেন সে সামনে থাকা পোষা হরিণগুলোর কোনো একটিকে শিকার হিসেবে বেছে নিতে পারে। আর তার বাজগুলো যেন শিকার পায় সহজেই, সে উদ্দেশ্যে উদ্যানে তৈরি করা হয়েছে গাঙচিলদের আস্তানা।

মার্কো পোলো আরো জানান, জানাডুর প্রাসাদে কুবলাই খান থাকেন বছরের তিন মাস। জুন, জুলাই আগস্ট। তার তিন মাস জানাডুতে থাকা মূলত গরমের আঁচ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। তবে অবসরযাপনও আরেকটি মুখ্য উদ্দেশ্য বটে। আর প্রতি বছর তিনি ২৮ আগস্টই জানাডুর প্রাসাদ ত্যাগ করেন। ২৮ আগস্টই প্রাসাদ ত্যাগের পেছনে একটি বিশেষ কারণ আছে। দরবারের জ্যোতিষী জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলে থাকেন, ওইদিন মোঙ্গলদের পালিত এক বিশেষ ধরনের সাদা ঘোড়ার দুধ আকাশে মাটিতে ছিটিয়ে প্রার্থনা করতে হবে। রাজানুগ্রহে পালিত ওই বিশেষ জাতের সাদা ঘোড়ার দুধ মোঙ্গল রাজবংশের যোদ্ধারাই শুধু পান করতে পারেন। বিশেষ ওইদিনে সেই দুধ চারপাশে ছিটিয়ে দেয়া হয় বিশ্বাসে, যেন ধরিত্রী জীবজগতের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এরপর মার্কো পোলো কুবলাই খানের প্রাসাদের এমন একটি ঘটনার কথা বলেছেন, যা আজকের যুগে এসে গাঁজাখুরি গল্প বলে মনে হতে পারে। ঘটনাটি এমন: মার্কো পোলো যখন প্রাসাদের মধ্যে থাকেন তখন যদি বাইরে ঝড়-বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া থাকে, তা হলেও প্রাসাদের ওপর ঝলমলে রোদ মৃদুমন্দ আবহাওয়া বিরাজ করে। এমন আজগুবি কাণ্ড ঘটার কারণ? জ্যোতিষী জাদুকরদের তুকতাক! কুবলাই খানের দরবারে নাকি তিব্বত কাশ্মীর থেকে আসা কয়েকজন অভিজ্ঞ জ্যোতিষী দক্ষ জাদুকর ছিলেন, যারা কিনা তন্ত্রমন্ত্র করে নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়াকেও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখতেন।

কুবলাই খানের ব্যক্তিগত সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত রক্ষীর সংখ্যাটাও জানিয়েছেন মার্কো পোলো এবং সেটিও চমকে দেয়ার মতো। পুরো ১২ হাজার ঘোড়সওয়ার ওই রক্ষীবাহিনীতে রয়েছেন চারজন সেনাপতি। প্রত্যেকের ওপর তিন হাজার সৈন্যের ভার। তিনদিন তিন রাত ধরে তিন হাজার সৈন্যের একটি দল প্রাসাদে টানা দায়িত্ব পালন করে, পরে আরেকটি দল আসে। এক দল নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে আরেক দলকে ছুটিতে পাঠায়। এভাবেই ক্রমান্বয়ে চারটি দলই দায়িত্ব পালন করে। অবশ্য যারা ছুটি পায় তারা প্রাসাদ ত্যাগ করতে পারে না। যদি না তাদের কোনো নিকটাত্মীয়র মৃত্যু ঘটে। তেমনটি হলে কুবলাই খানের অনুমতি নিয়ে প্রাসাদ ছাড়তে হয়। দরবারের সভাসদদের জন্য কুবলাই খান চালু করেছিলেন পরিচ্ছন্নতার বিশেষ নিয়ম। প্রত্যেক সভাসদ বাধ্যতামূলকভাবে নিজের সঙ্গে একটি পাত্র রাখতেন। কারণ অনেক সভাসদই মেঝেতে থুতু ফেলতেন। দরবারে থাকার সময় মেঝেতে থুতু ফেলা ছিল অমার্জনীয় অপরাধ। থুতু ফেলার জন্য তাই সবাইকে একটি পাত্র বহন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

কুবলাই খান যখন জানাডুর দরবারে বসেন, তখন প্রতি দুপুরবেলায় তার মধ্যহ্নভোজে যে আয়োজন হতো তা দেখবার সুযোগ পেয়েছিলেন মার্কো পোলোও। সে এক এলাহি আয়োজন। ভোজনসভার জন্য নির্ধারিত হলঘরের উত্তর প্রান্তে সবার থেকে উঁচু এক টেবিলে খেতে বসেন কুবলাই খান। তার বাম পাশে বসেন পাটরানী। ডান পাশে একটু নিচু আসনে বসেন তার পুত্ররা। সবচেয়ে বড়জন বাকিদের থেকে একটু উঁচু আসনে বসার সুযোগ পান। নাতিপুতি রক্ষীরা বসেন কুবলাই খানের পায়ের কাছে। তাদের পরে দরবারের বাকি গণ্যমান্য নারীদের বসার ব্যবস্থা হয়। খাবার টেবিলগুলো এমনভাবে সাজানো হয়ে থাকে, যাতে কুবলাই খান খেতে বসেছে এমন যে কাউকেই এক পলকে দেখে নিতে পারেন। তবে খেতে আসা সবাই যে টেবিল বরাদ্দ পান, তা নয়। অনেকেই গালিচার ওপর বসে খাবার গ্রহণ করেন। আর ভোজনকক্ষের বাইরেও প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ হাজারজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয় কুবলাই খানের দরবারে। এদের মধ্যে আছেন দামি দুষ্প্রাপ্য উপহার নিয়ে আসা দর্শনার্থীর দল, অজানা দেশ থেকে অদ্ভুত দ্রব্য নিয়ে আসা লোকজন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা সাম্রাজ্য বা দেশ থেকে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভোজসভায় খানাপিনার সঙ্গে বিনোদনের ব্যবস্থাও সম্রাট করেছেন। খাওয়াদাওয়া শেষে টেবিলগুলো গুটিয়ে নেয়া হয়। তারপর জাগলার নানা কিসিমের অ্যাক্রোবেটরা প্রায়ই ভোজসভায় এসে খেলা দেখিয়ে যায়। তাদের শারীরিক কসরতের প্রদর্শনী অতিথিদের আনন্দ দিয়ে থাকে। তো গেল ভোজসভার কথা, এর পাশাপাশি সম্রাটের খাওয়াদাওয়ার ধরনটিও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে ভোলেননি মার্কো পোলো। অন্য সব দামি খাবারদাবার ছাড়াও সম্রাটের খাবার টেবিলে দুই রকমের দুধ তিনি দেখতে পেয়েছিলেনউট ঘোড়ার। আবার খাওয়ার সময় তিনি যেসব তৈজসপত্র ব্যবহার করেন, তার সবই স্বর্ণের তৈরি। যেসব পরিচারক তাকে খাবার পরিবেশন করতে আসেন, তাদের প্রত্যেকের মুখ নাক ঢাকা থাকে সিল্ক স্বর্ণে তৈরি ন্যাপকিনের দ্বারা। তাদের নিঃশ্বাস সম্রাটের খাবারকে যেন একটুও স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্যই বাড়তি সতর্কতা!

২৮ সেপ্টেম্বর কুবলাই খানের জন্মদিন পালন সেকালে ছিল এক বিরাট উৎসবের নামান্তর। আদতে কুবলাই খানের আমলের চীনে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব। মার্কো পোলো কুবলাই খানের জন্মোৎসবেরও একটা ছোট্ট বর্ণনা দিয়েছেন। ওইদিন কুবলাই খানের অধীন সব সেনাপতি রক্ষীরা তার মতোই জমকালো পোশাক পরার সুযোগ পান। ওই পোশাক তারা সম্রাটের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়ে থাকেন। আবার কুবলাই খান ফেব্রুয়ারিতে চৈনিক নতুন বছরও উদযাপন করতেন মহা ধুমধামের সঙ্গে। ওইদিন তিনি নাকি এক লাখেরও বেশি সাদা ঘোড়া উপহার হিসেবে পেয়ে থাকতেন। তার সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা পাঁচ হাজার হাতিকেও সেদিন সাজানো হতো দামি কাপড় অলংকার দিয়ে।

উৎসব-ভোজসভা আয়োজনে যেমন আগ্রহী ছিলেন কুবলাই খান, তেমনি আরেকটি বিষয়ে তার দারুণ নেশা ছিল। তা হলো শিকার। তার শীতকালীন রাজধানী খান-বালিকে থাকার সময়েই মূলত তিনি শিকারে যেতেন। ডিসেম্বর, জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি তিনি খান-বালিক শহরে থাকতেন। যখন যে এলাকায় তিনি শিকারে যেতেন, ওইসব এলাকার প্রশাসকদের অবশ্যই তার শিকারের সঙ্গী হতে হতো। বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকেরা নিজের সঙ্গে ওইসব জায়গায় দক্ষ শিকারিদেরও নিয়ে আসতেন, যাতে তারা সম্রাটের শিকারবহরের শক্তি বাড়াতে পারে। সঙ্গে তার দক্ষ ঘোড়সওয়ার বাহিনী হস্তীকুল তো থাকতই। সাধারণ শিকারিরা তীর-ধনুক দিয়ে শিকারে নামতে অভ্যস্ত হলেও কুবলাই খান ভালোবাসতেন নিজের পোষা চিতাবাঘ দিয়ে বন্যপ্রাণী শিকার করতে।

ইদানীং কেউ কেউ এমন কথাও বলেন, মার্কো পোলো নাকি কুবলাই খানের দরবারে আদৌ যাননি। তার বাবা-কাকারা যেতে পারেন। কিন্তু তিনি কুবলাই খানের দরবারে দূরে থাক, এমনকি চীনে কদ্যপি পদার্পণ করেননি! কুবলাই খানের দরবারের যে বর্ণনা, তা সব নিকটজনদের কাছে শুনে তিনি লিখেছিলেন। সে যা- হোক, নানা মুনির নানা মত থাকবেই। মার্কো পোলো কুবলাই খানের দরবারে গিয়ে তরুণ বয়সেই সেখানকার অন্যতম সদস্য হয়ে উঠেছিলেনএটা এখন অবধি ইতিহাসের স্বীকৃত সত্য। আর ভাগ্যিস মার্কো পোলো কুবলাই খানের দরবারে গিয়েছিলেন, তা না হলে রাজ্য জয়ের উদ্দেশ্যে ছুটতে থাকা সমরনায়কের প্রতিচ্ছবির আড়ালে যে ব্যক্তিমানুষ কুবলাই খান লুকিয়ে ছিলেন, তার হদিস পাওয়া কষ্টকর হতো। পাওয়া যেত না তার দরবারের হরেক রকম রঙদার অম্লমধুর চিত্রও। অন্তত শুধু এই এক কারণে ইতিহাসের আগ্রহী পাঠকেরা মার্কো পোলোর কাছে ঋণী থাকতে পারেন, এমনকি ঋণী থাকতে পারেন স্বয়ং মহান কুবলাই খানও!

[ঋণ স্বীকার: নিবন্ধে নাইজেল ক্লিফ অনূদিত মার্কো পোলোরট্র্যাভেলস’ (পেঙ্গুইন ক্ল্যাসিকস, ২০১৫) বইটি ব্যবহার করা হয়েছে]

 

মুহিত হাসান: নন-ফিকশন লেখক