শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

সংকেত

টানা পাঁচ কার্যদিবসের পতনে সূচক তলানিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবসে চাঙ্গা ভাব থাকলেও পরের পাঁচ কার্যদিবসেই সূচকে টানা পতন দেখেছে দেশের পুঁজিবাজার। আগের চার সপ্তাহে কিছুটা উত্থান হলেও গত সপ্তাহে আড়াইশর বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল সূচক ডিএসইএক্স। সূচক কমেছে দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির মূল্যসূচক সিএসসিএক্স পয়েন্ট হারিয়েছে সাড়ে চারশর বেশি।

দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে গত সপ্তাহে সব কার্যদিবসেই ডিএসইএক্স কমেছে। রোববার সূচকটি পয়েন্ট হারায় ৫৯। ৪ হাজার ৪৫৯ পয়েন্ট নিয়ে রোববার লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স দিন শেষে ছিল ৪ হাজার ৪০০ পয়েন্টে। শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে এ সূচক কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৯৭ পয়েন্ট। এক সপ্তাহে ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ২৬২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

ডিএসইএক্সের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ১০০ পয়েন্ট হারিয়েছে ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০। ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে সপ্তাহ শেষে ১ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৫০৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে পাঁচ কার্যদিবসে ৬৪ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ৯৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯ পয়েন্ট।

চলতি বছরের প্রথম দিনে ডিএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা হয়েছে নতুন সূচক সিডিএসইটির। ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের সাবসিডিয়ারি শেনঝেন সিকিউরিটিজ ইনফরমেশন কোম্পানির সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতার অংশ হিসেবে বড়, মাঝারি ও ছোট মূলধনি কোম্পানিগুলোকে নিয়ে তিনটি আলাদা সূচক চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই, তার প্রথম পর্যায়ে বড় মূলধনি ৪০টি কোম্পানি নিয়ে সিএনআই-ডিএসই নির্বাচিত সূচকটি চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে সূচকটি অবস্থান করছে ৮৪৪ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৮৯৬ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৩১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৩০২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেন ২১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে লেনদেন হলেও আগের সপ্তাহে কার্যদিবস ছিল চার। এ কারণে দৈনিক গড় লেনদেন কমলেও ডিএসইতে মোট লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে। লেনদেন হওয়া ৩৫৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে মাত্র ৩৪টির, কমেছে ৩১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশ দখলে নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল ব্যাংক ও প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনের ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল সাধারণ বীমা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং বস্ত্র খাত তৃতীয় অবস্থানে ছিল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ সিকিউরিটিজ ছিল লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। এর পরের অবস্থানে ছিল খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া লেনদেনে শীর্ষে ছিল যথাক্রমে এডিএন টেলিকম লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সিটি ব্যাংক লিমিটেড ও ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড।

সমাপনী দরের ভিত্তিতে ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে ন্যাশনাল ফিড মিল লিমিটেড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, কেঅ্যান্ডকিউ লিমিটেড, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ও আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সিএসসিএক্স ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ৪৭৩ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ৭৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ২০৮ পয়েন্ট। একইভাবে নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই৩০ ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ বা ৬৮১ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৭৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১১ হাজার ৪৪০ পয়েন্ট।

সিএসইতে চার কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ৬৫ কোটি ১২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৯২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৩৭টির, কমেছে ২৪৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল আটটির।