শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০| ৮ফাল্গুন১৪২৬

বিশেষ সংখ্যা

এমএফএস সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে

. সালেহউদ্দিন আহমেদ

পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যথাক্রমে এসএসসি এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স পাস করেন এবং ১৯৬৯ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে একই বিষয়ে এমএ পাস করেন। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে কানাডার হ্যামিল্টন শহরে অবস্থিত ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিরডাপ- গবেষণাপ্রধান হিসেবে কাজ করেন।

কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) মহাপরিচালক এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ক্ষুদ্রঋণের জন্য অর্থসহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। সেখান থেকে তিনি ২০০৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালের এপ্রিলে তাঁর কার্যকাল সমাপ্ত করেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন এবং বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে তিনি কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা

বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) কেমন দেখছেন?

মোটা দাগে আমি মনে করি, সার্বিকভাবে এমএফএস সুফলপ্রদায়ী কাজ করছে। এটি জনসাধারণের মনে একটা উত্সাহেরও সৃষ্টি করেছে। লোকজন এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহারও করছে। সেদিক থেকে এটিকে একটি ইতিবাচক অন্তর্ভুক্তি (পজিটিভ ইনক্লুশন) বলতে পারি। এবং এটি সার্বিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি একটি দিক। দ্বিতীয়ত, এমএফএসে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এটিও ভালো লক্ষণ। সনাতন পদ্ধতিতে আর্থিক সেবা দেয়ার যুগ শেষ। বারবারই বলি, ফিন্যান্সিয়াল প্রডাক্ট এবং সেটি পৌঁছানোর প্রক্রিয়া দুটোই দরকার। এদিক থেকে এমএফএস ভালো কাজ করেছে। তারা একটি প্রডাক্ট নিয়ে এসেছে এবং এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি হলো, আধুনিক ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি। কাজেই সেটি খুব তাত্পর্যপূর্ণ।

তৃতীয়ত, দ্রুত অর্থ পৌঁছানোর কাজটি ব্যাংক সহজেই করতে পারেনি, পারে না। কারণ শাখা অনেক কম। এজেন্ট ব্যাংকিংয়েরও নানা সীমাবদ্ধতা আছে। এজেন্ট ব্যাংকিং আবার আইটিভিত্তিকও নয়। এমএফএসে ব্যাংকের কাজের একটা সম্প্রসারণ ঘটেছে। সুতরাং নিমেষেই মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে যাচ্ছে।

 

এমএফএসের যাত্রার গল্পটা বলবেন কি?

এমএফএস ২০১০ সালে শুরু হয়েছে; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর। এর ব্যাকগ্রাউন্ড ২০০৮-০৯ সালে আমি থাকতেই করা হয়েছিল। আমরা চিন্তা করেছিলাম, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে যাতে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া যায়। এখনো ব্যাংকগুলোয় ২০ শতাংশ মানুষ প্রকৃত ব্যাংকিং সেবার ভেতরে নেই। বাকিরা ব্যাংকিংয়ের বাইরে। অতএব সত্যিকার ব্যাংকিংয়ে যেতে হবে এমন নয়, যাতে অত্যাবশ্যকীয় আর্থিক সেবাগুলো সাধারণ মানুষ পায়, তার পথ রচনার চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল। তখনই আমরা এমএফএসের রুলস-রেগুলেশন একটা করে আসছিলাম। সেখানে অবশ্য খুঁটিনাটি অনেক কিছুই আমরা দেখেছিলাম। পয়েন্ট অব সেলস কোনটা হবে, অপারেটরের ভূমিকা কী হবেএসব বিষয়। আরেকটি বিষয়, আমাদের মূলনীতি ছিল; এটি হবে একটি ব্যাংকচালিত মডেল (ব্যাংক-লেড মডেল) টেলিকম লেড মডেলে আমরা যেতে চাইনি। অনেকে তদবির করেছে। কিন্তু তাতে আমরা সাড়া দিইনি। সেদিক থেকে কিছুটা সফল হয়েছি আমরা। এখন এমএফএস একটি ব্যাংকলেড মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমরা ভেবেছিলাম, টেলিকম কোম্পানিকে এমএফএস দিয়ে দিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। কারণ তাদের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃত্ব নেই।

আমাদের প্রণীত গাইডলাইনে যে ডেলিভারি করবে, তার কী ভূমিকা থাকবে, যে প্যারেন্ট থাকবে তার কী ভূমিকা হবে, ফি কত হবেসব স্পষ্টভাবে বলে দেয়া ছিল। যাহোক, বর্তমানে নতুন বিস্তারিত গাইডলাইনে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এমএফএস চালু হয়েছে এবং এটি বেশ বিস্তার লাভ করেছে।

 

এমএফএসের চ্যালেঞ্জগুলো কী?

এমএফএসের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কতগুলো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। প্রথমত, নিয়ন্ত্রণমূলক (রেগুলেটরি) চ্যালেঞ্জ। এমএফএস সবচেয়ে আগে শুরু করেছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। তারা বেশি দূর এগোতে পারেনি। এরপর আসে বিকাশ। এখন এসেছে নগদ। এক্ষেত্রে এমএফএসের নিয়ন্ত্রক কে, সেটি অস্পষ্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন হয়তো আছে, কিন্তু তাদের হিসাব সংস্থাটি দেখছে কিনা। ফি কত চার্জ করছে, তা যুক্তিযুক্ত কিনা। এসব নিয়ে সুস্পষ্টতা নেই। গ্রাহকরা বলছে, সেবা ফি বেশি। সেবাদানকারীরা যুক্তি দিচ্ছে, আমরা সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। লোকজন খুশি। এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। রেগুলেটরি অস্পষ্টতা দূর করা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা গাইডলাইন আছে, কিন্তু পুরো নরমস এনফোর্স করতে পারছে কিনা, সেটি স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয়ত, যৌক্তিক ফি নির্ধারণ। আসলে ফি কত হওয়া দরকার, সেটি আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। যে সেবা ফি নেয়া হচ্ছে, সেটি অনেক বেশি, এটি কমিয়ে আনা জরুরি। তৃতীয়ত, সেবার একচেটিয়া বাজার। তিন-চারটি কোম্পানি বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, এটা ভালো লক্ষণ নয়। বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। মাঝখানে নগদ এসেছে। এটি তো সরকারি। সেবা কতদিন চলবে, তা নিয়ে দোলাচল রয়েছে। চতুর্থত, অর্থের দায় নিয়ে অনিশ্চয়তা। অর্থ মার গেলে বা খোয়ালে এখন হয়তো প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে। কিন্তু অব্যাহত জালিয়াতি ঘটলে কীভাবে অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে বা অর্থের দায় কে নেবে, সেটি স্পষ্ট নয়। এটি স্পষ্ট করা জরুরি। পঞ্চমত, এমএফএসে ব্যবহূত প্রযুক্তির নিরাপত্তা। এমএফএসের বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবহূত প্রযুক্তিগুলো কতটুকু নিরাপদ, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রযুক্তিগুলো পেটেন্টেড কিনা, তা- জানা নেই। নিয়মিত বিরতিতে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটছে। কাজেই প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিতও খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমার মনে হয়, এমএফএস কোম্পানিগুলো আইটি খাতে যে খুব বেশি বিনিয়োগ করেছে তা নয়। সেবার চাহিদা আছে, সেটিকে পুঁজি করে কোম্পানিগুলো কোনো রকম চালিয়ে নিচ্ছে।

আরেকটি বিষয়, সন্দেহজনক লেনদেন। বিভিন্ন স্তর বা হাত ঘুরে লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ব্যাংকের ক্ষেত্রে অর্থ কীভাবে যাচ্ছে, কার কাছে যাচ্ছে, সেটি সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব। কিন্তু এমএফএসের ক্ষেত্রে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। দৈনিক ৩০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন করা যাবে না মর্মে সীমা বেঁধে দেয়া আছে বটে, স্তর অনুযায়ী চূড়ান্ত গ্রাহক পর্যন্ত লেনদেন চিহ্নিত করা সহজ নয়। একজনের অর্থ আরেকজনের কাছে চলে যায়। এগুলো সম্পর্কে যে স্টেকহোল্ডাররা জানবে, তারও কোনো উপায় নেই। কাজেই এখন সময় এসেছে পুরো রেগুলেটরি ইস্যু, সিকিউরিটি ইস্যু, অর্থ তছরুপ বা অপব্যবহার হলে কে দায় নেবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার; এক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে করণীয় কী?

রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি কোম্পানি সবার জন্য একই নিয়ম আর্থিক শৃঙ্খলায় আসতে হবে। অতএব নগদের জন্য সীমা যে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সেটি যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে। কেন হঠাত্ করে বাড়াল? তাদের প্রক্রিয়া বা জবাবদিহিতা কী এমন ভালো। এটা চ্যালেঞ্জ করার ব্যাপার আছে। আবার একজনের দোহাই দিয়ে অন্যদের সীমা যেন বাড়ানো না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এসব আর্থিক লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি থাকতে হবে। যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃত্বে আনতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন করবে শেয়ার, বন্ডের লেনদের আর যত রকম মানি মার্কেট বা ফরেন এক্সচেঞ্জ বিনিময় আছে, সবই বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে হবে। নিয়ম-কানুনগুলো কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। না হলে বিষয়টি ঠিক হবে না। কিছুদিন পর হয়তো দেখা যাবে বিরাট একটি কোম্পানি সরকারের হলো, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মতো অবস্থা হবে, লোকসান হবে এবং লোকজন টাকা-পয়সা হারাবে।

এখানে সরকার যেটা করতে পারে, সেটি হলো ট্রাফিক জরিমানা, উপযোগ বিল এবং ইন্টারনেটের বিলের মতো সেবাগুলো সহজেই এমএফএসের সঙ্গে সম্পন্ন করা। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সরকার অতটা ঢুকতে পারবে না। তারা নিজেদের পছন্দসই এমএফএস কোম্পানি বা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করবে। কিন্তু সরকারি উপযোগগুলোর (গ্যাস, ট্রাফিক জরিমানা বিদ্যুত্ বিল) বিল পরিশোধ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এজন্য সরকার টেন্ডার আহ্বান করবে, তোমরা কী কী সেবা দেবে, সার্ভিসের মান কেমন, তাদের লোকবল কত, সফটওয়্যার কী, তাদের সক্ষমতা-সামর্থ্য কত, সেটিও দেখতে হবে। যাকে কাজটা দেয়া হবে, সে (কোম্পানি) সাব-কন্ট্রাক্ট করে আরেকজনকে দিল। এমনটি যেন না হয়।

 

এমএফএসের শর্ত ভঙ্গ করলেও অনেক সময় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমাবদ্ধতা হলো, প্রথমত সংস্থাটি তার নিজস্ব নৈমিত্তিক কাজগুলো নিয়েই যথেষ্ট ব্যস্ত থাকে। আর্থিক খাতই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এবং সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সেক্ষেত্রে এমএফএস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কিনা, এটা একটা কারণ হতে পারে। তবে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। দরকার হলে একটি নতুন বিভাগ খুলে বিশেষায়িত লোক নিয়োগ করে কাজ করতে হবে। সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দিতে হবে। এমন নয় যে একবারে অনেক কিছু করতে হবে। তারা প্রথমে যেটি করবে, সেটি হলো একটি সময়োচিত নীতিমালা করবে এবং এটি বহুল প্রচারিত হতে হবে। একই সঙ্গে এটি মনিটর মূল্যায়নের জন্য কিছু লোক থাকবে। কম্পিউটারাইজ করলে সহজে মনিটর করা যায়। কাজেই ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের এগিয়ে আসতে হবে।

 

অনেক ব্যাংক এমএফএস ব্যবহার করে আমানত সংগ্রহ, ডিপিএস সংগ্রহ প্রভৃতি কাজ করছে। মূল ব্যাংকিংয়ের বাইরে গিয়ে কাজ করছে, সেটি কীভাবে দেখেন?

এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংককে এখানে পদক্ষেপ নিতে হবে। এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের জন্য এখন যেমন ধীরে ধীরে নীতি শৃঙ্খলা চালু করা হচ্ছে। ঋণের ক্ষেত্রে কত শতাংশ সুদ নিতে পারবে, সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কত সুদ দিতে পারবে প্রভৃতি। অতএব এমএফএসের জন্যও ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

অনেকে এমএফএস নাম না দিয়ে ভিন্ন নামে আসছে। সবই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম। শুধু নামটি ভিন্ন। এটা কীভাবে দেখেন?

সবই প্রডাক্ট। এটি যদি মূল কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে এটি বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটর করবে। কিংবা মূল কাঠামোর বাইরে থাকলে বা অন্য কোনো সাবসিডিয়ারি করলেও সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। যেমন শেয়ারবাজারে শেয়ার ট্রানজেকশনগুলো ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলো করে। ভিন্ন নাম দিয়ে করলেও যদি তারা তাদের ব্যাংকের মূল কাঠামোয় করে এবং তারা যদি টাকাটা ব্যাংকে ব্যবহার করে কিংবা ব্যাংকের টাকা অন্য কাজে ব্যবহার করে, তবে বিষয়গুলো ভালোভাবে মনিটর করতে হবে। এমএফএসের টাকা দিয়ে ঋণ দেয়া হলো, আবার অনেক সময় ঋণের টাকা এমএফএসে দেয়া হলো, সেটি করা যাবে না। যদি করে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাপারে একটা গাইডলাইন দিতে হবে। গাইডলাইন দেয়ার পর নিয়মিত মনিটরও করতে হবে।

 

টেলিকম কোম্পানিগুলো এমএফএসে আসতে চাইছে, সে ব্যাপারে আপনার মত কী?

টেলিকম কোম্পানির ব্যাপারে আমি এখনো ওপেন নই। আমি মনে করি না, ধরনের কোম্পানিগুলো টাকা-পয়সার লেনদেনে যাক। তাদের কাজই হলো গ্রাহকের টেলিযোগাযোগের সেবা দেয়া। মোবাইল ফোনটা ব্যাংকিং সেবায় ব্যবহার হতে পারে। কিন্তু সেটি করবে ব্যাংকের আওতায় দায়িত্বে। আমি মনে করি, এমএফএস ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হবে, অপারেটর কেবল পাইপলাইনের মতো মধ্যস্থতার কাজ করবে।

 

এমএফএস এগিয়ে নিতে আপনার পরামর্শ কী?

এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, এমএফএসের যে প্রক্রিয়াগুলো আছে, সেগুলো কীভাবে কাজ করছে, তা মনিটর করা। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে করা উচিত। দুই, তাদের সেবা ফি আরেকটু কমানো উচিত। তিন, তাদের টাকা যেন খোয়া এবং তছরুপ না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে এবং সবশেষে টাকার ডেস্টিনেশন এবং যে পাঠাচ্ছেন, ব্যাপারে কেওয়াইসি করতে হবে। ভবিষ্যতে এমএফএস এগিয়ে নিতে এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

 

শ্রুতলিখন: হুমায়ুন কবির