সিল্করুট

ঐতিহাসিক ভাষ্যে হরিকেল

ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম

হরিকেলের রৌপ্যমুদ্রা ছবি: নিউমিস্টা

প্রাচীন বাংলার শক্তিশালী ও সমৃদ্ধিশালী জনপদ হরিকেল। কিন্তু এর পরিচয় কোথাও হরিকেল, কোথাও হরিকেলি, আবার কোথাও হরিকেলা নামে অভিহিত করা হয়েছে। প্রাচীন হরিকেল রাজ্য বা জনপদের সমগ্র রূপটি এখনো ইতিহাসের আলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ভাসিত নয়। ইতিহাসবেত্তারা হরিকেলকে প্রাচীন বাংলার শ্রীহট্ট (আধুনা সিলেট) চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলা নিয়ে গঠিত একটি ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক অঞ্চলকে বলে থাকেন। ধারণা করা হয় প্রাচীন যুগের শ্রীহট্ট এবং চট্টগ্রাম ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে আরাকান পর্যন্ত এর সীমারেখা প্রসারিত ছিল। হরিকেল রাজ্যের সীমানা সম্পর্কে প্রাচীন গ্রন্থগুলোয় নানা পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেলেও বোঝা যায় যে মূলত প্রাচীন বাংলার পূর্ব সীমান্তে এ অঞ্চলের অবস্থিতি ছিল।

হরিকেল জনপদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারা যায় শশাঙ্ক-পরবর্তী যুগে। কারণ এ সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিল ভদ্র বংশ, খড়গ বংশ, সামন্ত লোকনাথ, রাথ বংশ, দেবরাজ বংশ (শান্তিদেবের বংশ, কান্তি দেব) পুরুষোত্তমের বংশ, হরিকাল রণবঙ্কমল্লের বংশ, ভাস্কর বংশ, চন্দ্র রাজবংশ ও বর্ম রাজবংশ। এসব রাজবংশের শাসকরা হরিকেল রাজ্যে শাসন করতেন। বেশির ভাগ গবেষক বলতে চেয়েছেন শশাঙ্ক মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে হরিকেল রাজ্য শ্রীহট্টের সঙ্গে একীভূত হয়ে হরিকেল নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ চৌধুরী এ কথা জোর দিয়ে বলেছেন ‘হরিকেল’ যে প্রাচীন শ্রীহট্টের অন্য একটি নাম তা সর্ববাদিসম্মত, যদিও হরিকেল রাজ্যের বিস্তার সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। (জ্যোতিরিন্দ্রনাথ চৌধুরী, প্রাচীন শ্রীহট্টের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে ভিষগাচার্য চক্রপাণি দত্ত, পৃ. ১০৩) ইতিহাসবিদ ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার এ মত সমর্থন করেছেন। মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপি রূপচিন্তামণি অভিধান, কল্পদ্রুতকোষ ও লিঙ্গপুরাণের শ্লোক থেকে তারা এরূপ সিদ্ধান্ত নেন যে প্রাচীন হরিকেল হলো শ্রীহট্টদেশ।

ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় তার বাঙ্গালীর ইতিহাস আদিপর্বে হরিকেল রাজ্যের যে বিবরণ দিয়েছেন তাতে উপরোক্ত মতগুলোকে সমর্থন করা যায় না। তিনি খ্রিস্ট্রীয় নবম-দশম শতাব্দীতে রচিত বৌদ্ধ গ্রন্থ আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প থেকে দেখিয়েছেন হরিকেল বঙ্গ সমতট তিনটি স্বতন্ত্র ও প্রতিবেশী জনপদ। তার মতে, ‘এই হরিকেল রাজ্য সপ্তম-অষ্টম শতক হইতে দশম-একাদশ শতক পর্যন্ত বঙ্গ এবং সমতটের সংলগ্ন কিন্তু স্বতন্ত্র রাজ্য ছিল।’ হরিকেল যে কখনো কখনো বঙ্গ জনপদকে উতরে গেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দীর অভিধান রচয়িতা হেমচন্দ্রের অভিধান চিন্তামণিতে। এর ৯৫৭ নং শ্লোকে বলা হয়েছে বঙ্গাস্তু হরিকেলীয়: অর্থাৎ বঙ্গকেই হরিকেলরূপে বর্ণনা করেছেন। বস্তুত একাদশ শতাব্দীর বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে হরিকেলের অবস্থান সুস্পষ্ট করা হয়েছে। অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা, ডাকার্ণবে বঙ্গ জনপদের বিভিন্ন অংশে পূজিত বেশসংখ্যক মহাযান বৌদ্ধ দেবতাদের সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। যেখানে ‘হরিকেলের লোকনাথ’-এর বর্ণনা আছে। বাংলায় বৌদ্ধ তন্ত্রের ৬৪টি পবিত্র স্থান বা পীঠস্থানের একটি তালিকায় হরিকেলও অন্তর্ভুক্ত। তাই স্পষ্টতই দেখা যায়, হরিকেল তখন পর্যন্ত বঙ্গে বেশ পরিচিত ও বিখ্যাত ছিল।

ঐতিহাসিক দীনেশচন্দ্র সরকার যে অভিমত প্রদান করেছেন, ‘অভিধানের সাক্ষ্য থেকে মনে হয়, মূলত হরিকেল শ্রীহট্টের নাম ছিল।’ তিনি আরো বলছেন, ত্রৈলোক্যচন্দ্র পাল সম্রাটের বিরুদ্ধে শ্রীহট্ট রাজ্যের সঙ্গে মিত্রতাবদ্ধ হন। কিন্তু ত্রৈলোক্যচন্দ্র যখন সমতটে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তখন গৌড়ে কম্বোজ পাল রাজারা রাজত্ব করছিলেন। সুতরাং ত্রৈলোক্যচন্দ্র কম্বোজ পাল রাজাদের বিরুদ্ধে শ্রীহট্ট রাজ্যের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেছিলেন। শ্রীহট্টের নাম যে হরিকেল ঐতিহাসিক দীনেশচন্দ্র সরকারের এ মত সমর্থনযোগ্য নয়। সমতটের চন্দ্র রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ত্রৈলোক্যচন্দ্র ছিলেন হরিকেল রাজার আধার। চন্দ্র রাজবংশের পূর্বপুরুষরা যেমন পূর্ণচন্দ্র, সুবর্ণচন্দ্র সামন্ত বা ভূস্বামী ছিলেন। যতটুকু জানা যায় তারা ‘রোহিতাগিরি’র ভূস্বামী ছিলেন। রোহিতাগিরি কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে। যা-ই হোক, ত্রৈলোক্যচন্দ্রই ছিলেন চন্দ্র বংশের প্রথম রাজা। লড়হচন্দ্রের তাম্রশাসনে ত্রৈলোক্যচন্দ্রকে চন্দ্র বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার গুণাবলির উল্লেখে পরিশুদ্ধিমান (পরিশুদ্ধ), পুণ্যতম (সবচেয়ে পুণ্যবান), অপগতত্রাস (নির্ভীক) ও জগতের প্রীতির পাত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ত্রৈলোক্যচন্দ্রকে বড় রাজাদের আনন্দময় আশ্রয়স্থল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় জানাচ্ছেন, সপ্তম-অষ্টম থেকে দশম-একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বঙ্গ (চন্দ্রদ্বীপ ও বঙ্গ) ও সমতটের সংলগ্ন, কিন্তু স্বতন্ত্র রাজ্য ছিল হরিকেল। ত্রৈলোক্যচন্দ্রের চন্দ্রদ্বীপ অধিকারের পর থেকে বঙ্গের অংশ বলে গণ্য হতে থাকে হরিকেল।

হরিকেল রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্ব ছিল এর বন্দর। সম্ভবত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর হলো হরিকেল রাজ্যের সমুদ্রবন্দর। এ সমুদ্রবন্দর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার বাণিজ্য ক্রমান্বয়ে উন্নতি লাভ করতে থাকে। উল্লেখ্য, অষ্টম শতাব্দীর গোড়ার দিকে তাম্রলিপ্ত বন্দরের পতন ঘটে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর একদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এবং আরব বণিকদের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে হরিকেল রাজ্যে চট্টগ্রাম বন্দর যে গুরুত্ব পেয়েছিল তার প্রমাণ মেলে হরিকেলের প্রাপ্ত বিভিন্ন রৌপ্য মুদ্রা। ১৯৭৬ সালে বিএন মুখার্জি হরিকেলের মুদ্রার পাঠ পুনরুদ্ধার করেন। পরবর্তী গুপ্তযুগের পর হরিকেল জনপদই পুনরায় রৌপ্য মুদ্রা সংযোজন করে। প্রাচীন হরিকেল রাজ্যের মুদ্রাগুলো ইতিহাস পুনর্গঠনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পরবর্তী গুপ্তযুগের পর বাংলার হরিকেল অঞ্চল থেকে যে রূপার মুদ্রাগুলো উৎকীর্ণ করা হতো। এগুলোর গুণ ও মান ছিল খুবই উন্নত মানের। হরিকেলের রূপার মুদ্রাগুলো ৯৫ দশমিক ১৩ ভাগই বিশুদ্ধ। ধারণা করা হয়, হরিকেলের বণিকরা বর্তমানের থাইল্যান্ডের নানচাও ও মিয়ানমারের শান প্রদেশের বডউইন খনি থেকে উত্তোলিত রৌপ্য আমদানি করতেন। পরে এগুলো হাতুড়ির সাহায্যে পেটাই করে মুদ্রার নির্দিষ্ট চাকতিতে পরিণত করা হয়। সবশেষে ডাইয়ের সাহায্যে হরিকেল মুদ্রার নকশা অঙ্কিত করে বাজারে দেয়া হতো।

হরিকেল মুদ্রায় প্রধানত বৃষের মূর্তি রয়েছে। এটি কখনো ডানদিকে আবার কখনো বামদিকে মুখ করানো। অন্যদিকে ত্রিশূল রয়েছে। মুদ্রায় কখনো হরিকেল আবার কখনো সংক্ষেপে হরি শব্দটি ব্রাহ্মী ভাষায় সংযোজিত। মুদ্রার মুখ্যদিকে অর্ধশায়িত বৃষের মূর্তি রয়েছে। বৃষের গলায় কখনো কখনো ঘণ্টা বা ঘুঙুরের ব্যবহারও দেখা যায়। গৌণ দিকে ত্রিশূল আকৃতি চিহ্ন রয়েছে। বাইরে রয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায় মালা। মুখ্য ও গৌণ উভয় দিকেই চিত্রের বাইরে বিন্দুমণ্ডলের মার্জিন রয়েছে। মুখ্যদিকে রয়েছে ব্রাহ্মী হরফে ‘হরিকেল’ লিপি। ক্ষুদ্র মুদ্রাগুলোয় শুধু ‘হরি’ লিখিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের বেশকিছু মুদ্রায় পরিষ্কারভাবেই ‘হরিকেল’ লিখিত। আবার কখনো ‘বেরক’ (মতান্তরে ‘হরিকে’) লিখিত হয়েছে।

যদিও এরই আগে হরিকেলের মুদ্রায় ব্যবহৃত ওই লিপি বিভিন্ন মুদ্রাবিশেষজ্ঞরা বিভিন্নভাবে পাঠ করেছিলেন। এসব পাঠে ‘য়ারিকৃয়্য, হরিকোট, পটিকের‌য়, পরিকের, পট্টিকেড়’ ইত্যাদি বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু ওইসব পাঠ বাতিল করেন অধ্যাক ব্রতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ১৯৭৬ সালে ব্রতীন্দ্রনাথ মুখার্জি এ ধারণা দেন আরাকান রাজ আনন্দচন্দ্রের আরাকানের ম্রোহাউঙ্গে অবস্থিত শিটাহুং প্যাগোডার স্তম্ভলিপির অনুকরণে এ লিপিমালার পাঠ হরিকেল এবং তিনি সেটা প্রমাণ করেছেন।

প্রাচীন বাংলায় অত্যন্ত ক্ষমতাশালী পাল ও সেন রাজাদের কোনো মুদ্রা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অথচ হরিকেলের প্রাপ্ত মুদ্রাগুলো রীতিমতো বিস্ময়কর! খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে একটি অসম্পূর্ণ লিপি পাওয়া গেছে। হরিকেল সম্পর্কে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল। এটি হরিকেল রাজা কান্তিদেবের। যার উপাধি ছিল এতে পরিষ্কার বলা আছে, মহারাজাধিরাজ কান্তিদেব হরিকেলের শাসক ছিলেন।

প্রাচীন ও মধ্যযুগে হরিকেলের অর্থনীতি একে বিখ্যাত রাজ্যে পরিণত করেছিল। ভারতের অন্যান্য অংশে এর বহুল পরিচিত ছিল। হরিকেলে প্রাপ্ত রৌপ্য মুদ্রার ব্যবহার রাজ্যের সম্প্রসারণ যেমন করেছিল, এর সমৃদ্ধি হরিকেলবাসীদের সুখ্যাতি এনে দিয়েছিল। ‘হরিকেলীয়’ এ পরিচয় ছিল বাংলার বাইরেও। নবম শতাব্দীতে রচিত রাজশেখরের ‘কর্পূরমঞ্জরী’ গ্রন্থে হরিকেল জনপদের নারীদের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে ‘তারা রাঢ় ও কামরূপের নারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর এবং তারা পূর্বদেশবাসিনী।’ দ্বাদশ শতাব্দীর গুজরাটি কোষগ্রন্থের রচয়িতা হেমচন্দ্র হরিকেলের প্রশংসায় বলেছেন বঙ্গস্তু হরিকেলিয়া। দাক্ষিণাত্যের চোল রাজাদের লিপিতেও আমরা হরিকেলের উল্লেখ পাই। হরিকেলের সমৃদ্ধ অর্থনীতি এবং এর বণিকদের ক্ষমতা দিন দিন বেড়েছে। সেন শাসনামলে প্রণীত বল্লাল চরিত গ্রন্থে তার উল্লেখ পাওয়া যায়। বল্লাল চরিতের দ্বিতীয় ভাগে পাওয়া যায় ‘যদি স্যান্ন পতির্দ্দদ্যাৎ করা দান সমদ্বিতম্। আধিত্বে হরিকেলীয়ং ঋণং দাতুং তদোৎসহে।’ ঘটনাটা এ রকম। ওদন্তপুরের রাজাকে পরাজয় করার জন্য সেন রাজা বল্লাল সেন ওই সময়ের সবচেয়ে ধনবান ব্যবসায়ী বল্লভানন্দের নিকট অর্থ ধার চেয়েছিলেন। রাজা বল্লাল সেনের আদেশ ছিল ‘ষড়ঙ্গ বল বিশিষ্ট বিপুল সেনাদলসহ কীকট দেশাভিমুখে আমাদের যুদ্ধযাত্রা করা নিতান্ত আবশ্যক হইয়াছে; অতএব তুমি বল্লভানন্দ, ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করিয়া, আমার আদেশ দৃষ্টে সার্ধ কোটি স্বর্ণমুদ্রা আমাকে পাঠাইয়া দিবে।’ উত্তরে বল্লভানন্দ জানিয়েছিল, ‘আমি তৃণতূল্য সামান্য লোক। এই যুদ্ধ উপলক্ষে আমিও উত্ত্যক্ত হইতেছি। আমার পক্ষে প্রকৃত কথা বলাই ভাল। মহারজ যদি তাহার অধিকারভুক্ত হরিকেলি নামক স্থানটি আধিস্বরূপে (জামিন) এই সর্ত্তে লিখিয়া পড়িয়া দেন যে যতদিন না আমার প্রাপ্য টাকা পরিশোধ হয় ততদিন আমিও তাহার কর আদায় করিয়া লইব, তাহা হইলে আমি তাহাকে টাকা দিতে পারি।’ বল্লাল চরিতের রাজা বল্লাল সেন এবং বণিক বল্লভানন্দ এর কথোপকথন থেকে জানা যায় সেন শাসনামলেও হরিকেল রাজ্য একটি সমৃদ্ধিশালী জনপদ ছিল।

হরিকেল জনপদ ও এর ভৌগোলিক পরিসীমা নিয়ে খুব একটা গবেষণা হয়নি। মধ্যযুগের বাংলার শহর বন্দর নিয়ে গবেষণা করেছেন অনিরুদ্ধ রায়। তিনি মনে করেন, ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর হরিকেলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুদীপ্ত পাল হরিকেল কয়েনেজ এ ন্যুসমাটিক জার্নি শীর্ষক বক্তৃতায় একই রকমের অভিমত তুলে ধরেছেন। তার মতে, হরিকেল রাজ্যের গৌরব টিকে ছিল ষষ্ঠ-দশম শতাব্দী পর্যন্ত। গবেষক সুদীপ্ত পাল হরিকেল মুদ্রার গবেষণা পাঠে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে হরিকেল রাজ্যের সীমারেখা কুমিল্লা, ত্রিপুরা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও আরাকান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় এত বড় এবং সমৃদ্ধিশালী জনপদ নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি বললেই চলে।

ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম: অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়