সিল্করুট

ফরিদপুরের প্রাকৃতিক বিবরণ

আনন্দনাথ রায়

[১৩১৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত আনন্দনাথ রায়েরফরিদপুরের ইতিহাসগ্রন্থটি অঞ্চলের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। জমিদার পরিবারের সন্তান আনন্দনাথ (১২৬২-১৩৪০ বঙ্গাব্দ) ছিলেন পড়ুয়া মানুষ। তত্কালের ইতিহাসবিদ রজনীকান্ত গুপ্ত, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, কালীপ্রসন্ন বন্দোপাধ্যায়সহ অনেক বিদগ্ধ মানুষের সঙ্গে আনন্দনাথের যোগাযোগ ছিল। বর্তমান রচনাটিফরিদপুরের ইতিহাসগ্রন্থ থেকে সংকলিত]

তিনটি জেলার আংশিক সমবায়ে ফরিদপুর জেলার পূর্ণ বিকাশ। তন্মধ্যে ১ম ঢাকা, ২য় যশোহর, ৩য় বাকরগঞ্জ। প্রাচীনত্ব হিসাবে ঢাকার অংশই শ্রেষ্ঠ; অতএব উহার বিবরণই প্রথম উল্লেখ করা কর্তব্য। ঢাকা জেলা হইতে যে সকল স্থান বিচ্ছিন্ন হইয়া ফরিদপুরান্তর্গত হইয়াছে, তন্মধ্যে বিক্রমপুরের দক্ষিণাংশ অতি প্রাচীন স্থান। এতৎসম্বন্ধে জানা যায় যে, ভূভাগ পূর্বে সমতট বঙ্গের অন্তর্গত ছিল; পরে রাজা বিক্রমাদিত্য কতককাল ঢাকার দক্ষিণাংশে অবস্থান করায় অংশ বিক্রমপুর আখ্যা প্রাপ্ত হয়।১ কেহ কেহ বলেন যে বিক্রমশালী সেন রাজগণই তাহাদের প্রিয় নিকেতনটিকেবিক্রমপুরনাম প্রদান করেন। যাহা হউকবিক্রমপুরনাম যত দিবসেরই হউক না কেন, সমতট বঙ্গের অন্তর্গত থাকায় উহা যে খ্রিস্টীয় অব্দারম্ভের পূর্বেই স্থলভাগে পরিণত হইয়াছিল, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই।

অতঃপর যশোহর হইতে যে ভূভাগ বিচ্ছিন্ন হইয়া ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে, তাহাও কম প্রাচীন নয়। ভূষণা ফতেয়াবাদের বিবরণ আমরা মোগল রাজত্বের পূর্ব হইতেই প্রাপ্ত হই। আকবরনামা আইন--আকবরীতে ফতেয়াবাদের নাম উল্লেখ আছে।২ তবে ভূভাগ কত কালের, তাহা স্পষ্ট অনুমান করা যায় না। কোটালিপাড়ার অন্তর্গত পিঞ্জরী এবং ইদিলপুরের অন্তর্গত সামন্তসার গ্রামের পরিচয় সেনরাজগণের সময় প্রাপ্ত হওয়া যায়। ইহাতে অনুমান হয় যে, ফতেয়াবাদ বিভাগ তন্নিকটস্থ কতক স্থান অন্তত সহস্র বৎসর পূর্বে নিশ্চয় স্থল ভাগে পরিণত হইয়াছিল।

সমতট বঙ্গের নিম্ন দিয়া পূর্বে সাগর-স্রোত প্রবাহিত হইত, ক্রমে চড়া পড়িয়া উহা বহু শত ক্রোশ পর্যন্ত ভূভাগরূপে পরিণত হইয়াছে। কিন্তু সম্যকরূপে উহার জল নিঃসরণ না হওয়ায়, কোথাওবা হ্রদাকারে পরিণত হইয়া রহিয়াছে। সকল হ্রদ সাধারণতঃবিলনামে অভিহিত। এইরূপ বহু বিলের সমষ্টিতে ফতেয়াবাদ বিভাগের সৃষ্টি হইয়াছে। আড়িয়লখাঁ নদীর পশ্চিমপ্রান্ত হইতে মধুমতী নদীর পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো স্থানে খাল বা পুষ্করিণী খনন করা যায়, সেই স্থানের মৃত্তিকার কিছু নিম্নেই একটা কাল স্তর দৃষ্ট হইয়া থাকে। ভীট দাম পচিয়া যেরূপ মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়, উহা সাধারণতঃ ঠিক তদনুরূপ। এজন্য বোধ হয়, বিস্তৃত বিলের উপর যে সকল ভীট দাম ছিল, কালক্রমে উহাই পচিয়া এইরূপে মৃত্তিকা রাশির সৃষ্টি হইয়াছে এবং উহাতে ক্রমে স্থলভাগের উদ্ভব হইয়া থাকিবে। এইরূপ বহু বিলের বিলয়ে ফতেয়াবাদ বিভাগের সৃষ্টি হইয়াছে। ফতেয়াবাদের অধিকাংশ অধুনা ফরিদপুর বিভাগের অন্তর্গত। বোধ হয়, ফরিদপুর পূর্বে এই ফতেয়াবাদের অন্তর্গত ছিল।

প্রবাদ আছে, পূর্বে এই স্থান বহু জলা জঙ্গলে পরিপূর্ণ থাকায়, কেহই আবাদ করিয়া উঠিতে পারে নাই। পরে ফতে আলি নামে এক মুসলমান বহু আয়াসে, এই স্থানে মনুষ্য বাসোপযোগী করিয়া উঠাইলে, উহার নাম হয়, ফতেয়াবাদ।

পরে বাকরগঞ্জ জেলা হইতে যে স্থানগুলি খারিজ হইয়া ফরিদপুরের অন্তর্গত হইয়াছে, উহার ঐতিহাসিক তত্ত্বও ঐরূপ। কারণ, বাকরগঞ্জের অধিকাংশ স্থান পূর্বে সাগরজলে নিমজ্জিত ছিল, পরে ব্রহ্মপুত্র গঙ্গা কর্তৃক উচ্চ ভূপৃষ্ঠ হইতে পঙ্কিল মৃত্তিকা প্রস্তররাশি বিধৌত হইয়া শ্রোতোবেগে যে স্থানে আসিয়া কতকটা স্থির হইয়া থাকিতে পারিয়াছে, তথায়ই চড়া বা দ্বীপবৎ স্থানের সৃষ্টি হইয়া পড়িয়াছে। বাংলারদ্বীপ’ ‘ডাঙ্গা’ ‘কুলপ্রভৃতি যে সকল স্থানের সহিত সংযোগে দেখা যায়, তাহাদের উদ্ভব, প্রায়ই এইরূপ উপায়ে, সংঘটিত হইয়াছে।

আবার ভূকম্প বা অত্যধিক জলপ্লাবন দ্বারাও অনেকরূপ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটিয়াছে। উহাতে কোনো স্থানের অধঃপতন কোনো স্থানের উন্নয়ন ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়াছে। ভাগীরথী পদ্মার মধ্যবর্তীদ্বীপবৎ ভূভাগে নদীর বিপর্যয়ে সময় সময় নানারূপ পরিবর্তন ঘটিয়া থাকে। সমুদ্রোপকূলেই সাধারণতঃ ঘন ঘন পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গের নিকট মহাসমুদ্র থাকায় অনেক বড় নদী উহার বক্ষ ভেদ করিয়া প্রবাহিত হইতেছে। এজন্য বন্যাদি দ্বারা সমুদ্রজল-বৃদ্ধির সহিত নদীর গতি পরিবর্তন সহকারে ভূ-ভাগের বিপর্যয় প্রত্যেক শতাব্দীতে কিছু না কিছু অবশ্যই হইয়া থাকে। পদ্মার তীরস্থ স্থানগুলির প্রতি দৃষ্টি করিলেই ইহা পরিলক্ষিত হয়। চাঁদ রায় কেদার রায় যখন বিক্রমপুর শাসন করিতেন, তখন উহা কতকগুলি দ্বীপসমষ্টি ছিল মাত্র৪। কোনো বৃহৎ নদী বিক্রমপুরের মধ্যে ছিল না, এখন কিন্তু তাহার সম্পূর্ণ বিপরীত দৃষ্ট হইয়া থাকে। আমরা এস্থলে নদীর গতির পরিবর্তন সম্বন্ধে বিশেষ বিবরণ প্রদান করিলাম।

প্রবাদ অনুসারে জানা যায়, পদ্মা নদী ফরিদপুরের ২৫ মাইল উত্তরেসেলিমপুরগ্রামের দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হইয়া কানাইপুরের নিকট দিয়া পূর্বমুখে প্রবাহিত হইত। পরে ফরিদপুরের নিম্নস্থ ক্ষুদ্র স্রোতস্বতীসহ সম্মিলিত হইয়াছিল, পরিণামে ক্ষুদ্র নদীই প্রবল পদ্মারূপে পরিণত হইয়া উহার পূর্বতন প্রবল খাতটিকে মরা-পদ্মরূপে পরিচিত করিয়াছে। ৬০/৭০ বৎসর গত হইল মধুখালি বন্দরটি চন্দনা নদীর দক্ষিণ-তীরে অবস্থিত ছিল। ক্রমে নদীর গতি পরিবর্তিত হইয়া বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়া প্রবাহিত হইতে আরম্ভ হইলে, বন্দরটি আবার উঠিয়া নদীর দক্ষিণ পারে সংস্থাপিত হয়।

৪৮/৪৯ বৎসর পূর্বে বৈকুণ্ঠপুর চন্দনা নদীর উত্তর পারে অবস্থিত ছিল। কিন্তু নদীর গতি পরিবর্তন হইয়া এখন গ্রাম নদীর দক্ষিণ পার হইয়া পড়িয়াছে।

পদ্মার পরিবর্তন সর্বাপেক্ষা সমধিক সংঘটিত হইয়া থাকে। অতি পূর্বকালে, পদ্মা নদীর মোহনা ঘুরিয়া ফিরিয়া নানা স্থান অতিক্রম করতঃ মেঘনার সহিত সম্মিলিত হইয়াছিল। মিঃ রেনেল ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে পূর্ববঙ্গের যে মানচিত্র অঙ্কিত করিয়াছিলেন, তাহাতে দেখা যায়, পদ্মা বিক্রমপুরের বহু পশ্চিম দিক দিয়া প্রবাহিত হইয়া, ভুবনেশ্বর নামক একটি নদীর সহিত মিলিত হইয়া বাকরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত মেহেদিগঞ্জ থানার মধ্য দিয়া মেঘনার সহিত সম্মিলিত হইয়াছিল। এখন ভুবনেশ্বর সম্পূর্ণ স্বীয় অস্তিত্ব হারাইয়াআড়িয়লখাঁনাম ধারণ করিয়াছে। সাধারণতঃ কন্দর্পপুর মোহনাই পূর্বে পদ্মা মেঘনার সম্মিলন স্থান ছিল। তখনকীর্তিনাশাবানয়াভাঙ্গনিনামে কোনো নদীর পরিচয় ছিল না। বিক্রমপুরের অন্তর্গত রাজনগর ভদ্রেশ্বর গ্রামের মধ্যে একটা অপ্রশস্ত জলপ্রণালি বর্তমান ছিল। উহা প্রাচীন কালীগঙ্গার শেষ চিহ্ন মাত্র। শ্রীপুর, নওপাড়া, ফুলবাড়িয়া মুলফত্গঞ্জ প্রভৃতি প্রসিদ্ধ গ্রাম, কালীগঙ্গার তটেই বিদ্যমান ছিল৫। পরে শত বৎসরের মধ্যে কীর্তিনাশা উদ্ভূত হইয়া বিক্রমপুরের মধ্য ভেদ করিয়া এবং নয়াভাঙ্গনি আবির্ভূত হইয়া ইদিলপুরের প্রান্ত দিয়া পদ্মা মেঘনাকে পরস্পর সংযুক্ত করিয়াছে।

মূল কথা, ব্রহ্মপুত্র মেঘনার সহিত মিলিত হইয়া যখন প্রবাহিত হইত, তখন উহার স্রোতবেগ অতি প্রবল থাকায়, পদ্মাকে বহু পশ্চিম দিকে রাখিয়াছিল। পরে আবার যখন ব্রহ্মপুত্রের সহিত মেঘনার ততটা সম্বন্ধ রহিল না, ব্রহ্মপুত্র যমুনার সহিত মিলিত হইয়া গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সহিত সম্মিলিত হইল, তখন পদ্মার বেগই প্রবল হইয়া দাঁড়াইয়া ক্রমে পশ্চিম দিক পরিত্যাগ করিয়া পূর্বদিকে অগ্রসর হইতে লাগিল, তাহার ফলস্বরূপই কীর্তিনাশার নয়াভাঙ্গনির উদ্ভব।

পদ্মার গতি পরিবর্তন অতি বিচিত্র। উহার মধ্যে হঠাৎ এমন সকল চর উত্পন্ন হয় যে, কোনো স্টিমার এক সপ্তাহ পূর্বে যে জল অতিক্রম করিয়া গিয়াছে, পর সপ্তাহে আর সে স্থান অতিক্রম করিতে সমর্থ হয় না। যে স্থানে পূর্বে অল্প জল বিদ্যমান ছিল, উহাই আবার অত্যন্ত গভীর হইয়া পড়িয়াছে, দেখা যায়। তীরস্থ গ্রামগুলি ভগ্ন করিয়া এমন শ্রীভ্রষ্ট করে যে, বৎসরান্তে গ্রামে প্রত্যাবর্তন করিয়া নদী-তীর হইতে পরিচিত স্থান ঠিক করিয়া লওয়া সুকঠিন হয়।

পদ্মা নদী কোনো সময়ে মধুমতী হরিণঘাটার সহিত সম্মিলিত হইবার জন্য, একটি প্রধান শাখা অবলম্বন করিয়াছিল। ইহাতে নদীয়া যশোহর জেলার নদীগুলি প্রায়ই বন্ধ হইয়াছে, নৌকাযোগে পূর্বে এই সকল নদী বাহিয়া পশ্চিমবঙ্গে, এমনকি উত্তর-পশ্চিম প্রদেশেও যাতায়াত করা যাইতে পারিত, স্টিমার চলাচলেও বাধা ছিল না। এখন মধুমতী হরিণঘাটা অবলম্বনে সুন্দরবনের মধ্য অথবা নিম্ন দিয়া পশ্চিমবঙ্গে যাইতে হয়।

১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার নিকট গড়াই নদীর বিস্তারমাত্র ৬০০ ফুট ছিল। ১৮৫৪-৫৫ খ্রিস্টাব্দে যখন রেভিনিউ অফিসার মিঃ লেম্বারটন কর্তৃক উহার পরিমাপ হয়, তখন ভদ্রখালি হইতে মীরপুর পর্যন্ত ইহার প্রসার ১৩২০ ফুট হইয়াছিল। দেখা যায় ২৭ বৎসর মধ্যে উহার শক্তি দ্বিগুণ লাভ করে। এখন আবার গড়াই নদীর উপর দিয়া ইস্টার্ন-বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি কর্তৃক লৌহসেতু নির্মিত হওয়ায়, উহার আকার খর্ব হইয়া আসিতেছে।

পূর্বে গড়াই আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ছিল; পদ্মা হইতে মধুমতী চন্দনা নদী হইয়া যাইতে হইত। এখন গ্রীষ্মকালে চন্দনার মোহনা, একেবারে শুষ্ক হইয়া যায়। চন্দনা গড়াই নদীর ২৬ মাইল নিম্নে পদ্মা হইতে বাহির হইয়াছিল। উভয় নদী প্রায় চরম সীমায় উপনীত হইয়াছে।

ফরিদপুর জেলার উত্তর পূর্বাংশে যেরূপ নদী কর্তৃক নানাবিধ পরিবর্তন সংসাধিত হইয়াছে, পশ্চিম দক্ষিণ-ভাগেও তদনুরূপ বিলের সমষ্টিতে ভিন্ন রূপ দৃশ্য প্রতিফলিত করিয়াছে। জেলার উত্তরাংশ হইতে দক্ষিণাংশ ক্রমশই ঢালু হইয়া চলিয়াছে। পরে প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড বিলের সমষ্টিতে পর্যবসিত হইয়াছে। বিলের অধিকাংশ প্রায় জলপূর্ণ থাকিত, অধুনা অনেকটা উচ্চ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। ফরিদপুরের নিম্নস্থ ঢোল সমুদ্র একেবারে উচ্চভূমিতে পরিণত হইয়াছে। বিলের মধ্যে দিয়া অসংখ্য খালের চিহ্ন দৃষ্ট হওয়ায় প্রতীত হয় যে, এই সকল খাল দিয়া পূর্বে নদীর জল নিঃসৃত হইত, পরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে, নদীর গতি ভিন্ন দিকে পরিবর্তিত এবং খালের মোহনাগুলি উচ্চ হওয়ায় নদীর সহিত সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হইয়াছে। বর্ষার সময়ে এই সকল বিলগুলি প্রায় সাগর শাখাতে পরিণত হয়। যে সকল বিলে একেবারেই শস্য অথবা ধাপ থাকে না, প্রবল বাতাসের সময় নৌকা যোগে সকল স্থান অতিক্রম করিতে বড়ই কষ্ট পাইতে হয়।

তথ্যনির্দেশ

. হান্টার প্রণীত স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব ঢাকা, পৃ. ৭০

. ইলিয়ট হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়াপৃ. ৬৭ এবং আকবরনামা ৫ম ভাগ, পৃ. ৪২৭

. ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে আকবর বাদশাহের শাসন সময়ে বাংলাদেশ ৩৩টি সরকারে বিভক্ত হয়। ফরিদপুর মোহম্মদ আবুদের সরকারের অন্তর্গত ছিল বলিয়া বোধ হয়। হান্টার, স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব ফরিদপুর, পৃ. ২৫৬

. হার্টন রেইলি রালফ ফিচ, পৃ. ১১৮-১৯

. হার্টন রেইলি রালফ ফিচ, পৃ. ১১৮-১৯রালফ ফিচ নদীকে কেবল গঙ্গা বলিয়া যাওয়ায় শ্রীযুক্ত নিখিলনাথ রায় মহাশয় এটিকে পদ্মা বলিয়া অনুমান করিয়াছেন। বাস্তবিক তাহা নয়। তত্কালে পদ্মা অপেক্ষা বরং মেঘনা নদী শ্রীপুর গ্রামের নিকটবর্তী ছিল। চরকালীগঙ্গা বলিয়া যে মহালের পরিচয় ফরিদপুরের কালেক্টরের তৌজীতে দেখিতে পাওয়া যায়, তাহা এই কালীগঙ্গাভরটি মহাল। কালীগঙ্গার অধিকাংশ এখন কীর্তিনাশার অঙ্কে বিলীন হইয়া গিয়াছে।