সিল্করুট

ঔপনিবেশিক আমলে ফরিদপুর

জালাল আহমেদ

১৭৬৫ সালে দিল্লি থেকে বিতাড়িত সম্রাট শাহ আলম এলাহাবাদ চুক্তির অধীনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বার্ষিক ২৬ লাখ টাকায় বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন। অনভিজ্ঞ কোম্পানি রাজস্ব আদায়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করে ১৭৭০ সালে প্রতি জেলায় একজন করে সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগ এবং ১৭৭২ সালে পদবি পরিবর্তন করে তাদের কালেক্টর পদবি প্রদান করে। ফরিদপুরকে প্রথম দফায় জেলা না করা হলেও দ্বিতীয় দফায় ১৭৮৬ সালে ঢাকা জেলার দক্ষিণে আসমুদ্র ঢাকা-জালালপুর জেলা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মধ্যবঙ্গের একটি অন্যতম জেলা ফরিদপুর। শুরুতে এর সদর ঢাকা শহরে হলেও ১৮১৫ সালে তা সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে বর্তমান ফরিদপুর শহরে স্থানান্তরিত হয়। ১৭৯৩ সালে ঢাকা-জালালপুর থেকে আলাদা করে বাকেরগঞ্জ জেলার প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমান মাদারীপুর-শরীয়তপুর জেলা ১৮৭৩ পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ বা বরিশাল জেলার অংশ ছিল। সেই সাবেক ফরিদপুরের তেমন কোনো বিবরণ কোথাও চোখে পড়ে না। ফরিদপুর জেলা গেজেটিয়ারে উল্লেখ আছে In 1811 it was deemed expedient to separate Dacca-Jalalpur from the Dacca Collectorate. Court buildings were built at the town of Faridpur.

ফরিদপুরের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বিশপ রেজিনাল্ড হেবারের লেখায়। কলকাতার প্রথম বিশপ হেবার ১৮২৪ সালে তার ভ্রমণের অংশ হিসেবে ঢাকায় আসেন এবং ঢাকার নায়েব নাজিমের প্রাসাদে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিশপ হেবার তার লেখায় ফরিদপুরের নৌপথের নিরাপত্তাহীনতা নৌডাকাতির কথা উল্লেখ করেন। তখনকার ফরিদপুর জেলা ছিল উত্তরে ঢাকা আর দক্ষিণে সমুদ্র। উল্লেখ্য, বর্তমান মানিকগঞ্জ জেলাও ১৮৭৫ সাল পর্যন্তু ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৩৩ সালে এসে জেলার নাম হয় ফরিদপুর এবং ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ১৮৩৩ সাল থেকেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নাম বোর্ডে উল্লেখ আছে।

১৮৫৪ সালে সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় (২৩ পৌষ ১২৬১) কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ফরিদপুর ভ্রমণ বিবরণ ছাপা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত লেখেন অধুনা এইচসি রেক্স সাহেব এখানকার জাইন্ট (জয়েন্ট) ম্যাজিস্ট্রেট ডেপুটি কালেক্টরের পদে অভিষিক্ত আছেন। সিভিলের মধ্যে ইনি একাকী মাত্র। এই সাহেব অতি সজ্জন নিরপেক্ষ, যদিও বয়স অল্প, কিন্তু বিলক্ষণ প্রবীণতা আছে। এই মহাশয় নীলকরদের অনুরোধের বশ্য নহেন, সবল অবল সকলেরই প্রতি সমান ক্ষেত্রে দৃষ্টি করেন। ইহার শাসন ভয়ে নীলকরেরা প্রবল হইয়া প্রজাপীড়নে স্পষ্টরূপে প্রবৃত্ত হইতে পারেন না, সুতরাং রেক্স স্বজাতির প্রতি পক্ষপাতপুরিত প্রীতি প্রচার না করাতে প্রজাপুঞ্জের প্রেমাস্পদ পরম প্রিয়পাত্র হইয়াছেন। বিশেষতঃ ইনি বিদ্যা বিষয়ে বিলক্ষণ উৎসাহ অনুরাগ প্রকাশ করিয়া থাকেন। ইহা তাহার আন্তরিক, মৌখিক ব্যাপার নহে, কারণ বিদ্যালয়ের নিমিত্তে উত্তম একটি গৃহ নির্মিত এবং একটি লাইব্রেরী অর্থাৎ পুস্তকালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তজ্জন্য যথেস্ট যত্ন করিতেছেন।

কালেক্টর এইচসি রেক্সের নাম কালেক্টরদের তালিকার ২২ নম্বরে আছে। ১৮৫৪-৫৫ সালে রেক্স সাহেব নীলকরদের হাত থেকে প্রজাদের রক্ষায় মনোযোগী ছিলেন। ১৮৭০-৭২ সালে ডব্লিউডব্লিউ হান্টারের বিবরণে পাওয়া যায়, ফরিদপুরের একটি ব্যতীত সব নীল ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে স্মরণীয় ১৮৫৯-এর নীল বিদ্রোহের কথা। এই নীল বিদ্রোহের কারণে যেমন ফ্যাক্টরিগুলো উত্খাত হয়ে গিয়েছিল, তেমনি পরিবর্তন এসেছিল ফরিদপুরের সামন্তীয় ক্ষমতা কাঠামোয়। রেক্স সাহেব স্কুল পাঠাগার উন্নয়নে কাজ করছিলেন। স্কুল বলতে ১৮৪০ সালে স্থাপিত ফরিদপুর জিলা স্কুল। ১৮৬৭ সালে ইই লুইসের বর্ণনায় আমরা পাই যে নিজস্ব জমিতে স্কুল লাইব্রেরি পাকা ভবনে অবস্থিত। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত আরো লেখেন, সম্প্রতি জেলায় জন অচিহ্নিত ডেপুটি কালেক্টর আছেন। তন্মধ্যে প্রধান গণিত বাবু রামগতি মিত্র। ইহার বয়স প্রায় ৯০ বৎসর হইবে। এই প্রাচীন অবস্থায় যুবা পুরুষের ন্যায় বিলক্ষণ সবল আছেন, যথাযোগ্য পরিশ্রম করিয়া যথারীতিক্রমে সুখ্যাতির সহিত স্বকার্য্য সম্পাদন করিতেছেন। ইনি বয়সে প্রবীণ, কার্যে প্রবীণ, বুদ্ধিতে প্রবীণ কিন্তু পরিশ্রমে নবীন। এখানে অচিহ্নিত শব্দ ব্যবহার করে হয়তো সাম্মানিক বোঝানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধিতে সাম্মানিক ম্যাজিস্ট্রেটের বিধান রাখা আছে। অনার বোর্ডে কালেক্টর রেক্সের আগে ২১ নম্বর ক্রমিকে আমরা বাবু রামগুটি মিটারের নাম দেখতে পাই, তিনি পাঁচদিনের জন্য কালেক্টরের দায়িত্বেও ছিলেন। উল্লেখ্য, তখনো ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে ভারতীয়দের নিয়োগ শুরু হয়নি। ফরিদপুরের পরবর্তী ভারতীয় কালেক্টর ১৮৯৯-১৯০৪ সময়ের কেসি দে, যিনি ১৯২০-২১ সালে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন।

অনার বোর্ডে ৩৬ নং ক্রমিকের পূর্বোল্লিখিত ইই লুইস কালেক্টর ছিলেন ১৮৬৫-৬৭ সালে। শেষ কর্মদিবস ০৪.০৪.১৮৬৭ তারিখে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তিনি একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। প্রতিবেদনের শেষ পৃষ্ঠায় তিনি ফরিদপুর জেলার জমিদারদের একটি তালিকা পেশ করেন। কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তও তার লেখায় অনুরূপ একটি তালিকা দিয়েছিলেন। ১৩ বছরের ব্যবধানে রচিত দুই তালিকায় দেখা যায় যে ১৮৫৪ সালের কোনো জমিদার ১৮৬৭ সালে টিকে ছিলেন না। মধ্যবর্তী সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নীল বিদ্রোহ। এছাড়া এরই মধ্যে ১৮৩৮ সালে শুরু হওয়া ফরায়েজি আন্দোলনের ওপর কোম্পানি পরে সরকার উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে সমর্থ হয়। হান্টার তার স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ১৮৫০-৭০ সময়কালে ফরিদপুর জেলার এস্টেটসমূহের বিভাজন হয়েছিল অত্যন্ত দ্রুত এবং স্বতন্ত্র ভূস্বামী সরাসরি সরকারকে খাজনা প্রদানকারী জোতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। ১৮৫০ সালে ফরিদপুর জেলায় এস্টেটের সংখ্যা ছিল ১৬৫ আর ১৮৭০-৭১ সালে সংখ্যা ছিল হাজার ৩০৭। নিবন্ধিত মালিক বা অংশীদারের সংখ্যাও ৪৪৮ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় হাজার ১২৬-, রাজস্বের পরিমাণ হাজার ৮০৩ পাউন্ড ১২ শিলিং থেকে ২৭ হাজার ৩২১ পাউন্ড।

 ঔপনিবেশিক যুগের প্রথমার্ধ ভারত শাসন করেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। কোম্পানির শাসনের প্রথম কথাই ছিল মুনাফা আর কোম্পানির আমলারা জড়িয়ে পড়েন বিপুল দুর্নীতিতে। কোম্পানির শাসনে ব্রিটিশ আইনের সমর্থন থাকলেও এর রক্ষাকবচ ছিল দুর্বল। যে কারণে আমরা কোম্পানি আমল আর রাজার শাসনে (প্রকৃতপক্ষে তখন রানীর শাসন, রানী ভিক্টোরিয়া ১৮৩৭ সালে ক্ষমতারোহণ করেন, ১৮৭৬ সালে ভারত সম্রাজ্ঞী বা মহারানী হন) পরিষ্কার পার্থক্য খুঁজে পাই। ফরিদপুরে আমরা এই পার্থক্য দেখতে পাব ফরিদপুর কালেক্টরেটের ব্যালান্স শিটে। হ্যাঁ, ইম্পেরিয়াল গেজেটিয়ারের সংকলক উইলিয়াম উইলসন হান্টার এই শব্দই ব্যবহার করেছেন। হান্টার যখন ১৮৭০-৭১ সালে তথ্য সংগ্রহ করেন তখন ফরিদপুরের কালেক্টর ছিলেন এটি ম্যাকলিন, কেলি ডব্লিউ সাদারল্যান্ড ওয়েলস। হান্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪৪-৪৫ সালে ফরিদপুর জেলার মোট রাজস্ব আয় ছিল হাজার ৬১৬ পাউন্ড শিলিং এবং ব্যয় ছিল হাজার পাউন্ড শিলিং। ১৮৫০-৫১ সালে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ২২৯ পাউন্ড শিলিং এবং ব্যয় হয় হাজার ৩৭৪ পাউন্ড ১৬ শিলিং। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ১৮৫৯ সালে ব্রিটিশরাজ ভারতের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৮৬০ সালে পেনাল কোড ১৮৬১ সালে পুলিশ আইন চালু হয়। এতে সরকার স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। কোম্পানি যুগে জনকল্যাণে খরচ না হলেও রাজশাসনের যুগে জনকল্যাণে, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে ব্যয় বরাদ্দ শুরু হয়। ১৮৭০-৭১ সালে রাজস্ব আয় ছিল ৫৮ হাজার ৮৫৯ পাউন্ড শিলিং আর ব্যয় ছিল ২৫ হাজার ১৩ পাউন্ড ১৫ শিলিং এবং সময়ে এসেই প্রথমবারের মতো পোস্টাল সার্ভিস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা কৃষি প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ১৮৬৭ সালে কালেক্টরস রিপোর্টে বলা হয়, ফরিদপুর জেলায় কোনো ডিসপেনসারি বা দাতব্য চিকিৎসালয় নেই। তবে এর চার বছর পর হান্টার বলছেন যে জেলায় একজন সিভিল মেডিকেল অফিসার আছেন।

১৮৬৭ সালে কালেক্টরেটের ইংলিশ অফিস হেডক্লার্কের বেতন ছিল ৮০ টাকা, পোদ্দার ৭৫, তৌজিনবিশ ৪০, রেকর্ডকিপার ৩৫, দপ্তরি ২৫, অন্য ক্লার্ক ২০, সেরেস্তাদার ২০, পেশকার ২০, অ্যাকাউন্ট্যান্ট ১৮, মোহরার ১৫, নাজির ১৫, ফরাস , পিয়ন , দপ্তরি / মেথর টাকা। পুলিশ পরিদর্শকের বেতন ছিল দ্বিতীয় গ্রেড ২০০ টাকা, তৃতীয় গ্রেড ১৫০ চতুর্থ গ্রেড ১০০ টাকা। উপপরিদর্শকের বেতন ছিল দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ যথাক্রমে ৭০, ৬০, ৫০ টাকা। হেড কনস্টেবল কনস্টেবলদের বেতন তখন ছিল যথাক্রমে ২০, ১৫, ১২, ১০ টাকা। তখনকার বিনিময় হার অনুযায়ী পাউন্ড ছিল ১০ টাকার সমতূল্য। ইউরোপিয়ান পুলিশ সুপারের মাসিক বেতন ভ্রমণ ভাতাসহ ছিল ৭১ পাউন্ড বা ৭১০ টাকা।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ১৯৩৩-৩৫ সালে ফরিদপুরের কালেক্টর ছিলেন এই পোর্টার। তার ভ্রমণবৃত্তান্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৩৩-৩৪ সালের শীত মৌসুমে বিভিন্ন থানা এলাকা ভ্রমণকালে তিনি অনেকগুলো কৃষি, শিল্প স্বাস্থ্যমেলা উদ্বোধন করেছেন। এতে ধারণা করা যায় যে তখন সরকার কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্যের ওপর, বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্য টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তার ভ্রমণ বিবরণীতে আরো পাওয়া যায় যে তখনো গোপালগঞ্জে পৌরসভা হয়নি, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্ট্রিট লাইট ১৬টি হাইড্র্যান্টের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। আবার রাজবাড়ী পৌরসভা থাকলেও তার আর্থিক অবস্থা অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

১৯৩১-৩৮ সালে কালেক্টরদের ভ্রমণকালে যেসব যান ব্যবহারের উল্লেখ দেখা যায় তার মধ্যে জলযান প্রধান। বিশেষ করে মাদারীপুর (বর্তমান শরিয়তপুরসহ), গোপালগঞ্জ ফরিদপুরের পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চল ভ্রমণে জলযানের উল্লেখ দেখা যায়। রাজবাড়ী, পাংশা, বালিয়াকান্দি, ভাটিয়াপাড়া, কাশিয়ানী অঞ্চল ভ্রমণে ট্রেন রেলট্রলির উল্লেখ দেখা যায়। কালেক্টরের সরকারি লঞ্চ হিসেবে প্রায় সর্বক্ষেত্রে এসএল মলি এসএল এনি উল্লেখ দেখা যায়। কৌতূহলোদ্দীপক হলো যে জুন ১৯৩২ কালেক্টর লিখছেন Left Faridpur at 5:30 am with Sadar SDO (Sub Divisional Officer) and reached Sadarpur at about 7:30 am. There is not much of a road in existence between Manikdaha and Chowddarashi. At one spot the car had to go over a paddy field for which luxury we had to pay four annas each way. This part of the road is important and much frequented. The District Board should pay some attention to this road. তার মানে অন্তত ১৯৩২ সালে থেকে কালেক্টর ফরিদপুর মোটরগাড়ি ব্যবহার করছেন।

১৯৩৬-৩৭ সালে ডব্লিউএইচ সমারেজ স্মিথ ছিলেন সাব-ডিভিশনাল অফিসার (এসডিও) মাদারীপুর, তখন ফরিদপুরের কালেক্টর ছিলেন কেএএল হিলস। অনেক পরে ১৯৭৭ সালে স্মিথের বই ইয়ং মেন কান্ট্রি প্রকাশিত হয়। স্মিথ বলছেন, The trip to Faridpur was a very enjoyable change. On the night I arrived, the Hills and I went to the theatre! There isn’t a permanent theatre in Faridpur, but a special company of very talented actors had come from Calcutta for 5 days, with a different play each night. তিনি আরো বলছেন, Faridpur has been greatly improved by the introduction of electricity, which means not only the convenience of electric light, but the comfort of fans, and cold food & drinks from a refrigerator. স্মিথ সাহেবের বিবরণ তত্কালীন ফরিদপুর শহর এবং সমাজের আংশিক চিত্র তুলে ধরে।

ঔপনিবেশিক আমলের ফরিদপুর সম্পর্কে বিভিন্ন কালেক্টর বা সরকারি কর্মচারী যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা খুব সামান্যই লিখেছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর জেলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য আমরা নির্ভর করি মূলত কালেক্টর ইই লুইসের ১৮৬৭ সালের প্রতিবেদন, উইলিয়াম উইলসন হান্টার, যিনি ডব্লিউডব্লিউ হান্টার নামেই সুপরিচিত তার ১৮৭০-৭১ সালের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব ফরিদপুর এবং ইম্পেরিয়াল গেজেটিয়ারে ফরিদপুর নামের ভুক্তি এবং ফরিদপুর জেলার জরিপকারক জেসি জ্যাকের ১৯১৬ সালে প্রকাশিত ফাইনাল রিপোর্ট অন দ্য সার্ভে অ্যান্ড সেটলমেন্ট অপারেশনস ইন দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব ফরিদপুর দি ইকোনমিক লাইফ অব বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট স্টাডির ওপর। তবে আবিষ্কার গবেষণার অপেক্ষায় বেশকিছু অব্যবহূত উৎস রয়ে গেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আর্কাইভসের ধূলিধূসরিত শেলফগুলোতে।

 

জালাল আহমেদ: অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব; প্রাক্তন জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কালেক্টর, ফরিদপুর