চট্টগ্রামে গার্ডার ধসের ৮ আসামির ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ব্যুরো

ছবি : বণিক বার্তা ( ফাইল ছবি)

২০১২ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার রায়ে আট আসামির সবাইকে সাত বছর করে সাজা দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুঁঞা গতকাল সকালে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আটজন হলেন ফ্লাইওভারটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার-পারিসার (জেভি) তৎকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. মনজুরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আবদুল জলিল, আমিনুর রহমান, আবদুল হাই, মোশাররফ হোসেন, মান নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশলী শাহজাহান আলী ও রফিকুল ইসলাম।

চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অনুপম চক্রবর্তী জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩০৪ (২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের সাজা দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৩৩৮ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে দুই বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। দুই ধারায় দেয়া এ সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে। ফলে আসামিদের সাত বছর করে কারাভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের আদালত কক্ষ থেকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের প্রথম সাধারণ যানবাহন চলাচলে নির্মাণাধীন বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়লে তাতে চাপা পড়ে ১৩ জন প্রাণ হারায়। পরে ওই বছরের ২৬ নভেম্বর নগরীর চান্দগাঁও থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ সিডিএসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোট ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের প্রকল্প পরিচালক সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী তানজিব হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে আসামি করা হয়। এছাড়া ঠিকাদারি কোম্পানি মীর আখতার অ্যান্ড পারিসা ট্রেড সিস্টেমসের ১০ জন এবং বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ১২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর এজাহারবহির্ভূত একজনসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শহীদুল ইসলাম। এজাহারভুক্ত সিডিএ কর্তৃপক্ষের তিন কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মতিনসহ ১২ জনকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়।

২০১৪ সালের ১৮ জুন আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এসএম মজিবুর রহমান। বিচার শুরুর প্রায় ১০ বছর পর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২২ জন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন সাতজন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন