বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে ৩ দশকে আয় ১৫০ কোটি টাকা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

ছবি : বণিক বার্তা ( ফাইল ছবি)

ময়মনসিংহ নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। বিভাগীয় শহরের সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি জেলার সংযোগ স্থাপনের জন্য নদের ওপর নির্মাণ করা হয় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। ১৯৯০ সালে নির্মিত সেতুতে ব্যয় হয়েছিল ৭২ কোটি টাকা। ৩৩ বছরে সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। তবে নির্মাণ ব্যয়ের দ্বিগুণের বেশি আয়ের পরও টোল আদায় বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম। এবার টোল বন্ধের দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা।

তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাসার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তিন বছর পরপরই ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় হয়। সেতুর টোল আদায় বন্ধ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। সরকার চাইলে এটি বন্ধ করতে পারে।’

সওজ সূত্রে জানা যায়, সেতু নির্মাণের পর এবারই সর্বোচ্চ ৫৬ কোটি ৩৮ লাখ ২৫০ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারা পেয়েছে মেসার্স মোস্তফা কামাল এন্টারপ্রাইজ। আগের তিন বছরও একই প্রতিষ্ঠান ইজারাদার ছিল। ওই তিন বছরের ইজারা মূল্য ছিল ৪৭ কোটি টাকা।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের আগে টোলের পরিমাণ ছিল প্রাইভেট কার ১৫ টাকা, মাইক্রোবাস ৩০, মিনিবাস ৬০, ট্রাক ও বাস ১১০, ভারী ট্রাক ২০০ টাকা। বর্তমানে প্রাইভেট কার ২০, মাইক্রোবাস ৪০, ছোট বাস ৮০, বাস ও ট্রাক ১৩৫ এবং ভারী যানবাহনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। প্রতিবার সেতু পার হলে এ টাকা দিতে হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠান টোল আদায়ের ইজারা পাচ্ছে। মেসার্স মোস্তফা কামাল এন্টারপ্রাইজের নামে ইজারা দেয়া হলেও মূলত শম্ভুগঞ্জের কিছু মানুষ মিলে টোল আদায় করেন। প্রতিদিনই টোলের ইজারা মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় হয়। এ টাকা প্রভাবশালীরা ভাগ করে নেন। এর চাপ গিয়ে পড়ে চালকদের ওপর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন