ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে ফেডের ওপর সুদহার কমানোর চাপ বাড়ছে

বণিক বার্তা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি ক্যারিয়ার সেন্টারের বাইরে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় ছবি: রয়টার্স

মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় দীর্ঘদিন ধরে সুদহার বাড়িয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে এলেও মার্কিন অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে বেকারত্বের ক্রমবর্ধমান হার। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, বিদ্যমান উচ্চ সুদহার দীর্ঘদিন ধরে রাখলে বেকারত্বের হার আরো বেড়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সুদহার বাড়িয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার কমিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যথায় দেশটিতে  প্রবৃদ্ধি চাপে পড়ে যাওযার, এমনকি মন্দা দেখা দেয়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।

অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আরএসএমের প্রধান অর্থনীতিবিদ জো ব্রুসুইলাসের মতে, ‘সুদহার কমানোর এখনই উপযুক্ত সময়। কেননা এ মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি দেশের প্রধান সমস্যা নয়। অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় ভারসাম্য করতে গিয়ে ধীরে ধীরে বেকারত্বের হার বাড়ছে।’

এদিকে সুদহারের বোঝা টানতে গিয়ে শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করেন মুডি’স অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডি। সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‌ফেড দীর্ঘ সময় ধরে সুদহার বাড়িয়ে রেখেছে। এটা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ সুদহার কমানোর বিষয়ে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে। এমন হলে ঠিক আছে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় সুদহার বাড়িয়ে রাখা হলে তা নীতিগতভাবে ভুল হবে।’

বেকারত্বজনিত অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছেন ফেডের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েলও। মঙ্গলবার কংগ্রেসে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘‌গত দুই বছরে আমরা মূল্যস্ফীতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু একই সঙ্গে শ্রমবাজারে কিছুটা মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। সত্যিকার অর্থে এ মুহূর্তে উচ্চ মূল্যস্ফীতিই মার্কিন অর্থনীতির একমাত্র ঝুঁকি নয়।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন মূল্যস্ফীতি-পীড়িত নয়’–উল্লেখ করে পাওয়েল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে সুদহার বাড়িয়ে রাখলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’

আপাতদৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তেমন কোনো সংকট নেই। নতুন কর্মসংস্থানের সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সরকারের তথ্যানুযায়ী, জুনে শ্রমবাজারে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার নতুন কাজ যুক্ত হয়েছে। একে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন জেরোমি পাওয়েল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সবার অগোচরে সংকট ঘনিয়ে আসছে। অর্থনীতিবিদ জো ব্রুসুইলাস বলেন, ‘উচ্চ সুদহার দীর্ঘায়িত হলে শ্রমবাজারের এমন ভারসাম্য থাকবে না।’ অর্থাৎ তখন বেকারত্বের হার বাড়বে। পরিস্থিতি এ পর্যায়ে গেলে ‘অকাল মন্দা পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে কেপিএমজির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেন কিম বলেন, ‘‌বেকারত্বের হার “‍স্যাম রুলে’’র কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্যাম রুল অনুসারে তিন বা তার চেয়ে বেশি মাসের বেকারত্ব বৃদ্ধির গড় হার দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট হলে তা মন্দা পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হওয়ার লক্ষণ।’

কেপিএমজির অর্থনীতিবিদদের মতে, বেকারত্বের হার এখন ইতিহাসে সর্বনিম্ন। তবে গত তিন মাসে ধারাবাহিকভাবে এ হার বেড়েছে। ধারণা করা যাচ্ছে, শ্রমবাজারে পরিবর্তন আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অবসর ও আতিথেয়তা খাতে প্রচুর ব্যয় করে থাকেন। সম্প্রতি খাত দুটিতে কর্মী নিয়োগ কমেছে। একই সঙ্গে পরিষেবা খাতও দুর্বল হচ্ছে। চাকরি ত্যাগ ও নিয়োগ কমেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সিনেটরদের অনেকে সুদহার কমাতে পাওয়েলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। ওহাইয়ো থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরোড ব্রাউন বলেন, ‘ফেড যদি আরো দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদহার ধরে রাখে, তবে তা আশঙ্কার কারণ হতে পারে। এতে ভালো মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরির হার কমে যেতে পারে। বেকারত্বের হার ঊর্ধ্বমুখী হলে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেড নিজেদের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় মন্দা ডেকে আনতে পারে। এতে মার্কিন নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন