টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো নিম্নমুখিতায় শেষ হচ্ছে স্বর্ণের বাজার

বণিক বার্তা ডেস্ক

স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমেছে ১ হাজার ৯৫৪ ডলার ৬০ সেন্টে ছবি: কেনব্রোস

আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা কমেছে স্বর্ণের। টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিম্নমুখিতায় শেষ হতে যাচ্ছে পণ্যটির সাপ্তাহিক বাজার। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন উচ্চ সুদহারের সুবিধা নিতে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি বাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিনিয়োগ আকর্ষণ কমেছে স্বর্ণের। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। আউন্সপ্রতি দাম নেমেছে ১ হাজার ৯৫৪ ডলার ৬০ সেন্টে। গত ১৮ অক্টোবরের পর এটিই ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (কোমেক্স) দাম কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি আউন্স লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ ডলার ৭০ সেন্টে।

মূল্যবান ধাতুটির বাজার এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক পতনের পথে। শুক্রবার পর্যন্ত সাতদিনে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে মূল্যবান এ ধাতুর চাহিদা তুঙ্গে উঠেছিল। অক্টোবরে উজ্জ্বল হলদে বর্ণের ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ডলারেরও ওপরে উঠে যায়।

ব্যবসায়ী হুগো প্যাসকেল বলেছেন, ‘‌নভেম্বরের শুরু থেকে স্বর্ণের দাম ২ হাজার ডলারের ঘর থেকে নামতে শুরু করেছে। তবে আমি মনে করি এ বছরের শেষ পর্যন্ত দাম ১ হাজার ৯০০ ডলারের ওপরেই থাকবে।’

আর্থিক পরিষেবা ও বিনিয়োগভিত্তিক কোম্পানি সিটি ইনডেক্সের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেছেন, ‘‌মনে করেন স্বর্ণের দাম আবারো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা ২ হাজার ডলারের ওপরে উঠতে পারে। তবে এখনই তা হবে না।’

এ প্রসঙ্গে ফরেন এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আইজির বাজার বিশ্লেষক ইয়াপ জুন রং বলেন, ‘‌স্বর্ণের দাম যথেষ্ট বাড়ার পর বাজারে এখন কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থা যাচ্ছে। কারণ ক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিকে বিবেচনায় রেখেছেন। বর্তমানে ঝুঁকি কমে যাওয়ায় সেফ হ্যাভেনের চাহিদাও কমে এসেছে।’

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোমি পাওয়েল বৃহস্পতিবার সুদহার অপরিবর্তিত রাখার কথা জানিয়েছেন। পাওয়েলের মন্তব্যের পরে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা গত এক মাসের হারের চেয়ে বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে বন্ডে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এদিকে ডলার সূচকও তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক প্রবৃদ্ধির পথে। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকদের কাছে স্বর্ণে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতেও চাহিদা কমেছে ধাতুটির।

বাজার বিশ্লেষক সিএমই ফেডওয়াচ টুল বলছে, ‘‌জানুয়ারিতে আরো একবার সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ১৪ শতাংশ। আর মার্চের শুরুর দিকে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে ১৮ শতাংশ। তখন স্বর্ণের দাম আবারো বাড়তে পারে। কেননা নিম্ন সুদহার বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।’

অন্যদিকে গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। আউন্সপ্রতি দাম নেমেছে ২২ ডলার ৬১ সেন্টে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ঠেকেছে ৯৭৫ ডলার ১৯ সেন্টে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে কমেছে প্লাটিনামের দাম। দশমিক ২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ধাতুটির দাম দাঁড়িয়েছে ৮৫৭ ডলার ৫৮ সেন্টে। ২০২১ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন