আমানতের সুদহার কমাচ্ছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো

বণিক বার্তা ডেস্ক

আমানতের ওপর সুদহার কমাচ্ছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। লাভের সূচক বা প্রোফিট মার্জিনের ওপর চাপ কমানো ও ঋণের ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে আর্থিক খাত এবং অর্থনীতির স্বস্তি ফেরাতে বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ইউয়ানের আমানতের ওপর সুদহার হ্রাসের বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়। বৃহস্পতিবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না, ব্যাংক অব চায়না এবং চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক করপোরেশনের ওয়েবসাইটে সুদহার হ্রাসের তথ্য তুলে ধরা হয়। খবর রয়টার্স।

রাষ্ট্র সমর্থিত ব্যাংকগুলো ডিমান্ড ডিপোজিটের ওপর ৫ বেসিস পয়েন্টসহ তিন ও পাঁচ বছর মেয়াদি আমানতের ওপর ১৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সুদহার কমানোর পদক্ষেপ নেয়া হলো, এর আগে সেপ্টেম্বরে আমানতের ওপর সুদহার কমানো হয়। 

ফরাসি বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক নাটিক্সিসের এশিয়া প্যাসিফিকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যারি এনজি বলেন, ‘আমানতের হার হ্রাস মানুষের সঞ্চয় প্রবণতাকে ব্যয়ে ও বিনিয়োগে প্রবাহিত করবে। যা ব্যাংকের নেট সুদের মার্জিনের (এনআইএম) ওপর চাপ কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উদ্দীপ্ত করবে।’

বন্ড ইস্যুকে সমর্থনের জন্য স্থানীয় সরকার অচিরেই রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট রেশিও (আরআরআর) ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমাতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। আরআরআর রেশিও হলো আমানতের শতাংশ, ঋণের বিপরীতে যা রিজার্ভ হিসাবে রাখতে হয়। আরআরআর কাটছাঁটের অর্থ হচ্ছে, ব্যাংকগুলো এখন রিজার্ভের পরিমাণ কমাতে পারবে। ফলে ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংক আরো তহবিল পাবে। তবে লোন প্রাইম রেট (এলপিআর) কাটা হয় তখন, যখন আর্থিক ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যায়, যা চীনকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করতে বাধা দেয় বলে উল্লেখ করেন গ্যারি এনজি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত প্রত্যাবর্তন করলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুনরায় গতি হারায়।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার অভিঘাত, রফতানি হ্রাস, মন্থর আবাসন বাজার এবং উচ্চ বেকারত্বের হারে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটি। এ অবস্থায় পিপলস ব্যাংক অব চায়নার তত্ত্বাবধানে থাকা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঋণদাতাদের মার্কিন ডলারের আমানতের হার কমাতে বলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন