টানা চতুর্থ দিনে দূষিত শহরের শীর্ষে ঢাকা

বণিক বার্তা অনলাইন

ছবি : বণিক বার্তা

টানা চতুর্থ দিনের মতো বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা। আজ মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ২৩৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী। 

এর আগে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে একিউআই স্কোর ২৯৩ নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ঢাকা। একইভাবে আগের দুদিনও দূষণের মাপকাঠিতে কোনো না কোনো সময়ে শীর্ষ অবস্থানে ছিল।

এ নিয়ে টানা চার দিন তালিকার শীর্ষ অবস্থানে ঢাকা। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং এ বছরে জানুয়ারির শুরু থেকে একাধিকবার একই অবস্থানে ছিল।

দূষিত বাতাসের শহরের একটি তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। আজ দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে দেখা যায়, পাকিস্তানের লাহোরকে। শহরটির স্কোর ২০৩। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের মুম্বাই ও চতুর্থ স্থানে ইরাকের বাগদাদ। শহর দুইটির স্কোর যথাক্রমে ১৯৫ ও ১৯৩। এদিকে ১৯২ স্কোর নিয়ে বসনিয়ার সারায়েভো রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তাছাড়া বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী শহর কলকাতা রয়েছে সপ্তম স্থানে, স্কোর ১৯০।

সাধারণত ১০০ থেকে ২০০-এর মধ্যে একিউআই সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। একইভাবে একিউআই ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে সংশ্লিষ্ট শহরের পরিবেশ বসবাসের জন্য খারাপ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাতাসের মান নির্ণয়ের জন্য একিউআই একটি সূচক। সরকারি সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত ও মানব স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বা উদ্বেগের কারণ হতে পারে কিনা তা জানতে সূচকটি ব্যবহার করে থাকে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক একিউআই পাঁচটি দূষণকারী মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোন। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ সমস্যায় জর্জরিত। ঢাকার বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এবং বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণাধীন স্থাপনার ধুলা। সাধারণত জুনের মাঝামাঝিতে বর্ষাকাল শুরু হলে ঢাকার বাতাস সতেজ হতে শুরু করে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বায়ু নির্মল থাকে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও অক্ষমতার শীর্ষ ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে একটি। দূষিত বাতাসে দীর্ঘদিন শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় বলে বিভিন্ন গবেষণায় স্বীকৃত হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন