অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কার্যক্রম টানা পঞ্চম মাসে সংকুচিত

বণিক বার্তা ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে টালমাটাল অর্থনীতি। রেকর্ড পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ। বাড়ছে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিও। জ্বালানি খাদ্যে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য খরচ কমিয়ে দিয়েছেন ভোক্তারা। উচ্চ ব্যয়ের কারণে চাপে রয়েছেন উৎপাদকরাও। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিম্নমুখী রয়েছে। নিয়ে টানা পঞ্চম মাসের মতো নভেম্বরে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শিল্পোৎপাদন পরিষেবা কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। খবর রয়টার্স।

চলতি মাসে পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সের (পিএমআই) সমীক্ষায় শিল্পোৎপাদন পরিষেবা উভয় খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল চাহিদার কথা জানিয়েছে। এতে নতুন ক্রয়াদেশ আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছে। রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন পরিষেবা খাত অন্তর্ভুক্ত থাকা ফ্ল্যাশ কম্পোজিট পিএমআই নভেম্বরে ৪৬ দশমিক পয়েন্টে নেমেছে। অক্টোবরেও সূচক ৪৮ দশমিক পয়েন্টে ছিল। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে সংকোচন এবং এর ওপরে প্রসারিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরে।

আশির দশকের পর সবচেয়ে আক্রমণাত্মকভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপ অর্থনৈতিক চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে আগামী বছর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদের। ফ্ল্যাশ কম্পোজিট নতুন ক্রয়াদেশের পিএমআই ৪৬ দশমিক পয়েন্টে নেমেছে। সূচক ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন ক্রয়াদেশ গত মাসের চেয়েও অনেক কমে গিয়েছে। অক্টোবরে সূচক ৪৯ দশমিক পয়েন্টে ছিল। মহামারীর ধাক্কা বাদ দিলে সূচক ছিল ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ব্যবসায়িক অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন বলেন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কঠোর মুদ্রানীতির পরিপ্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ এবং রফতানি বাজারজুড়ে দুর্বল চাহিদা তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছে।

চলতি মাসে সব মিলিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি আরো ঘনীভূত হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আস্থাও খারাপ হয়েছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং উচ্চ সুদহারের কারণে নিম্নমুখী পরিষেবা কার্যক্রম পুরো ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল ব্যয় পরিমাপের সূচক অক্টোবরের ৬৭ পয়েন্ট থেকে চলতি মাসে ৬৫ দশমিক পয়েন্টে নেমেছে। সূচক ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। এটি সরবরাহ ব্যবস্থায় চলা প্রতিবন্ধকতা কিছুটা সহজ হওয়ার চিত্র তুলে ধরছে। চলতি মাসে পণ্যের দাম বাড়ানোর গতিও ধীর করে দিয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। চাহিদা হ্রাসের কারণে দাম বাড়ানোর পদক্ষেপ ধীর করতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থাগুলো। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান চাহিদা বাড়াতে বড় অংকের মূল্যছাড়ও দিচ্ছে।

এসঅ্যান্ডপির ফ্ল্যাশ ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই চলতি মাসে ৪৭ দশমিক পয়েন্টে নেমেছে। সূচক ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। অক্টোবরে উৎপাদন খাতের সূচক ৫০ দশমিক পয়েন্টে ছিল। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা সূচকটি ৫০ পয়েন্টে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

নভেম্বরে কাঁচামালের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কমেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ইনপুট ব্যয় দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হারে বেড়েছে। তবে কারখানাগুলো এখনো দক্ষ শ্রমিক খুঁজে পেতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। জরিপে ফ্ল্যাশ পরিষেবা খাতের পিএমআই চলতি মাসে ৪৬ দশমিক পয়েন্টে নেমেছে। সূচক গত মাসে ৪৭ দশমিক পয়েন্টে ছিল। পরিষেবা খাতের ব্যবসাগুলোও দুর্বল চাহিদা এবং কাঁচামালের ব্যয় ধীর হওয়ার কথা জানিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন