পাতাল রেল

দেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ অবকাঠামো প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম পাতাল রেল। মেট্রোরেলের (এমআরটি-) প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যার সিংহভাগ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে টাকার অংকে মেট্রো হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। গতকাল প্রকল্পের একটি প্যাকেজে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে মেট্রো নির্মাণ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। প্যাকেজ--এর মাধ্যমে পাতাল রেলের ডিপোর নির্মাণকাজ পেয়েছে জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জয়েন্ট ভেঞ্চার।

দেশের প্রথম পাতাল রেলের রুট হবে দুটি। বিমানবন্দর-কমলাপুরের রুটটি পুরোটাই হবে মাটির নিচ দিয়ে। পাতালপথেই তৈরি হবে ১২টি স্টেশন। অন্যদিকে নতুন বাজার-পূর্বাচল রুটটি হবে উড়ালপথে। রুটে স্টেশন হবে নয়টি।

মেট্রো প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন হবে ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে। এর মধ্যে গতকাল প্যাকেজ-- ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে ডিএমটিসিএল। প্যাকেজের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ মৌজায় ৮৮ দশমিক ৭১ একর জমি ডিপো নির্মাণের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। কাজের জন্য গতকাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০৭ কোটি টাকার চুক্তি সম্পন্ন করেছে ডিএমটিসিএল।

রাজধানীর একটি হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পাতাল রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হবে। প্রকল্পটিকে ১২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ডিপো নির্মাণকাজ নতুন বছরের প্রথমেই শুরু হবে।

পাতাল রেলের নির্মাণকাজ চলাকালে ওপরের সড়কে যান চলাচলে সমস্যা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কয়েকটি জায়গায় ৩০ মিটার আবার কয়েকটি জায়গায় ৭০ মিটার নিচ দিয়ে পাতাল রেলপথ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যাবে। নিচ দিয়ে যখন টিভিএম মেশিন মাটি কেটে কেটে কাজ করে এগিয়ে যাবে, তখন ওপর থেকে কোনোভাবেই বোঝা যাবে না যে নিচে কাজ চলছে। কিন্তু পথে ১২টি স্টেশন আছে, যেগুলোয় ওপেন কাট পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে। ১২টি স্টেশন ওপেন কাট পদ্ধতিতে কাজ শেষ করে নিচে চলে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় লাগবে। ছয় মাস সময় রাস্তার অর্ধেকটা অংশ পুরোপুরি চালু থাকবে। বাকি অংশে আমরা কাজ করব এবং পরে আবার সেই অংশ ভরাট করে দেয়া হবে। যেখানে আমাদের স্টেশন আছে সেখানে সর্বোচ্চ ছয় মাস ট্রাফিক ডাইভারশন করতে হতে পারে। তবে অন্য কোনো জায়গায় ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন হবে না।

ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মেট্রোরেল উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রণালয়ের সময় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলেছে।

ঢাকায় আরেকটি পাতাল মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত নির্মাণ হতে যাওয়া এমআরটি--এর (নর্দার্ন রুট) নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পেও ঋণসহায়তা দিচ্ছে জাইকা।

বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের এমন প্রকল্পগুলোর মধ্যে পাতাল রেলের বাইরে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সিঙ্গেল লাইনের ব্রড গেজ রেলপথটি তৈরি করতে এখন পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে জাইকার ঋণসহায়তায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল, যার কিছু অংশ আগামী মাসে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এছাড়া সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলে বাস্তবায়ন করা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন