দরপতনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সপ্তাহের লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে টানা দরপতন চলছে দেশের পুঁজিবাজারে। গতকাল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে দশমিক ৫২ শতাংশ। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচক লেনদেন কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। ১০ মিনিট কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচক। তবে লেনদেনের ২৪ মিনিট পর থেকেই আবারো পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। মাঝে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গতকাল দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় ৩২ পয়েন্ট কমে হাজার ১৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসইএক্স। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ গতকাল ১৭ পয়েন্ট কমে হাজার ১৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে পয়েন্ট কমে হাজার ৩৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো লিমিটেড, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরো চাপে পড়ার শঙ্কা কাজ করছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এরই মধ্যে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাবে অর্থনীতি চাপের মধ্যে ছিল। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে চাপ আরো তীব্র হবে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অঞ্চলভেদে শিল্প-কারখানা একদিনের জন্য বন্ধ রাখার বিষয়টি তাদের আরো শঙ্কিত করে তুলেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে।

ডিএসইতে গতকাল ৫৮৩ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। যেখানে এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৭৯৯ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৯৬টির, কমেছে ১৬৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১১৬টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বিবিধ খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। ১০ দশমিক শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ রসায়ন খাত। মোট লেনদেনের দশমিক শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের শতাংশ। গতকাল পুঁজিবাজারে কাগজ মুদ্রণ খাতে দশমিক শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন ছিল ভ্রমণ অবকাশ খাতে দশমিক শতাংশ।

সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৬৪ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১০ হাজার ৯২৪ পয়েন্ট। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ১০৫ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ১২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ১৮ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে। দিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৫৪টি কোম্পানি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ১১৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৮৪টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ১৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন