রবিবার | আগস্ট ১৪, ২০২২ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯  

দেশের খবর

সংযোগ সড়ক না থাকায় মই বেয়ে সেতু পারাপার

আফরোজ আহমদ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনু নদের উপর নির্মিত রাজাপুর সেতু ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে লাগছে না ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাজাপুর সেতু। সেতুর কাজ শেষ হওয়ার বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে লম্বা মই বেয়ে সেতুতে উঠে মনু নদ পার হতে হচ্ছে স্থানীয়রা। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

মৌলভীবাজার সড়ক জনপথ বিভাগ এবং  স্থানীয় সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সঙ্গে একই উপজেলার হাজীপুর শরীফপুর ইউনিয়নের মানুষের সড়ক পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল মনু নদ। পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় খেয়া দিয়ে পারাপার হতো এলাকাবাসী। তাই মনু নদের ওপর একটি সেতুর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। হাজীপুর শরীফপুর ইউনিয়নের মানুষ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন নৌকায় নদ পার হয়ে পৃথিমপাশাসহ উপজেলা সদরে বিভিন্ন কাজে আসা-যাওয়া করতেন। এভাবে যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীদের বিড়ম্বনার শিকার হতো। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক জনপথ বিভাগ কুলাউড়া উপজেলার রাজাপুর এলাকায় মনু নদের ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১৮ সালের দিকে ২৩২ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর নাম দেয়া হয় রাজাপুর সেতু। সেতুর দুই পাশে কুলাউড়া-রবিরবাজার-শরীফপুর সড়ক। সড়কের রাজাপুর এলাকায় রাজাপুর সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২১ সালের জুনে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। যার কারণে স্থানীয় লোকজন সেতু দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত রাজাপুর সেতুটি ভূমি থেকে প্রায় ৪০ ফুট ওপরে। সংযোগ সড়ক না থাকায় দুই পাশে বাঁধা হয়েছে উঁচু মই। পূর্ব পাশে প্রায় ৪০ ফুট এবং পশ্চিম পাশে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু বাঁশের তৈরি মই স্থাপন করা হয়েছে। বাঁশ দিয়ে মইয়ের দুই পাশে রেলিং দেয়া হয়েছে। লোকজন মই বেয়ে সেতুতে ওঠানামা করছে। নড়বড়ে মই বেয়ে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওঠানামা করছে এলাকাবাসী। কাঁদে ভার বাইসাইকেল নিয়ে অনেককে মই বেয়ে সেতু পার হতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, সেতুর কাজ শেষ হওয়ায় অনেক খুশি ছিলেন তারা। কিন্তু সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এখন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু বয়স্কদের কষ্ট অনেক বেশি। অনেক ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে সেতু। আর রোগী নিয়ে দুর্ভোগ সীমাহীন। বৃষ্টিতে ভেজা মই বেয়ে সেতু পারাপার হতে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের তোয়াক্কুল আলীকে বাইসাইকেল নিয়ে মই বেয়ে সেতুতে উঠে হাঁপাতে দেখা যায়। সময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, খুব কষ্ট হয় মই বেয়ে ওঠানামা করতে। এলাকার সবারই কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

হাজীপুর ইউনিয়নের মাধানগর গ্রামের আবাস আলী সেতু লাগোয়া জমির মালিক। তিনি জানান, অধিগ্রহণের জন্য তার ৩০ শতক জমি অনুমোদন করা হয়েছে চার বছর আগে। কিন্তু এখনো অধিগ্রহণ করা হয়নি।

জমি থেকে প্রতি বছর তিনি ৬০-৭০ হাজার টাকা আয় করতেন। কিন্তু এখন মই বেয়ে মানুষ তার জমির ওপর দিয়ে চলাচলে মাটি ফেলে কিছুটা ভরাট করে রাখার কারণে জমিটি তিনি ব্যবহার করতে পারছেন না। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সড়ক জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, রাজাপুর সেতুটি নির্মাণ করতে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। জন্মভূমি-ওয়াহিদুজ্জামান-নির্মিতি নামের সিলেটের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটির কাজ পায়। ২০২১ সালের জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়।

সেতুটি ব্যবহারে দুই পাশে সাড়ে সাত কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জামিল-ইকবাল নামের সিলেটের আরেকটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালে কাজ শুরুর জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়ায় সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ এখনো পড়ে আছে।

সড়ক জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, পুরো কাজটির সঙ্গে সরকারের কয়েকটি দপ্তর যুক্ত রয়েছে, তাই দেরি হচ্ছে। সংযোগ সড়কের জন্য মোট ৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর ঘরবাড়িসহ যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলো পরিদর্শন কাজ শেষ করেছে। তাছাড়া সংযোগ সড়কে ২০টি কালভার্টের মধ্যে আটটি এরই মধ্যে নির্মাণ হয়ে গেছে। ভূমি অধিগ্রহণ করে বাকি কাজ শেষ করার জন্য আমরা তত্পর আছি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন