শুক্রবার | আগস্ট ১৯, ২০২২ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯  

শেষ পাতা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির রেশ

দূরপাল্লায় ২২%, মহানগরীতে ১৬ শতাংশ বাস ভাড়া বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে বাস মিনিবাসের জন্য নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লার পথে ভাড়া ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর ফলে মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে বাস মিনিবাসে ভাড়া ৩৫ পয়সা এবং দূরপাল্লায় বাসভাড়া বাড়ল ৪০ পয়সা। আজ থেকেই ভাড়া কার্যকর হবে।

গতকাল বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে অংশীজনের সঙ্গে বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বাস-ট্রাকের জ্বালানি ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৪২ দশমিক শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ছোট গাড়ি মোটরবাইকের জ্বালানি পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ১৩০ টাকা, অকটেনের দাম ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরদিনই পরিবহন মালিকদের তাগিদে বৈঠক হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন সড়ক মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ বিভিন্ন খাতের অংশীজনরা। বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। পরে সাংবাদিকদের সামনে বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন সড়ক মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এবং বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বাড়ায় বাসের বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণেও বাস মালিকদের কিছু দাবি ছিল। বৈঠকে সবার আলোচনা-পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে এখন থেকে মহানগর পর্যায়ে প্রতি কিলোমিটারের জন্য বাস ভাড়া হবে দশমিক ৫০ টাকা। মিনিবাসের ক্ষেত্রে তা হবে দশমিক ৪০ টাকা। এছাড়া দূরপাল্লার বাসে ভাড়া হবে কিলোমিটারপ্রতি দশমিক ২০ টাকা।

আগে ভাড়া ছিল মহানগর পর্যায়ে কিলোমিটারে বাসে দশমিক ১৫ টাকা, মিনিবাসে দশমিক ০৫ টাকা। দূরপাল্লার বাসে ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দশমিক ৮০ টাকা ছিল। সে সময়ও বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা মিনিবাসে ছিল টাকা।

সময় সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রতিবার ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হলেও কেন তা কার্যকর হয় না, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, গতবার আমরা ভাড়া নির্ধারণ করার পর কয়েক মাস যৌথ অভিযান চলেছে। যারা অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এবারো আগামী এক সপ্তাহ ভাড়ার বিষয়টি মনিটরিং করা হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৈঠকে অংশ নেয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ওসমান আলী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে এর সঙ্গে যুক্ত অনেক কিছুর দাম বেড়ে যায়। কারণ জ্বালানি তেলের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমরা শ্রমিকদের বিষয়ে কথা বলেছি এবং তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন সেক্টরে যেসব সংকট তৈরি হবে, সেসব বিষয় নিয়ে আমরা বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবশেষ ২০২১ সালের নভেম্বর দেশে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের ভাড়া গড়ে ২৭ শতাংশ বাড়িয়েছিল বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণী কমিটি। একইভাবে মহানগর এলাকার বাস ভাড়া ২৬ দশমিক শতাংশ বাড়ানো হয়। একই দিন সব লঞ্চের ভাড়া ৩৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সে হিসেবে কিলোমিটারপ্রতি ৬০ পয়সা করে ভাড়া বেড়েছিল। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ওই সময় ডিজেল কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার।

এদিকে শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির খবরের প্রভাবে গতকাল রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল অনেকটাই হাতে গোনা। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ভাড়া কাঠামো ঠিক না হওয়ায় তারা পরিবহন রাস্তায় নামাননি। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

গতকাল রাজধানীর পোস্তগোলা, দোলাইরপাড়, গুলিস্তান, চানখাঁরপুল, শাহবাগ, নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, বিআরটিসির বাস ছাড়া অল্প কিছু বাস রাস্তায় নেমেছে। প্রতিটি বাসেই যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। কোথাও একটি বাস থামলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন যাত্রীরা। কারওয়ান বাজারে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ একাধিক যাত্রী জানান, দীর্ঘ সময় পর পর একটি করে বাস আসছে। যেগুলো আসছে সেগুলোও যাত্রী বোঝাই। ফলে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা সুযোগ পাচ্ছেন না।

রিনা আক্তার নামে এক যাত্রী জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তিনি বাসে উঠতে পারেননি। এর মধ্যে তিনটি বাস এলেও সেগুলোতে ছিল প্রচণ্ড ভিড়।

রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে ধামরাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসের চালক নাজমুল জানান, ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় দুপুরের পর বাস নিয়ে বের হন। পূর্বনির্ধারিত ভাড়া নেয়ার কথা জানালেও ওই বাসের যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেছেন।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গতকাল রাজধানীর পেট্রল পাম্পগুলোতে আগের মতোই ভিড় দেখা গিয়েছে। প্রতিদিনের মতোই মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার নিয়ে তেল নিতে অপেক্ষমাণ দেখা যায় বহু যাত্রীকে। পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীরা তেল নিতে আসছেন ঠিকই, তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় তুলনামূলক কম তেল পাচ্ছেন তারা। অর্থাৎ আগে একজন ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ তেল নিতে পারতেন, এখন তার চেয়ে কম পাচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন