শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  

খবর

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রতিবাদ

জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

বণিক বার্তা অনলাইন

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ শনিবার রাজধানীতে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছিল সরকার। তখন দাম নির্ধারণ করা হয় ৮০ টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাস ভাড়া বাড়ানো হয় প্রায় ২৭ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হয় ৩৫ শতাংশ, যা তেলের দাম বাড়ানো হারের চেয়ে অনেক বেশি।

প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা দেশের সাধারণ মানুষ। চরম এক দুঃসময়ে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছির বাড়ানোর ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে। পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ায় পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাধারণ মানুষের সামর্থ্যরে বাইরে চলে যাবে। পরিবহন খাতে অস্থিরতা দেখা দেবে। শিল্প উৎপাদন ব্যহত হবে। ফলে আমদানির উপর নির্ভরশীলতা বাড়বে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক ছোট ছোট শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এর ফলে একদিকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ আরো বাড়বে। অন্যদিকে বেকারত্ব সমস্যা প্রকট হবে। আমাদের দেশে সাধারণত তেলের দাম যে পরিমাণ বাড়ে তার থেকে কয়েকগুণ বেশি বাড়ে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ভাড়া। পণ্য পরিবহন ভাড়াও ইচ্ছেমত বাড়িয়ে দেয় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকরা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, সরকার বাসের মালিক-শ্রমিক নেতারা মিলে একচেটিয়াভাবে বাসের ভাড়া যে পরিমাণ বাড়ায়, বাসে তার কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করে। সরকার ভাড়া বাড়িয়ে দিলেও তালিকা অনুযায়ী বাসে নির্ধারিত ভাড়ার আদায় হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা বা বর্ধিত ভাড়া আদায় বন্ধে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বর্তমানে তেলের বাজার নিম্নমুখী। এই সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণ না করে, কেবল আইএমএফের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী। অনতিবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে, পূর্বের মূল্য বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।

প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, যুগ্ম মহসচিব এম মনিরুল হক ও প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেলসহ প্রমূখ।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

এর ফলে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে ৩৪ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৮০ টাকা। পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে ৪৪ টাকা, যা এতদিন ছিল ৮৬ টাকায়। অকটেনের লিটারপ্রতি দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪৬ টাকা, এতদিন যা ছিল ৮৯ টাকা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন