শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  

শেয়ারবাজার

অর্ধবার্ষিক

সিটি ব্যাংক পারপেচুয়াল বন্ডের কুপন রেট ৯.৫৮%

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডের নন-কনভার্টেবল (অর্থাৎ শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য নয়), আনসিকিউরড (অর্থাৎ এর বিপরীতে কোনো জামানত রাখা নেই), ফ্লোটিং রেটবিশিষ্ট পারপেচুয়াল বন্ডের প্রথম বছরের প্রথম অর্ধবার্ষিকের জন্য কুপন রেট ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম অর্ধবার্ষিকে অর্থাৎ মার্চ থেকে ৩১ আগস্টের জন্য বন্ডটির কুপন রেট হবে দশমিক ৫৮ শতাংশ। -সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ আগস্ট। এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সিটি ব্যাংক।

তথ্য অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পারপেচুয়াল বন্ডটির ট্রাস্টি কমিটির সভা থেকে কুপন রেট ঘোষণা করা হয়। যদিও বন্ডটি ইস্যুর সময় এর কুপন রেট ১১ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলে জানানো হয়। তবে প্রথম অর্ধবার্ষিকেই বন্ডটির কুপন রেট লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম নির্ধারণ করা হলো।

চলতি বছরের ২০ জুন থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত হয় সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ৪০০ কোটি টাকার পারপেচুয়াল বন্ড। ২০২০ সালের ২৩ জুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭২৯তম কমিশন সভায় বন্ডের অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে বন্ড ইস্যুর প্রস্তাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয় বন্ডটি।

বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, সমবায় সমিতি, সংগঠন, ট্রাস্টসহ যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বন্ডটি ইস্যু করা হয়েছে। বন্ড বিক্রির মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে ব্যাংকটি অ্যাডিশনাল টিয়ার-ওয়ান মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করবে।

বন্ডের লিড অ্যারেঞ্জারের দায়িত্বে ছিল সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড। আর ট্রাস্টির দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২২ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দ্য সিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) টাকা পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল টাকা ১৬ পয়সা। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ১২ পয়সা বা দশমিক ৫৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে টাকা ২১ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল টাকা ১৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৩০ টাকা ৬৮ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ স্টক সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে টাকা ১৫ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরে আয় ছিল টাকা পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে টাকা পয়সা বা ২৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৬৮ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৭ টাকা ৬৫ পয়সা।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২২ দশমিক শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে সিটি ব্যাংক। ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৮ হিসাব বছরে মোট ১১ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল সিটি ব্যাংক। এর মধ্যে শতাংশ নগদ বাকি শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

এছাড়া ২০১৭ হিসাব বছরে ১৯ শতাংশ নগদের পাশাপাশি শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন হাজার ২০০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে হাজার ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১২০ কোটি লাখ হাজার ৭৪৩। এর মধ্যে ৩২ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৫৯ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৬ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার সিটি ব্যাংক শেয়ারের সর্বশেষ সমাপনী দর ছিল ২২ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ২১ টাকা ৭০ পয়সা ৩০ টাকা ৬০ পয়সা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন