শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জুনে চীনের কারখানা কার্যক্রমে গতি ফিরেছে

বণিক বার্তা ডেস্ক

চীনের ইয়াংশি প্রদেশে শিশুদের খেলনা প্রস্তুতকারী একটি কারখানা ছবি: রয়টার্স

চীনে শিথিল করা হচ্ছে কভিডজনিত বিধিনিষেধ। বাণিজ্যনগরী সাংহাইসহ প্রধান শহরগুলোয় লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। পুনরুদ্ধার হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির শিল্পোৎপাদন খাত। জুনে খাতের কার্যক্রম ১৩ মাসের সর্বোচ্চ গতিতে প্রসারিত হয়েছে। যেখানে আগের মাসেও কারখানা কার্যক্রম সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছিল। গতকাল প্রকাশিত একটি বেসরকারি জরিপে তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

কাইশিন/মার্কিট ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) জুনে ৫১ দশমিক পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। নিয়ে চার মাসে প্রথমবারের মতো সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। মে মাসেও সূচক ৪৮ দশমিক পয়েন্টে ছিল। গত মাসে বিশ্লেষকরা ৫০ দশমিক পয়েন্টের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

৫০ পয়েন্টের নিচে পিএমআই সংকোচন এবং এর উপরে প্রসারিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কাইশিন সমীক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চলের রফতানিভিত্তিক এবং ছোট সংস্থাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটিকে সরকারি জরিপের ফলাফলের চেয়ে আরো বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কভিড-১৯ সংক্রমণ কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে লকডাউন প্রত্যাহার করায় জুনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বেড়েছে। মে মাসের শেষ দিকে চীনা সরকার ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রমও হাতে নেয়। উৎপাদনের একটি উপসূচক ২০২০ সালের নভেম্বরের পরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিন মাস ধরে নতুন ক্রয়াদেশ কমলেও জুনে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ার হার গত চার মাসের মধ্যে দ্রুততম।

কভিডজনিত কারণে দুই বছর ধরে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত রয়েছে। বিলম্ব সরবরাহকারীদের জন্য স্বাভাবিক হিসেবে পরিণত হয়েছিল। অবস্থায় গত মাসে সরবরাহের সময় স্থিতিশীল হয়েছে। তবে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন সত্ত্বেও কারখানাগুলো আরো কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক রয়েছে। দেশটিতে কর্মসংস্থান টানা তৃতীয় মাসের মতো কমে গিয়েছে।

কাইশিন ইনসাইট গ্রুপের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ওয়াং জে বলেন, কভিড পরবর্তী পুনরুদ্ধার বর্তমান অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবুও অর্থনীতির ভিত্তি এখনো শক্তিশালী থেকে অনেক দূরে রয়ে গিয়েছে। দুর্বল শ্রমবাজারের কারণে পারিবারিক আয় হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যাশা চাহিদা পুনরুদ্ধারকেও ম্লান করে দিয়েছে। অনুরূপভাবে সহায়ক নীতিগুলো কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কর্মচারী, অস্থায়ী কর্মী নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে দেয়া উচিত।

চীনের অর্থনীতি কঠোর লকডাউনের আঘাত কাটিয়ে পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি শুরু করেছে। তবে বড় শহরগুলোয় রেকর্ড উচ্চ বেকারত্ব হার, এখনো শীতল রিয়েল এস্টেট বাজার, দুর্বল ভোক্তা ব্যয় এবং পুনরায় সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবের ভয় নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথার কারণ হিসেবে রয়ে গিয়েছে। পৃথক একটি জরিপে দেখা গিয়েছে, উৎপাদন খাতের বাইরের পিএমআই প্রত্যাশা ছাড়িয়ে জুনে ৫৪ দশমিক পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। নিয়ে তিন মাস ধরে খাতে শ্লথগতির সমাপ্তি ঘটেছে।

বিশ্লেষকরা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক অবস্থার আরো উন্নতি আশা করছেন। যদিও সরকার জিরো কভিড নীতি বজায় রেখেছে। এজন্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার জিরো কভিড নীতি ত্যাগ না করলে চলতি বছরের জন্য প্রায় দশমিক শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চীনের জন্য কঠিন হবে। গত সপ্তাহেও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জিরো কভিড নীতিকে সমর্থন করে বলেন, চীন জনগণের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের কিছু অস্থায়ী প্রভাব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন