শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  

খবর

হলি আর্টিজান হামলার ৬ বছর

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নিহতদের স্মরণ

বণিক বার্তা অনলাইন

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ছয় বছর পূর্ণ হলো আজ শুক্রবার। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ভয়াবহ ওই হামলায় ১৭ বিদেশীসহ ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। আজ শুক্রবার এই হামলার বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা।


হলি আর্টিজান ভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দেয়ার মাধ্যমে তারা নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


সকাল সাড়ে সাতটায় প্রথম শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। এরপর ইতালির রাষ্ট্রদূত ইনরিকো নুনজিয়াতা, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস এবং ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে আমরা খুবই ব্যথিত। বাংলাদেশের পুলিশসহ সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের মনে রাখা উচিত, ঘটনাগুলো কেন ঘটেছে, আমাদের উচিত যৌথভাবে এসব মোকাবেলা করা, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।


শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, ছয় বছর আগের এই ঘটনায় আমাদের সাতজন নাগরিক মারা গিয়েছেন, তারা সবাই জাইকার ঢাকা মেট্রো লাইন-১ প্রজেক্টে কাজ করতেন। তারা রিসার্চের কাজ করছিলেন। আমরা তাদের কখনো ভুলব না, ওইদিন কি ঘটেছিল তা আমরা কখনো ভুলব না!


তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব ও সম্পর্ক রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে এমআরটি লাইন-১ এর কাজ শুরু হবে। এই কাজটা চালিয়ে যাওয়া এবং শেষ করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের দায়িত্ব।


উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান-২ এর হলি আর্টিজান বেকারিতে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৭ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ২২ জন। সেদিন রাত ৮টা ৫০মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে চলে জঙ্গি হামলার এই ভয়াবহতা। পরের দিন ২ জুলাই সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যদের পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ অবসান হয় জিম্মিদশার। ওই অপারেশনে নিহত হন হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি।


জঙ্গিদের হামলায় যে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন তারা হলেন, ডিবির সহকারি কমিশনার (এসি) মো. রবিউল করিম ও বনানী থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন খান। এছাড়াও


জঙ্গিদের হাতে নিহত আরো ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানের, একজন ভারতের ও তিনজন বাংলাদেশী নাগরিক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন