শুক্রবার | আগস্ট ১২, ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯  

শেষ পাতা

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল কমছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর পাঁচদিন পেরিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন ৫১ হাজারের বেশি যানবাহন সেতু পারাপার হয়। সেতু তৈরির আগে করা সমীক্ষায় ২০২২ সালে যান চলাচলের যে পূর্বাভাস দেয়া হয়, তার তুলনায় প্রথম দিনে সেতু দিয়ে যাওয়া যানের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। অবশ্য দ্বিতীয় দিন থেকে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং সেতুর ওপর প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। বুধবার সেতু পারাপার হয়েছে ১৪ হাজার ১০৫টি যানবাহন। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে কোটি ৯২ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা।

পদ্মা সেতু দিয়ে কোন বছর কী পরিমাণ যানবাহন চলাচল করবে, তার একটা পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ২০০৫ সালে করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষায়। সমীক্ষার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৩ হাজার ৯৫৪টি যানবাহন চলবে। এসব যানবাহন থেকে প্রতিদিন গড়ে কোটি ৪৫ লাখ টাকা টোল আদায় হওয়ার কথা। হিসেবে প্রতি মাসে ১৩৩ কোটি ৬৬ লাখ প্রতি বছর হাজার ৬০৩ কোটি টাকা টোল আদায় হওয়ার কথা পদ্মা সেতুতে। অবশ্য ২০১৫ সালের আগে পদ্মা সেতু চালু হবে ধরে নিয়ে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে ২০২২ সালে পদ্মা সেতুতে কী পরিমাণ গাড়ি চলাচল করবে টোল আদায় হতে পারে, তার আরেকটি প্রাক্কলন করা হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) হিসাবের ভিত্তিতে। মাওয়া-জাজিরা রুটে বর্তমানে কী পরিমাণ যানবাহন ফেরিতে পারাপার হয়, তার ভিত্তিতে প্রাক্কলন তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছর সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৩৮৭টি ট্রাক, ৮৩টি বাস হাজার ২৮৭টি হালকা যানবাহন পারাপার হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, চালুর দ্বিতীয় দিনে পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ২৭৪টি। তৃতীয় দিন পারাপার হয়েছে ১৪ হাজার ৪৯৩টি যানবাহন। আর চতুর্থ দিন (বুধবার) ১৪ হাজার ১০৫টি যানবাহন পদ্মা সেতু পারাপার হয়েছে। অর্থাৎ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নয়, বিআইডব্লিউটিসির তথ্যের ভিত্তিতে যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল, পদ্মা সেতুতে বর্তমানে যানবাহন চলাচল তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

প্রথম দিন পদ্মা সেতু দিয়ে যত যানবাহন পারাপার হয় তা ছিল পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি। ৫১ হাজার ৩১৬টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় কোটি লাখ টাকার বেশি। পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, প্রথম দিন সেতুর ওপর দিয়ে যত যানবাহন পারাপার হয়েছে, তার ৬০ শতাংশের বেশি ছিল শুধু মোটরসাইকেল। অনেক মোটরসাইকেলচালক ছিলেন বেপরোয়া। ওইদিন একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর পর ২৭ জুন থেকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

যান চলাচল শুরুর প্রথম দিন অনেকেই মাঝ সেতুতে গাড়ি থেকে নেমে ছবি তোলেন। নাট-বল্টু খুলে ফেলেন। মালপত্র চুরির অভিযোগও ওঠে। এমন প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দিন থেকে সেতুর ওপর নজরদারি বাড়ায় প্রশাসন।

পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ার পেছনে দুটি ঘটনাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীরা। তারা বলছেন, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় প্রথম দিনের তুলনায় সেতুর সিংহভাগ ট্রাফিক কমেছে। একইভাবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে এখন আর কেউ গাড়ি থামিয়ে সেতুর ওপর নামতে পারছে না। কারণে উত্সুক মানুষ কমে যাওয়ায় সেতুর ট্রাফিকে প্রভাব পড়েছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল বাড়তে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, পদ্মা সেতুতে এখন যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করছে, সংখ্যাই আসলে স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংখ্যাটি বাড়তে থাকবে।

সরকারের অর্থ বিভাগের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট পদ্মা সেতুর ঋণ নিয়ে সরকারের অর্থ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সেতু কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৫ বছরে ১৪০টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতু কর্তৃপক্ষ কোনো অর্থবছর কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে সুদসহ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করবে। ঋণচুক্তি অনুযায়ী, যানবাহন চলাচল শুরুর প্রথম বছরেই (২০২২) ৫৯৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে কোনো কোনো বছর হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া সেতু রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালন ব্যয়, নদী শাসন কাজ, ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যয়ও নির্বাহ করতে হবে টোলের আয় থেকে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন