শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  

খবর

দেশে বছরে চোখের ছানি রোগী বাড়ছে ১ লাখের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চোখের ছানি জনিত অন্ধত্ব হল সারা বিশ্বে প্রতিরোধ যোগ্য অন্ধত্বের এক নম্বর কারণ। বর্তমানে দেশে ৫ লাখের বেশি ছানি রোগী রয়েছে। আর বছরে নতুন করে ১ লাখ ৩০ হাজার রোগী যোগ হচ্ছে। এদের মধ্যে ৮০ ভাগ রোগীই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে থাকেন। তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ ছানি সার্জনের। আজ বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন চক্ষু চিকিৎসকরা। 

চোখের ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষে এটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটারাক্ট অ্যান্ড রিফ্ল্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস)। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, আগে ছানি অপারেশন করতে অনেক ভয় পেত। কিন্তু এ ভয় অনেকটা দূর হয়ে গিয়েছে। তবে চোখের রোগ নিয়ে সকলে মাঝে সচেতনতা আরো বাড়াতে হবে। আসাদুজ্জামান বলেন, মানুষের মধ্যে ছানি পড়া নিয়ে এখানো সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। দিনদিন তাদের চোখের জটিলতা বাড়লেও হাসপাতালে রোগী কম আসে। বেশ কিছু এনজিও তাদের নিয়ে কাজ করছে। এনজিওলোর নিজ খরচে বাসা থেকে রোগীদের এনে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হলেও সব রোগীরা আসছেন না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সেবায় দক্ষ জনবল খুবই কম। আমাদের এ সংকট কমাতে হবে। বেশি বেশি চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। শুধু চক্ষু চিকিৎসক নয়, তাদের সার্জারির বিষয়েও জ্ঞান থাকতে হবে। তিনি বলেন, ২০৩২ সালের মধ্যে ৩ হাজার ২০০ জন চক্ষু চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়বে। এখন আছে মাত্র ১৪০০ জন।

বিএসসিআরএসের বৈজ্ঞানিক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে ৫ লাখের বেশি ছানি রোগী রয়েছে। প্রতি বছর নতুন তরে ১ লাখ ৩০ হাজার রোগী যোগ হচ্ছে। এসব রোগীদের মধ্যে ১ লাখ সেবা পাচ্ছেন। ছানি রোগীর ৮০ ভাগই গ্রামে বসবাস করেন। বিশেষজ্ঞ ছানি সার্জনের অভাবে সকল রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক মিনিটেই চোখের ছানি অপারেশন করা সম্ভব। এতে কোনো প্রকার ব্যথা নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এটির বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছে সরকার। 

সভায় বক্তারা জানান, চোখের ছানি জনিত অন্ধত্ব হল সারা বিশ্বে প্রতিরোধ যোগ্য অন্ধত্বের এক নম্বর কারণ। এটি প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানান তারা। এজন্য ছানি অন্ধত্ব প্রতিরোধে সারা বিশ্বে সচেতনতা বাড়াতে জুন মাসে পালিত হচ্ছে ছানি সচেতনতার মাস। 

বিএসসিআরএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. জাফর খালেদের সভাপতিত্ব মূল প্রবন্ধ উপস্থাপস করেন বিএসসিআরএসের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাক আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ছানি সার্জন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ডা. আব্দুর রকিব তুষার, ডা. মো. শওকত কবির প্রমূখ। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন