শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  

শিল্প বাণিজ্য

অর্থনীতিবিদদের অভিমত

দেশীয় শিল্প বিকাশে লিফট আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানো ইতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি (২০২২-২০২৩) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লিফট আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন দেশীয় লিফট উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা। মূলত দেশীয় শিল্প-উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লিফট আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টিকে দেশীয় শিল্পের জন্য খুবই ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বাজেট বক্তব্যে জানিয়েছেন, দেশে লিফটের চাহিদা বাড়ছে। স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের স্বার্থে লিফট আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে দেশীয় শিল্প উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে হবে। দেশীয় শিল্পকে অধিক সুযোগ দিতে হবে যাতে সে উঠে দাঁড়াতে পারে। এজন্য সরকারকে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ভেতর যেসব পণ্য উৎপাদন করা যায়, সেগুলো বিদেশ থেকে আনা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তারা সুবিধা পাবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্ধিত হবে। এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আমদানি নিরূৎসাহিতকরণ দেশীয় শিল্পের বিকাশে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে । তার মতে এক্ষেত্রে আমাদের দায়বদ্ধতা যেমন বাড়ে, তেমনই দেশে উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রমতে, গেল বছর ২০২১ সালে ৮৮৫ কোটি টাকার লিফট আমদানি হয়েছে। প্রতি বছর এ খাতের প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশেরও বেশি। আমদানির মাধ্যমে লিফটের স্থানীয় চাহিদা মেটানোয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি লাভজনক হওয়ায় সেদিকেই ঝুঁকছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে দেশীয় লিফট উৎপাদন শিল্প।

বর্তমানে দেশের গৃহায়ন শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করায় চাহিদা বেড়েছে লিফটের। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত লিফট দিয়ে সব চাহিদা মেটানোর যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশে তৈরি লিফট আমদানিকৃত লিফটের চেয়ে মানে অনেক উন্নত। দেশে উৎপাদন বাড়লে লিফটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।পাশাপাশি পুরাতন স্থাপনাগুলোতে লিফট সংক্রান্ত সেবা দেয়া সহজ হবে। সবদিক বিবেচনায় সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশীয় শিল্প ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ইতিবাচক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এর আগে ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য খাতে আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং স্থানীয় উৎপাদকদের সুবিধা দেয়ায় দেশে রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, ল্যাপটপ-কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি শিল্পের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছে। অনেক দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করেছে। এসব পণ্যের উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। এমনকি দেশে উৎপাদিত পণ্য দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ খাতে রফতানি আয় বাড়ছে। তৈরি পোশাকের মতো ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য রফতানি আয়ের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠেছে।

লিফটেও একই রকম সুবিধা দেয়ায় দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় উৎপাদনে আগ্রহী হবে। ফলে এ খাতে বড় বিনিয়োগ আসবে। যা বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং আমদানি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন