শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  

খেলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজে কেন বারবার পথ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটাররা?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

৬৯ টেস্টের অভিজ্ঞ তামিম ইকবালও ক্যারিবিয়ান গতিতে বেসামাল

সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এই টেস্টেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে ২৩৪ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৬। প্রথম ইনিংসে ৪০৮ রান তোলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে মাত্র ১৩ রানের টার্গেট দিতে সমর্থ হয় অতিথিরা। তিন ওভারের মধ্যেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় স্বাগতিক দলটি।

 

কেমার রোচ, আলজারি জোসেফ, জেডেন সিলস, কাইল মায়ার্স অ্যান্ডারসন ফিলিপএই পাঁচ পেস বোলার সিরিজে বাংলাদেশ ব্যাটারদের দাঁড়াতেই দেননি। তবে তাদের বল যে একেবারেই আনপ্লেয়াবল ছিল তা- বলা যাবে না। দ্বিতীয় ইনিংসে একেবারে শেষ মুহূর্তে নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটিংই বলে দেয়, উইকেটে টিকে থাকলে রান করা কঠিন ছিল না। ৫০ বলে ৬০ রান করার পথে ৬টি চার ২টি ছক্কা মেরেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

 

বাংলাদেশ দলের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটি ক্রমেই দুর্ভেদ্য হয়ে উঠছে কেন? ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে সর্বশেষ ১০ ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে১৬১, ১৯২, ৪৩, ১৪৪, ১৪৯, ১৬৮, ১০৩, ২৪৫, ২৩৪ ১৮৬। দুশ ছাড়ানো স্কোর মাত্র দুটি।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই সেন্ট লুসিয়ায় দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৬১ ১৯২ রান করে বাংলাদেশ হেরেছিল ২৯৬ রানের বড় ব্যবধানে। ম্যাচসেরা শিবনারায়ণ চন্দরপল একাই করেছিলেন ১৮৫ রান। উল্লেখ্য, ওই টেস্টে যথাক্রমে শূন্য রান করা এনামুল হক বিজয় এরপর দীর্ঘদিন টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন। ফিরলেন সেই সেন্ট লুসিয়ায়, যদিও ফলাফল একই। এবার করেন যথাক্রমে ২৩ রান। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সেও উন্নতি আসেনি।

 

২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় কেমার রোচের তোপের মুখে প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৪ রান করার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থেকে ২১৯ রানে পিছিয়ে ছিল সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। সেবার জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে জেসন হোল্ডারের শিকার বাংলাদেশ। দুই ইনিংসে তিনি নেন ১১ উইকেট। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৪৯ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। সেবার হার ১৬৬ রানে।

 

এবারের সফরে অ্যান্টিগায় যথাক্রমে ১০৩ ২৪৫ এবং সেন্ট লুসিয়া টেস্টে যথাক্রমে ২৩৪ ১৮৬ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে হার উইকেটে, আর দ্বিতীয়টিতে ১০ উইকেটে।

 

এই ১০ ইনিংসের আগে সর্বশেষ ইনিংসটিতে তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে মুশফিকুর রহিমের ১১৬ রানে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩ রানের টার্গেট দিতে সমর্থ হয় অতিথি দলটি।

 

সব মিলে, ২০ টেস্টের মুখোমুখিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৪ বার হেরেছে বাংলাদেশ, আর জয় চারটি। যদিও এর মধ্যে দুটি জয় এসেছিল ২০০৯ সালে তাদের দ্বিতীয় সারির একটি দলের বিপক্ষে। এছাড়া ২০১৮ সালে হোম সিরিজে ঢাকায় ইনিংস ১৮৪ রানে আর চট্টগ্রামে ৬৪ রানে ক্যারিবিয়ানদের হারায় বাংলাদেশ। 

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজে সর্বশেষ ১০ ইনিংস

১৬১, ১৯২, ৪৩, ১৪৪, ১৪৯, ১৬৮, ১০৩, ২৪৫, ২৩৪ ১৮৬।

 

 

  

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন