শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  

দেশের খবর

কপোতাক্ষ নদ খনন

তিন জেলার ২০ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ খননের ফলে সাধারণ মানুষের জীবন-মান বদলে গেছে। কপোতাক্ষ পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর জমি বছরের পর বছর থাকত জলমগ্ন। কপোতাক্ষ খননে এখন সেখানে ফসল ফলাচ্ছেন কৃষক। এতে সাতক্ষীরা, যশোর খুলনা জেলার কপোতাক্ষ নদের কোলঘেঁষে বসবাসরত ২০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভরাট নদে এখন জোয়ার-ভাটা বইছে। এলাকাবাসীর দাবি, কপোতাক্ষ নদ যেন অবৈধ দখলমুক্ত থাকে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ জানান, কপোতাক্ষ ভরাট হওয়ায় ফসল হতো না। অনাহারে, অর্ধাহারে থাকতে হয়েছে মানুষকে। জলাবদ্ধতা থাকার কারণে তালা উপজেলা সদরে অফিসে আসতে পারতেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কপোতাক্ষ তীরে বসবাসরত কৃষক মোসলেম উদ্দিন, অজিয়ার রহমান, শাহাদাত হোসেন, হোসেন আলী খায়রুল জানান, কপোতাক্ষ নদে পলি জমে ৮৮ কিলোমিটার ভরাট হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুম এলে এর উপচে পড়া পানি হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করে দিত। কপোতাক্ষ খননের ফলে এখন আর জলাবদ্ধতা নেই। কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন মাঠে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে বলে জানান তারা।

জানা গেছে, বছরে অন্তত আট-নয় মাস জলাবদ্ধতার কবলে থাকত সাতক্ষীরার কলারোয়া, তালা, আশাশুনি উপজেলা, যশোর জেলার চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মণিরামপুর উপজেলা এবং খুলনা জেলার পাইকগাছা, কয়রা ডুমুরিয়া উপজেলা। এসব উপজেলার অনেকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করত। কপোতাক্ষ পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর জমি পানিতে ডুবে থাকত।

দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সরকার ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদ খনন করে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড- নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, যশোর থেকে কপোতাক্ষ নদ খনন করা হয়েছে। নদ খননের সুফল কপোতাক্ষ অববাহিকার মানুষ পাচ্ছে। কপোতাক্ষ নদ এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের খেতে ফসল ফলছে, যা আগে সম্ভব হতো না। কপোতাক্ষ পাড়ের সৌন্দর্য বাড়াতে দুই ধারে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ। অনেক জায়গায় তৈরি  হয়েছে মিনি পার্ক। সাধারণ মানুষ অবসর সময়ে এসব জায়গায় ঘুরতে আসে। মানুষ এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কপোতাক্ষ নদ খনন করা হয়েছে। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চাকলা ব্রিজ থেকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাকিমারা পর্যন্ত খননকাজ হয়েছে। নদ খননের ফলে এলাকার ৪০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সুফল ভোগ করছে। সাতক্ষীরা- (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ জানান, কপোতাক্ষ নদ খননের ফলে অন্তত তিন দশকের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। কপোতাক্ষ পাড়ের যেসব ফসলি জমি বছরের পর বছর জলমগ্ন থাকত এখন সেখানে ফসল ফলাচ্ছেন কৃষক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন