শনিবার | আগস্ট ১৩, ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  

টকিজ

গায়ক হতে চাওয়া নায়কের রুপালি পর্দায় সুবর্ণজয়ন্তী

ফিচার প্রতিবেদক

আলগমীর

তার বাবা ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ মুখোশের অন্যতম প্রযোজক। ফলে সদ্য শুরু হওয়া চলচ্চিত্রাঙ্গনে আনাগোনা ছিল যুবকের। গান গাইতেন। স্বপ্ন দেখতেন চলচ্চিত্রে গাইবেন। একদিন ঢাকার ফার্মগেটের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে ছিলেন রসের বাইদানি সিনেমার পরিচালক সফদার আলী ভুঁইয়া। তাকে বললেন, আপনার সিনেমায় গান করব। পরিচালক বললেন, গান শোনাও দেখি? যুবক গান ধরলেন। চোখ বুজে একমনে গান গাইছেন। সফদার আলী টেবিলকে তবলা বানিয়ে বাজাচ্ছেন। গান শেষ। যুবক চোখ খুলে দেখেন পরিচালক তার দিকে অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন। পরিচালক বললেন, আরে মিয়া রাখেন। কিসের গায়ক হবেন? আপনে চোখ বন্ধ কইরা যে এক্সপ্রেশনে গাইতেছিলেন, আপনে নায়ক হবেন।

উত্তম কুমারের অভিনয় দেখে যুবকের যে নায়ক হওয়ার শখ ছিল না, তা বলা যাবে না। তাই বলে গায়ক হতে এসে নায়ক হয়ে যাবেন কখনো ভাবেননি। সেদিনের সেই যুবক আজ বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্তম্ভ। তিনি মহিউদ্দিন আহমেদ। আলমগীর বললে যাকে আর কোনো পরিচয় দিতে হয় না। ১৯৭২ সালের ২৪ জুন আমার জন্মভূমি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। গতকাল পূর্ণ করলেন চলচ্চিত্রযাত্রার ৫০ বছর। সুবর্ণজয়ন্তী।

আলমগীরের বাবা হাজি কলিমুদ্দিন আহমেদকে সবাই চেনেন দুদু মিয়া নামে। সেই সূত্রে হয়তো আলমগীর নামের ২২ বছরের যুবকের পরিচিতি পাওয়ার কথা ছিল প্রযোজক হিসেবেই। আমার জন্মভূমি সিনেমা মুক্তির পর তরতর করে এগিয়েছেন আলমগীর। একের পর এক অভিনয় করেছেন নতুন নতুন সিনেমায়, যার বেশির ভাগ ব্লকবাস্টার তকমা পেয়েছে।

বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে নয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আজীবন সম্মাননা পদক পাওয়ার রেকর্ড নায়ক আলমগীরেরই রয়েছে। ১৯৮৫ সালে প্রথম মা ছেলে চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত টানা চার বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি, যা আজও কেউ ভাঙতে পারেনি।

পারিবারিক টানাপড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ প্রায় সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক পরিচালক হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের বেহালে চলচ্চিত্রের হালও ধরেছেন তিনি। বর্তমানে চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক সব সংগঠনের সমন্বয়ক আলমগীর। ব্যক্তিজীবনে তার স্ত্রী উপমহাদেশের কিংবদন্তিতুল্য গায়িকা রুনা লায়লা। ঢালিউডের সোনালি দম্পতি হিসেবেও তাদের সমাদর আছে। আলমগীরের মেয়ে আঁখি আলমগীর গানের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী।

নায়ক আলমগীরের চলচ্চিত্র যাত্রাকে মোটাদাগে তুলে ধরা প্রায় অসম্ভব। তার পুরো ক্যারিয়ারই উল্লেখযোগ্য। অভিষেকের বছর আমার জন্মভূমি, দস্যুরানী অতিথি তার উল্লেখযোগ্য সিনেমা।  এরপর আশির দশকের মতো দাপিয়ে বেড়ান নব্বইয়ের দশকজুড়ে। আলমগীর উপহার দেন একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা। সত্য মিথ্যা, রাঙা ভাবী, মরণের পরে, দেশপ্রেমিক, পোকামাকড়ের ঘর বসতি, অজান্তে, সত্যের মৃত্যু নাই, দুর্জয়ের মতো সিনেমা। তাকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা যায় ২০১৮ সালে। একটি সিনেমার গল্প চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রের পরিচালকও তিনি।

৫০ বছরে অসংখ্য কাজ করেছেন নায়ক আলমগীর। সেসব কাজ হয়েছে ব্যবসাসফল, সমাদৃত প্রশংসিত। তার পরও এখনো নিজেকে সু-অভিনেতা ভাবতে নারাজ। তিনি মনে করেন, শিল্পী হওয়া এত সহজ নয়। নিজে স্বীকার না করলেও ভক্তদের ভালোবাসা পুরস্কার দুহাত ভরে পেয়েছেন। যেমনটা দুহাত ভরে দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রকে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন