শুক্রবার | আগস্ট ১২, ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯  

পণ্যবাজার

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে রাশিয়া

বণিক বার্তা ডেস্ক

রাশিয়ায় গ্যাজপ্রমের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ছবি: রয়টার্স

চলমান ইউক্রেন সংকটে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব জোরদার করছে রাশিয়া। ধারাবাহিকতায় দেশটি ইউরোপের বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) তথ্য জানিয়েছে। এক্ষেত্রে ইউরোপকে এখন থেকেই বিকল্প উৎস থেকে চাহিদা মেটানোর প্রস্তুতি নিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির কর্তব্যক্তিরা। খবর রয়টার্স।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল এক বিবৃতিতে বলেন, রাশিয়া অব্যাহত কোনো না কোনো ইস্যু খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। দেশটি ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ আরো কমিয়ে আনার নানা অজুহাত বের করছে। এক্ষেত্রে সরবরাহ পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে মস্কো।

তিনি আরো বলেন, শীত মৌসুমের মাসগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী চাহিদাকে সামনে রেখে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে গ্যাসকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে রাশিয়া। সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশে বন্ধ করে দেয়া সরবরাহ সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এরই মধ্যে রাশিয়ান জ্বালানি তেল কয়লার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে ব্লকটি এখনো রুশ প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন মস্কোর প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ইইউ ক্লাইমেট পলিসি চিফ ফ্রান্স টিমারম্যানস বলেন, রাশিয়া সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় এক ডজনেরও বেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ বিপাকে পড়েছে।

রাশিয়া গত সপ্তাহে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ সক্ষমতার ৪০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এক্ষেত্রে উপকরণজনিত সমস্যার অজুহাত দেখিয়েছে দেশটি। ফলে এরই মধ্যে পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ফিনল্যান্ডে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেশগুলো রাশিয়ার নতুন পেমেন্ট স্কিম মানতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়া। টিমারম্যানস বলেন, পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বর্তমানে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, রাশিয়া বর্তমানে তাদের জ্বালানি শক্তি সরবরাহকে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো।

ইউক্রেন সংকটের আগে ইউরোপে আমদানীকৃত গ্যাসের ৪০ শতাংশই আসত রাশিয়া থেকে। কিন্তু রাশিয়ান সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়া গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের প্রভাবে বেশ কয়েকটি দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে। যদিও সেসব দেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি সাময়িক এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি খুব বেশি বাধা সৃষ্টি করবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ৫৫ শতাংশে নেমেছে। মজুদ পরিপূর্ণ করতে হিমশিম খাচ্ছে অঞ্চলটির জ্বালানি কোম্পানিগুলো। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া পুরোপুরিভাবে সরবরাহ বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করবে। শীত মৌসুমের আগেই নতুন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হবে অঞ্চলটি। গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি জরুরি আইন প্রণয়ন করে। এতে নভেম্বরের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ৮০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন