মঙ্গলবার | জুন ২৮, ২০২২ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৯  

টকিজ

‘প্রিয় সত্যজিৎ’-এ কী আছে?

সাবিহা জামান শশী

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়। বাংলা সিনেমা তার হাতে পৌঁছে গিয়েছিল অনন্য উচ্চতায়। তাকে নিয়ে আজও আলোচনা, কৌতূহলের শেষ নেই। পরিচালক সত্যজিতের জীবনকে বড় পর্দায় তুলে আনার কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে অনীক দত্ত পরিচালিত অপরাজিত হুবহু সত্যজিতের মতো দেখতে জীতু কমলকে তার চরিত্রে দেখে চমকে গিয়েছেন দর্শক। সবখানেই প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি।

অন্যদিকে ঢাকায় সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা প্রিয় সত্যজিৎ নির্মাণ শেষ করেছেন প্রসূন রহমান। গত মাসে সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্রও পেয়েছে। মে সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তির কথা থাকলেও পরে তারিখ পেছানো হয়। সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণ দিবসে (২৩ এপ্রিল) সিনেমার দুটি পোস্টার মুক্তি দেয়া হয়।

প্রিয় সত্যজিৎ সিনেমায় অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেতা আহমেদ রুবেল, মৌটুসী বিশ্বাসসহ আরো অনেকে। প্রসূন রহমানের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ইমেশন ক্রিয়েটরের ব্যানারে আসছে প্রিয় সত্যজিৎ। সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রসূন রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, প্রিয় সত্যজিৎ একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনী চলচ্চিত্র। সিনেমার অন্তর্জগৎ নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত একটি ট্রিবিউট ফিল্ম। চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত সময়ে সক্রিয় দুই প্রজন্মের দুজন চলচ্চিত্র নির্মাতার গল্প দেখা যাবে। যারা জন্মশতবর্ষ উদযাপনকালে সত্যজিৎ রায়ের প্রতি ভালোবাসা জানানোর কথা বলেন। তার চলচ্চিত্র, সাহিত্য, সংগীত, সৃজনশীলতার কথা বলেন। সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণ নির্মাতার মনোজগতের প্রতিচিত্র দেখানোর চেষ্টা করেন।

সিনেমায় দর্শক সত্যজিৎ রায়ের জীবনের কোনো অংশ দেখতে পাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা জানান, এটি ব্যক্তি সত্যজিৎ রায়ের জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র নয়। প্রিয় সত্যজিৎ পরবর্তী প্রজন্মের নির্মাতাদের ওপর পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের প্রভাব এবং তাদের দিক থেকে অগ্রজ নির্মাতার প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা জানানোর গল্প। সত্যজিৎ রায়ের আদি পুরুষের ভিটা ভ্রমণকালে দুই নির্মাতার ভাবনা বিনিময়ের গল্প।

তিনি আরো বলেন, প্রজন্মের একজন প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা অপরাজিতা হক প্রবীণ নির্মাতা আসিফ মাহমুদকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত সত্যজিৎ রায়ের আদি পুরুষের ভিটা দেখতে যান। ভ্রমণকালে নবীন নির্মাতার ক্যামেরায় আসিফ মাহমুদ বলে যান বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস পথের পাঁচালী অপু থেকে সত্যজিৎ রায়ের অপুর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার গল্প। ক্রমে আসিফ মাহমুদের নিজের নির্মাতা হয়ে ওঠার গল্প; রায় বাবুর অপু ট্রিলজির সঙ্গে তার নিজের জীবনের ধারাক্রম বেড়ে ওঠার গল্প। তবে আলোচনা শুধু সত্যজিৎ রায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী, সারদারঞ্জন রায়, সুকুমার রায়, হীরালাল সেন, অমর্ত্য সেন হয়ে ফাদার গাস্তঁ রোবের্জসহ আরো অনেকেই।

কিশোরগঞ্জের মসূয়ায় সত্যজিৎ রায়ের দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িসহ আরো কয়েকটি জায়গায় সিনেমাটির শুটিং করা হয়েছে। সিনেমাটির বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মাতা বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করেন বণিক বার্তার সঙ্গে। বলেন, সত্যজিৎ রায়ের জীবনের সরাসরি দর্শন এখানে দেখানো হয়নি। কিন্তু নির্মাতা হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর তার দর্শনের প্রভাব হয়তো কিছুটা আমরা দেখতে পাব। চলচ্চিত্রে প্রবীণ নির্মাতার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। নবীন নির্মাতার ভূমিকায় আছেন মৌটুসী বিশ্বাস।

সিনেমা প্রিয় সত্যজিৎ প্রেক্ষাগৃহে আসার বিষয়ে বলতে গিয়ে নির্মাতা প্রসূন রহমান বলেন, সিনেমাটি সিঙ্গেল স্ক্রিনে প্রদর্শনের কোনো সম্ভাবনা নেই। শুধু সিনেপ্লেক্সে মুক্তির প্রস্তাব রয়েছে। বড় বাজেটের, বড় দৈর্ঘ্যের সিনেমাগুলো মুক্তির মাঝেই সিনেপ্লেক্স থেকে শিডিউল পেলেই এটি মুক্তি দেয়া হবে। আপাতত সিনেপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য তারিখ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।

বাংলাদেশের সিনেমাগুলো বর্তমান সময়ে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও মুক্তি পাচ্ছে। প্রিয় সত্যজিৎ সিনেমাটিও সে পথেই হাঁটছে কিনা নিয়ে নির্মাতা প্রসূন রহমানের ভাষ্য, সিনেমাটি দেশের বাইরেও মুক্তির পরিকল্পনা আছে। আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মেও মুক্তির প্রস্তাব রয়েছে। শেষাবধি সবকিছু চূড়ান্ত হলে বিষয়ে জানানো সম্ভব হবে।

সত্যজিৎ রায়কে দেখে নির্মাতা হতে চেয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। তার নির্মিত সিনেমা বর্তমান সময়েও অনেক নির্মাতার কাজের রসদ। সিনেমাটির মধ্য দিয়ে পরিচালক প্রসূন রহমানের জীবনের প্রতিচ্ছবি উঠে আসবে কিনা জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, আমার নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়তো নয়। কিন্তু লেখক হিসেবে নিজের কাজের মধ্যে নিজের ভাবনার ছায়া পড়ে নিশ্চয়ই। হয়তো দুই প্রজন্মের দুজন নির্মাতা যা বলেছেন কিংবা বলতে চান, সেটি আমারই ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

প্রিয় সত্যজিৎ সিনেমায় তিন প্রজন্মের নির্মাতার গল্প দেখানো হয়েছে। এতে সিনেমায় একসঙ্গে তিনটি সময়ের গল্প থাকবেএমনটাই জানিয়েছেন প্রসূন রহমান। তিনি বলেন, সিনেমায় তিনটি সময়ের নির্মাতাদের গল্প রয়েছে। সময়টা একটু পেছন ফিরে দেখার চেষ্টা রয়েছে। কয়েক দশকের ছোট ছোট কিছু বিষয় আছে সহজ ভঙ্গিতে। অগ্রসর চিন্তার দর্শকদের সেসব ভালো লাগতে পারে বলে বিশ্বাস করি।

সাবিহা জামান শশী

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন


×