বুধবার | জুন ২৯, ২০২২ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯  

শেষ পাতা

অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্প মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় হচ্ছে না —বিআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বেশির ভাগ উন্নয়ন প্রকল্প মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) তাছাড়া প্রকল্প তদারকির জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই বলেও মত তাদের। গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপির কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান। সংবাদ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল জেলা প্রশাসকদের এডিপিভুক্ত শতভাগ প্রকল্পের পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং প্রথম শ্রেণীর ১৯৪টি পৌরসভার নজরদারির ক্ষমতা প্রদান: ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উন্নত রাষ্ট্র গঠনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বিআইপির প্রস্তাবনা

মেহেদী আহসান বলেন, উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় এলাকার মাস্টারপ্ল্যানের যোগসূত্রের অভাব। অন্তত ১০টি একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন, পরিকল্পিত অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের বিষয় বিবেচনা করে সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার একটি মাস্টারপ্ল্যান থাকতে হবে। এছাড়া মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকায় মাত্র শতকরা ১০ ভাগ অংশের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে এবং আগামী বছর নাগাদ সব মিলিয়ে এটার পরিমাণ হবে ১২ শতাংশ। সুতরাং বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে তেমন কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনকি ঢাকা মহানগরসহ যেসব এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে সে এলাকায় অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার সঙ্গে মাস্টারপ্ল্যানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সুতরাং এখানে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন মহাপরিকল্পনা ছাড়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়ন করা যাবে না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় নগর, অঞ্চল গ্রামীণ পরিকল্পনাবিদদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবস্থান না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিআইপির শীর্ষ নেতা আরো বলেন, সব বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিবীক্ষণ মূল্যায়নের দায়িত্ব আইএমইডি বিভাগের। বর্তমানে বিভাগে সচিবের দপ্তরে তিনজন, প্রশাসন অনুবিভাগে সাত, সমন্বয় এমআইএস অনুবিভাগে ১৩ এবং আইএমইডির আটটি সেক্টরে কর্মরত কর্মকর্তারাসহ সব মিলিয়ে ৮৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। ৮৭   কর্মকর্তা-কর্মচারী মূলত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একটি নির্দিষ্ট ক্যাডারের; যাদের অধিকাংশেরই সেক্টরভিত্তিক বিশেষজ্ঞ জ্ঞান পেশাদার সক্ষমতা নেই। সুতরাং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সময় বেশ কয়েকটি সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো সারা দেশের ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং -সংক্রান্ত শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন; মাস্টারপ্ল্যান উন্নয়ন প্রকল্পের যোগসূত্র স্থাপন, সারা দেশের ভূমি ব্যবহার ভৌত পরিকল্পনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো পুনর্গঠন এবং বিশেষজ্ঞ নিয়োগদান; বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগকে ঢেলে সাজানো; আইএমইডির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল জনবল, লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিতকরণ জেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং জেলা পর্যায়ে আইএমইডির কার্যক্রমে বিআইপির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ।

সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভা পরিচালনায় পরিকল্পনাবিদদের ভূমিকা তুলে ধরেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী আহসান। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণীর ১৯৪টিসহ মোট ৩২৮টি পৌরসভা স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা দিচ্ছে। দেশের নগর জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষ পৌর এলাকায় বাস করে। সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভাগুলোর পরিচালন আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অধিকাংশ পৌরসভার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারে না। তবে সম্প্রতি পৌরসভাগুলোয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়নের মাধ্যমে অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে।

সময় পৌরসভা পরিচালনায় বিআইপির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো পৌরসভার প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি পৌর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সম্প্রসারণ; আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি স্থানীয় পর্যায়ে সেবার মানোন্নয়ন; শক্তিশালী স্থানীয় সরকার কাউন্সিল গঠন এবং নগর গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাউন্সিলের অধীনস্থকরণ; কাউন্সিলের অধীনে পৃথক মানবসম্পদনীতি, নিয়োগবিধি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরীকরণ; ১৭২টি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় শূন্য থাকা শহর পরিকল্পনাবিদের পদে নিয়োগদানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং সব নগর গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নগর, অঞ্চল গ্রামীণ পরিকল্পনাবিদদের পদ তৈরি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন


×