শনিবার | জুলাই ০২, ২০২২ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  

সম্পাদকীয়

সময়ের ভাবনা

বন্ধ সরকারি পাটকল: লোকসান, ভর্তুকি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে

মাহা মির্জা

আমরা জানি, গত ৫০ বছরে পাটকলগুলোর লোকসানের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি বছর এ লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তাহলে প্রশ্ন করা দরকার যে এ মিলগুলো লোকসানি কেন? এগুলো কি সরকারি বলেই অবধারিতভাবে লোকসানি? নাকি এ লোকসানের পেছনে একটা রাজনীতি আছে?

আমাদের সরকারি পাটকলগুলোর লোকসানের কারণ কোনোটাই অজানা নয়। বহুদিন ধরে এ বিষয়ে নিয়ে আলাপ হচ্ছে এবং মূল যে দুটো কারণ বারবার চিহ্নিত করা হয়েছে, তা হলো এক. অব্যবস্থাপনা এবং দুই. যন্ত্রপাতির উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া। যেমন—বিজিএমসি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, বহুদিনের পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে এ কারখানাগুলো চলছে। সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে পুরনো এবং কম উৎপাদনশীল হেসিয়ান এবং সিবিসি তাঁতের পরিবর্তে কয়েকশ নতুন মডেলের আধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় তাঁত রিপ্লেস করতে পারলেই কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং উৎপাদন খরচ কমে আসবে।

এ বিষয়ে ২০০২ সালের পাটনীতিতে খুব স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘এদেশের পাটশিল্প পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে স্থাপিত মেশিনারি দ্বারা উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ... সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত হলেও পাটকলগুলোর যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণের জন্য এ পর্যন্ত কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়নি। ফলে পাটকলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে’ (দেখুন, মুহাম্মদ, ২০২০)।

তার মানে এটি স্পষ্ট যে গত পঞ্চাশ বছরে এসব রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানায় কোনো নতুন বিনিয়োগ করা হয়নি। নতুন তাঁত রিপ্লেস করা হয়নি। যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো সুষ্ঠু বিনিয়োগ করা হয়নি। নিয়মিত যন্ত্রপাতি ব্রেকডাউন হয়েছে, ঠিক সময় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঠিক সময়মতো কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনার ক্ষেত্রে পাট মন্ত্রণালয় বরাবর গাফিলতি করেছে।

২০১৭ সালে স্কপের পক্ষ থেকে খুব বিস্তারিত প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল যে সব মিলিয়ে মাত্র ১২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেই মিলগুলোর সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন এবং সংস্কার করা সম্ভব হবে। এবং এতে করে উৎপাদন খরচ কমে আসবে। তাহলে আমরা প্রশ্ন করতে পারি, গত পাঁচ দশকে এ অতিপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগগুলো কেন করা হয়নি? নতুন যন্ত্রপাতি কেন কেনা হয়নি? এ বিনিয়োগ কিন্তু অসম্ভব ছিল না। মাত্র ১২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ একটা রাষ্ট্রের জন্য মোটেও বড় কিছুই না।

ঠিক এ কারণেই অভিযোগ করা হয়, সরকারি মিলগুলোকে পরিকল্পনা করেই বন্ধ করা হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা ছিল মিলগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার। এক্ষেত্রে ৯০-এর দশকে বিশ্বব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কার প্রোগ্রামের যেমন ভূমিকা ছিল, তেমনি দেশের ভেতরের প্রভাবশালী মহলেরও চাপ ছিল। আসল কথা হলো, পাটকলগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি হওয়ার পেছনের কারণটি যত না অর্থনৈতিক তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক।

(দেখুন: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, পাটকল বাঁচাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চায় স্কপ, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯।

 বিজিএমসি। বিজিএমসি বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৭-২০১৮, ২০১৮।

http://bjmc.gov.bd/sites/default/files/files/bjmc.portal.gov.bd/annual_reports/
20945211_8a7e_4ad0_9c19_a4de29921099/Year%20Report%20PDF.pdf

 মোস্তফা, কল্লোল। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ কার স্বার্থে। সর্বজনকথা, ষষ্ঠ বর্ষ, চতুর্থ সংখ্যা। ২০২০।

https://sarbojonkotha.info/sk-24-state-owned-jute-mills-shutdown-motive/

 মুহাম্মদ, আনু। পাট, পাটশিল্প, পাটভূমি। সর্বজনকথা, ষষ্ঠ বর্ষ, চতুর্থ সংখ্যা। ২০২০)

 সরকারি মিলে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়া প্রসঙ্গে

আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি, সরকারি পাটকলগুলোকে যে প্রতি বছর ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সেই বিষয়টিকে বারবার সামনে আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা প্রয়োজন যে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানই কি রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পায়। দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন বেসরকারি খাত কি কখনো ভর্তুকি পায় না?

আমরা জানি যে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে যখন চাইনিজ পণ্যের অবাধ বাণিজ্য শুরু হলো, তখন ইউরোপ-আমেরিকার কোম্পানিগুলোর পক্ষে চাইনিজ সস্তা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ২০০৮ সালে যে অর্থনৈতিক মন্দা হয়েছিল বিশ্বব্যাপী এবং এ মন্দার যে প্রচণ্ড ধাক্কা পড়েছিল কর্মসংস্থানের ওপর, তার পর থেকে আমরা দেখেছি যে ইউরোপ আমেরিকা বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার একটা বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে মাথায় রেখে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ভর্তুকি দিয়ে থাকে।

 কারণ যেসব শিল্প এরই মধ্যে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং যেসব শিল্পের সঙ্গে একটা গোটা স্থানীয় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ জড়িত—যেমন আমাদের পাটকল ও চিনিকল, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে সাধারণত শুধু কোম্পানির লাভ-লোকসানের অংক দিয়ে বিচার করা হয় না। বরং গোটা অর্থনীতিতে ওই শিল্পের কী অবদান, শিল্পটি কতসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি করছে, তার আগে-পিছে ব্যাকওয়ার্ড ফরওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি আছে কিনা, এ শিল্পের ওপর কত হাজার স্থানীয় মানুষ নির্ভরশীল এবং এ শিল্প শ্রমিকদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আর কী কী ধরনের স্থানীয় পণ্যের বাজার তৈরি হচ্ছে, এ রকম বহু অর্থনৈতিক ফ্যাক্টর বিবেচনা করে একটা সামগ্রিক জায়গা থেকে অর্থনীতির লাভ-লোকসানের হিসাব করা হয়।

 আমরা যদি আমেরিকার ফেডারেল সরকারের ভর্তুকির তালিকাটা দেখি তাহলে দেখব আমেরিকার ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের এমন কোনো কারখানা নেই, যা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পায় না। বিশেষ করে আমেরিকার যে গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানাগুলো আছে, ফোর্ড, জেনারেল মোটর বা ক্রাইসলার, এ প্রত্যেকটি গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানিই নিয়মিত সরকারি ভর্তুকি পেয়ে থাকে। ভর্তুকি নিয়ে টিকে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে বোয়িং, ফোর্ড, জেনারেল ইলেকট্রিক ও জেনারেল মোটর, ফিয়াট ও নিশানের মতো কোম্পানি, আছে জেপি মরগান, ফেডেক্স, ওয়ালমার্ট, ওয়াল গ্রিন, নাইকি ও নেসলে। আছে গুগল, আমাজন, স্যামসাং, আইবিএম, ইন্টেল, আপেল ও ডেলের মতো কোম্পানি (দেখুন Mattera & Tarczynska, 2013; 2015)। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমেরিকার প্রায় ৫০০ বড় কোম্পানিকে মোট ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দেয়া হয়েছে (Mattera, 2014)। অর্থাৎ পরিসংখ্যান বলছে নিয়মিত রাষ্ট্রের আর্থিক সহযোগিতা না পেলে আমেরিকা-ইউরোপের বেশির ভাগ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করে টিকে থাকা সম্ভব হতো না।

 আমরা যদি চায়না, দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের শিল্পায়নের ইতিহাস দেখি, তাহলে দেখব সত্তরের দশকে তাদের সফল শিল্পায়নকে একচেটিয়াভাবে ‘ফ্রি মার্কেটে’র অবদান বলার কোনোই সুযোগ নেই। বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একের পর এক শিল্প স্থাপন, দেশীয় শিল্পের ট্যাক্স মওকুফ, দেশীয় শিল্পকে অত্যন্ত কম সুদে ঋণ দেয়া এবং দেশীয় শিল্পের গবেষণা এবং কর্মসংস্থান খাতে নিয়মিত ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে বলেই এসব দেশের সফল শিল্পায়ন সম্ভব হয়েছে।

 আবার আমরা যদি ব্রাজিল ও ভারতের এয়ারক্রাফট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকাই (ব্রাজিলের এম্ব্রেয়ের এবং ভারতের হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্যাল লিমিটেড), তাহলে দেখব যে এ প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানি ছিল, দীর্ঘদিন পর্যন্ত টানা রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পেয়েছে এবং ধীরে ধীরে দক্ষতা অর্জন করেছে। এসব প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাভ-লোকসান নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে গড়ে তোলা, টেনে তোলা বা টিকিয়ে রাখাই ছিল উদ্দেশ্য।

 বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমরা দেখব যে আমাদের গার্মেন্টস শিল্প বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে প্রায় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ‘ক্যাশ ইনসেনটিভ’ বা আর্থিক ভর্তুকি পায় প্রতি বছর। এদিকে, শুধু গত অর্থবছরেই বেসরকারি রেন্টাল কেন্দ্রগুলোকে ভর্তুকি দেয়া হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা (প্রথম আলো, ২০২০।) অর্থাৎ খেয়াল করে দেখুন, সরকারি পাটশিল্পে ৫০ বছরে ভর্তুকি ১০ হাজার কোটি টাকা, আর বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতে শুধু এক বছরেই ভর্তুকি দেয়া হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও গত এক দশকে রেন্টাল কেন্দ্রগুলোকে ভর্তুকি দেয়া হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা (শেয়ার বিজ, ২০২০)। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি পাওয়ার ইতিহাস দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।

(দেখুন: প্রথম আলো। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে আছে। ১৮ মে, ২০২০।

শেয়ার বিজ নিউজ। ভর্তুকি আর মূল্য বৃদ্ধির চক্রে বিদ্যুৎ খাত: উৎপাদন ব্যয় কমার প্রভাব নেই। অক্টোবর ২১, ২০২০।

Gang, Fan & Nicholas C. Hope. The Role of State-Owned Enterprises in the Chinese Economy. Chinafocus.com. 2013. Link:https://www.chinausfocus.com/2022/wp-content/uploads/Part+02-Chapter+16.pdf

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। লিংক: https://hal-india.co.in/Our%20History/M__111

Mattera Philip & Tarczynska Kasia. Megadeals. Good Jobs First. Washington D.C. 2013. Link: https://www.goodjobsfirst.org/sites/default/files/docs/pdf/megadeals_report.pdf

Mattera, Philip. Subsidizing the corporate one percent: Subsidz Tracker 2.0 Reveals Big-Business Dominance of State and Local Development Incentives. Good Jobs First. Washington D.C. February, 2014. https://www.goodjobsfirst.org/sites/default/files/docs/pdf/subsidizingthecorporateonepercent.pdf

Mattera, Philip &Tarczynska, Kasia.Uncle Sam's favorite corporation:

Identifzing the Large Companies that Dominate Federal Subsidies. Washington D.C. March, 2015

Link: http://www.goodjobsfirst.org/sites/default/files/docs/pdf/
UncleSamsFavoriteCorporations.pdf))

 বেসরকারীকরণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়?

বেসরকারীকরণ করার পক্ষে সবচেয়ে বড় যে যুক্তি দেয়া হয়, তা হলো বেসরকারীকরণ হলে পাটশিল্পের বিকাশ হবে এবং প্রচুর পরিমাণে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কিন্তু এ দাবিটা আসলে কতটা যৌক্তিক।

 বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশন থেকে ২০১০ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে ৭৫টি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বেসরকারীকরণ করার পর তাদের পরবর্তী অবস্থা জানতে একটি জরিপ করা হয়েছিল। এ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল টেক্সটাইল মিল, কটন মিল, স্পিনিং মিল, কেমিক্যাল কারখানা ছাড়াও বেশকিছু পাটকল, চিনিকল। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭৫টি সরকারি কারখানা বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেয়ার পর দেখা গেছে অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানই পরবর্তী সময়ে চালু করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জমি ও যন্ত্রপাতি দেখিয়ে ব্যংকঋণ নেয়া হয়েছিল এবং সেই ব্যাংকঋণ পর্যন্ত ঠিকমতো শোধ করা হয়নি। পুরনো কর্মসংস্থানগুলোও আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। কোনো ব্যক্তির গবেষণা নয় বরং সরকারি রিপোর্ট থেকেই এ তথ্যগুলো আমরা পেয়েছি। অর্থাৎ বেসরকারীকরণ করলেই যে শিল্পের বিকাশ হবে বা প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে, বাংলাদেশ বেসরকারীকরণের ইতিহাস কিন্তু সেটা বলে না।

সবশেষে আমরা বলতে চাই বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা দূরে থাক বরং একের পর এক দেশের সচল শিল্প এবং বিশালসংখ্যক সচল কর্মসংস্থান খুব পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। আমরা মনে করি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পগুলোকে বাঁচানো এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিকে বাঁচানো এ মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি কাজ।

(দেখুন:বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। বেসরকারীকরণকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সমীক্ষা, ২০১০। link: https://sarbojonkotha.info/wp-content/uploads/2020/07/Studz_Report_2010_PC.pdf

বিশ্বব্যংক। ইমপ্লিমেন্টেশন কমপ্লিশন রিপোর্ট, যেএসএসি, 1998|http://documents1.worldbank.org/curated/en/746401468013776331/pdf/multi-page.pdf))

 মাহা মির্জা: লেখক ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক গবেষক

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন