রবিবার | জুলাই ০৩, ২০২২ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে

ইভির ব্যাটারি খরচ ২২ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা

বণিক বার্তা ডেস্ক

মহামারীর শুরু থেকেই সরবরাহ জটিলতায় পড়েছে অটোমোবাইল শিল্প। চিপসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই অংশ হিসেবে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ব্যাটারির কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কারণে গাড়ির উৎপাদন খরচও বাড়ছে। নতুন একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সাল নাগাদ ইভি ব্যাটারি খরচ ২২ শতাংশ বাড়তে পারে। খবর সিএনবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোভিত্তিক গবেষণা সংস্থা -সোর্সের ব্যাটারি সলিউশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্যাম ইয়াফে বলেন, ইভি ব্যাটারির চাহিদায় সুনামি আসছে। আমি মনে করি না যে, ব্যাটারি খাত অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

বিশ্বজুড়ে উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরে ইভি ব্যাটারি সেলের দাম কমেছে। বর্তমানে ব্যাটারি সেলের খরচ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ১২৮ ডলার। আগামী বছর খরচ ১১০ কিলোওয়াট ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। যদিও হ্রাসের প্রবণতা স্থায়ী হবে না। -সোর্সের পূর্বাভাস অনুসারে, এর পর থেকেই ইভি ব্যাটারির দাম ঊর্ধ্বমুখী হবে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্যাটারি সেলের দাম ২২ শতাংশ বেড়ে যাবে। আগামী চার বছরের মধ্যে ব্যাটারির খরচ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ১৩৮ ডলারে উন্নীত হবে। এরপরে ২০৩১ সাল নাগাদ ব্যয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সময়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ব্যয় ৯০ ডলারে নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্যাম ইয়াফে বলেন, ব্যাটারি কোষ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়ামের মতো মূল কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা দাম বাড়াতে অবদান রাখছে। আক্ষরিক অর্থে বর্তমানেও কিন্তু লিথিয়ামের সংকট রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে ঘাটতি আরো তীব্র হতে চলেছে। আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে লিথিয়াম খনন না করেন তবে ব্যাটারি তৈরি করতে পারবেন না।

-সোর্স পূর্বাভাস দিয়েছে, ব্যাটারি খরচের প্রত্যাশিত বৃদ্ধি ২০২৬ সালে বিক্রি হওয়া প্রতিটি ইভির দাম হাজার ৫০০ ডলার থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, দাম বেড়ে যাওয়ায় ওই সময় গাড়ি বিক্রিও থেকে ১০ শতাংশ কমে যাবে। পরামর্শক সংস্থা এলএমসি অটোমোটিভের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ইভি বিক্রি বার্ষিক ২০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সময়ের মধ্যে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক ডজন মডেল বাজারে নিয়ে আসবে। কারণ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উৎপাদনে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছে।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরাও ইভির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্ক করেছেন। ফোর্ডের সিইও জিম ফার্লে গত মাসে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুচ্চালিত এফ-১৫০ মডেল উন্মোচনের পাশাপাশি খনন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের খননের অনুমতি দরকার। এজন্য সরকার বেসরকারি খাতকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। বিস্তৃত পদক্ষেপ ছাড়া ইভি উৎপাদন নিয়ে গভীর সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্কও নিকেল উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, আপনি যদি দক্ষতার সঙ্গে এবং পরিবেশগত সংবেদনশীল উপায়ে নিকেল খনন করেন, তবে টেসলা আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি বড় ধরনের চুক্তি দেবে।

-সোর্স বলেছে, গত ১৮ মাসে লিথিয়ামের দাম প্রায় ৯০০ শতাংশ বেড়েছে। আমরা ধরে নিয়েছিলাম সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক ডজন নতুন লিথিয়াম খননের প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। পরিবর্তে খাতটি ছোট কয়েকটি বিনিয়োগ পেয়েছে। যদিও এগুলোর বেশির ভাগই চীন থেকে এসেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন