শনিবার | জুলাই ০২, ২০২২ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  

দেশের খবর

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ধসে পড়েছে সেতু

হাওর ভ্রমণে বিরত থাকতে প্রশাসনের অনুরোধ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

পানির চাপে ভেঙে পড়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার পানাইল সেতু ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার নিচে নামলেও প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। জেলা শহরের নবীনগর, তেঘরিয়া, উত্তর আরপিননগর, বড়পাড়া, নতুনপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা হাঁটু পর্যন্ত পানি হয়েছে। এতে শহরবাসী পড়েছে ভোগান্তিতে। অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার কয়েক লাখ মানুষ। এদিকে  গতকাল দোয়ারাবাজার উপজেলার পানাইল সেতু পানির চাপে ভেঙে গিয়েছে।

পানির স্রোতে জেলার অনেক উপজেলার রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ভেঙে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাওরবাসীকে। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে জেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার। এদিকে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ালিয়া ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের সেতু গতকাল পানির চাপে ভেঙে গেছে। 

গতকাল সকালে সুরমা নদীর পানি বিপত্সীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার যাদুকাটা, মহাসিং, মনু, ধলাই, পিয়াইনসহ বিভিন্ন শাখা নদীর পানিও বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদরের ১৮টি, ছাতক উপজেলার ১৭২টি, দোয়ারাবাজার উপজেলার ২৪টি, তাহিরপুর উপজেলার পাঁচটি শান্তিগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার মোট ২২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যালয়ে হাঁটুপানি থাকায় জেলার ২৮টি বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। ২৮টি বিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

দোয়ারাবাজার উপজেলার শ্যামলবাজারের ব্যবসায়ী এখলাছুর রহমান রাজু বলেন, পানাইল সেতু ভেঙে যাওয়ায় দোয়ারাবাজার ছাতক উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

শাল্লার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, বর্ষায় এমনিতে ভোগান্তিতে থাকতে হয় আমাদের। এবারের বন্যায় আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অনেকদিন পানি কমছে না, শুধু বাড়ছেই।

তাহিরপুর উপজেলার মনিরাজ বলেন, প্রতিদিন বৃষ্টির সঙ্গে বজ পাত হচ্ছে। কোনো না কোনো স্থানে মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু বজ পাত রোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবারও তাহিরপুরে বজ পাতে চারজন মারা গেছেন। বজ পাত রোধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল সিদ্দিক বলেন, সব নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টি কমলে হয়তো হাওর নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। এরই মধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চলের পাশাপাশি উঁচু এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে হাওরের পর্যটনখ্যাত জেলা তাহিরপুর উপজেলায় দুর্যোগ মুহূর্তে ভ্রমণে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির -সংক্রান্ত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, জরুরি ঘোষণা উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার প্রতিটি নদনদী, হাওর খালবিল কানায় কানায় ভরপুর রয়েছে। বর্তমানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং সময় নদী হাওরের পানিতে প্রচুর ঢেউ হচ্ছে যা চলাচলকারী নৌকাগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি ব্যাপক বজ্রপাত সংঘটিত হচ্ছে। ফলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় নদী হাওরে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ করে পর্যটকদের অনুরোধ করা হলো।

ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা কথা ভেবেই আমরা বর্তমানে হাওরে ভ্রমণে না আসতে অনুরোধ জানিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সব উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, নগদ টাকা চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা করে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন