সোমবার | মে ২৩, ২০২২ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

খবর

সম্পাদক পরিষদের আলোচনা সভা

স্বাধীন সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার অন্যতম অন্তরায় ডিএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে আজ শনিবার সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় বক্তারা

ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) প্রণয়ন করা হলেও এর সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর। এ আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আইনটির ২০টি জায়গায় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যার ১৪টিই জামিনঅযোগ্য। প্রণয়নের পর গত চার বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ আইনের যথেচ্ছা ব্যবহার করা হচ্ছে। সর্বোপরি দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট। 

সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন । রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সঞ্চালনায় ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ, সম্পাদক পরিষদের সহসভাপতি ও দ্য নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর, সহসভাপতি ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কোষাধ্যক্ষ ও মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু। 

সভাপতির বক্তৃতায় মাহফুজ আনাম বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশা বিকশিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ আইনে বিশ জায়গায় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যার ১৪টিই জামিনঅযোগ্য। একজন সাংবাদিক হিসেবে কি অপরাধে অপরাধী যে আপনাকে জামিনও দেয়া যাবে না। গত চার বছর সুস্পষ্টভাবে এ আইনের প্রয়োগ দেখা গিয়েছে। এর প্রয়োগ হচ্ছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি, ডিএসএ আমাদের সাংবাদিকতা, আমাদের মত প্রকাশ ও পেশাগত বিকাশের ক্ষেত্রে সাংঘাতিক অন্তরায় একটি আইন। আমরা বহুবার বলেছি, এ আইনে একটি ধারা যোগ করলেই হয় যে, এ আইন সংবাদপত্র এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে না। এটা করলেই হয়। এটার আমাদের দাবির পরও মানা হয়নি। এখন এ আইনের সুষ্ঠু সংশোধন না হলে এ আইন বাতিলের দাবির দিকে যেতে হবে। 

ডেইলি স্টার সম্পাদক আরো বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এত আইন কেন? পুরনোগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিফেমেশন ল, অফিসিয়াল সিক্রেসি, কনটেম্পট অব কোর্ট। নতুন আইনের মধ্যে রয়েছে আইসিটি অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি, গণমাধ্যমকর্মী আইন, ডেটা প্রটেক্ট ল, ওটিটি। এ সমস্ত আইনের নাম ভিন্ন হলেও, এগুলোর প্রয়োগের যে পরিধি সেখানে ঘুরেফিরে মতপ্রকাশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এগুলো সৃষ্টিশীল কাজের প্রতিবন্ধক। প্রশ্ন হলো— স্বাধীন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে এত আইন কেন? আমরা কি করি? যার জন্য এত আইন দিয়ে আমাদের হাত-পা বেধে দিতে হবে। এখন আবার গণমাধ্যম আদালত, আপিল আদালত— এমন নানা আদালত সৃষ্টি কর গণমাধ্যমের হাত পা আরো বেশি বেধে দেয়ার প্রয়াস হচ্ছে। আমার একটি সহজ বক্তব্য, গণমাধ্যমের হাত পা বেধে দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ হবে না। গণতন্ত্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একটি চেতনা, একটি স্বপ্ন। তাই আমি মনে করি, গণমাধ্যমের হাত পা বেধে গণতন্ত্রকে ব্যহত করার চেষ্টা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন