শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

খবর

বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ-এর সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ-২০২২’ এর অষ্টম আসরের চূড়ান্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর আইটিএন সেমিনার রুমে এবারের আয়োজনের সমাপনী পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। 

এবারের আসরের মূল প্রতিপাদ্য ছিলো ‘আজকের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা প্রদান, আগামীর পানির উন্নয়ন সাধন’, যা পানির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান তারুণ্যের সংযোগ ঘটানোর গুরুত্বকে তুলে ধরে। এবার সমাপনী পর্বের ফাইনাল পিচিং রাউন্ডের জন্য পুরো দেশ থেকে চূড়ান্তভাবে দশটি দল বাছাই করা হয়। প্রতিযোগিতাটির বিচারকার্য ও পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। 

এই প্যানেলের সদস্য হিসেবে ছিলেন আইটিএনের ডিরেক্টর ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ, বুয়েটের শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস সারওয়ার, বেক্সিমকো হেলথ অ্যান্ড পিপিই’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও বুয়েটের রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খান, ওয়াশ, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর কারিগরি উপদেষ্টা মো. তাহমিদুল ইসলাম, এজেন্স ফ্র্যাঞ্চাইজ দ্য ডেভেলপমেন্ট (এএফডি)-এর প্রকল্প কর্মকর্তা সুমন কান্তি নাথ, ওয়াশ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর প্রকল্প কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার এবং ঢাকাস্থ সুইডিশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মার্টিনেজ বেক্সট্রম।

ফাইনাল রাউন্ডে মনোনীত প্রতিযোগীরা ভিজ্যুয়াল পোস্টার উপস্থাপন করেন এবং পিচিং রাউন্ডে অংশ নেন। রাউন্ডটি অনবদ্য ছিল এবং একই সঙ্গে তাদের উপস্থাপনা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। 

জুরি সদস্য ড. মহিদুস সামাদ খান প্রতিযোগীদের সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যত বেশি সময় পার হচ্ছে, অংশগ্রহণকারীরা ততই শক্তিশালী আইডিয়া উপস্থাপন করছে। বিচারকদের জন্য কে ভালো করছে না তা নির্ধারণ করাই আজকে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। 

ঢাকাস্থ সুইডেনের দূতাবাসের এম্ব্যাসেডর মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম ইভেন্টটি সম্পর্কে বলেন, অংশগ্রহণকারীদের  চিন্তাভাবনা এবং প্রত্যয় প্রশংসনীয়। তাদের এই আইডিয়াগুলো সত্যিই যুগোপযোগী। যদি সম্ভব হত তবে আমরা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকেই সুইডেনে আমন্ত্রণ জানাতাম, কারণ তাদের উপস্থাপনকৃত আইডিয়াগুলোর মধ্যে কোনটিই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

গত বছর ডিসেম্বরে প্রতিযোগিতাটির অষ্টম আসরের উদ্বোধনের পর থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যপক সাড়া পাওয়া যায়। স্ক্রিনিং শেষে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ২১টি প্রজেক্ট পেপার থেকে পরবর্তীতে ১০টি প্রজেক্ট পেপার চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য মনোনয়ন লাভ করে।

প্রতিযোগিতায় পানি সংক্রান্ত সমস্যায় একজন প্রতিযোগীর প্রস্তাবিত সম্ভাব্য টেকসই, ব্যতিক্রমী, আর্থিকভাবে লাভজনক সমাধানের আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে বিজয়ী নির্ধারিত হয়।

 ১৫-২০ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের চিন্তাচেতনার প্রকাশ ঘটানো এবং বাস্তবিক অর্থে এর প্রতিফলন ঘটানোই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। আলোচ্য প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীরা বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে আগস্টে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিতব্য ‘স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজে’ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

চূড়ান্ত প্রতিযোগিতাটি বিচারকমণ্ডলী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ, ভলান্টিয়ার ও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সমাপ্ত হয়। ‘হাউজ অব ভলান্টিয়ারস বাংলাদেশ’  এই প্রতিযোগিতায় ‘এসজেডব্লিউপি’ মনোনীত মূল সংগঠক হিসেবে এবং ওয়াটার-এইড বাংলাদেশ সহযোগী সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আয়োজনটিতে স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিলো নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড, টেকনিক্যাল, টেকনোলজিক্যাল এবং মিডিয়া সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলো যথাক্রমে এসটেক্স, মিয়াকি এবং বিডিনিউজ ২৪.কম।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন