শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

শেয়ারবাজার

প্রথম প্রান্তিক

বিএটিবিসির আয় কমেছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আয় কমেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় তামাক খাতের বহুজাতিক জায়ান্ট কোম্পানিটির আয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা কমেছে। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে আয়ের চিত্র উঠে এসেছে। তবে আয় কমলেও প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় সাড়ে শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মূলত উৎপাদন খরচ পরিচালন ব্যয় কমে আসায় আয় কমলেও নিট মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে কোম্পানিটি।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিএটিবিসির আয় হয়েছে হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে শতাংশের বেশি। টাকার অংকে যা ৭৮৬ কোটি টাকা। সময়ে কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৮৯৭ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে খাতে ব্যয় ছিল ৯৬৭ কোটি টাকা। আর পরিচালন ব্যয় হয়েছে ১৬২ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছর যা ছিল প্রায় ২৩৫ কোটি টাকা। ফলে উৎপাদন পরিচালন ব্যয় কমে আসায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিএটিবিসির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪১৬ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৩৮৭ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানটির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বা দশমিক ৬৮ শতাংশ। আলোচ্য প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে টাকা ৭৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল টাকা ১৭ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২২ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ৮৬ পয়সায়। 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৭৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১৫০ শতাংশ নগদ চূড়ান্ত বাকি ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ। সমাপ্ত হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস হয়েছে ২৭ টাকা ৭২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ১৬ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে টাকা ৫৬ পয়সা বা সাড়ে ৩৭ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ১৩ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৬২ টাকা ৯৬ পয়সা।

এর আগে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫০০ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ দিয়েছিল বিএটিবিসি। এর মধ্যে ৩০০ শতাংশ নগদ ২০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। এর আগে আলোচ্য হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ৩০০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সব মিলিয়ে ওই হিসাব বছরের জন্য ৮০০ শতাংশ লভ্যাংশ পান কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। আলোচ্য হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস ছিল ৬০ টাকা ৪৮ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫১ টাকা ৩৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৮৮ টাকা ৮৯ পয়সা। যা আগের হিসাব বছর শেষে ছিল ১৯৮ টাকা ৮৫ পয়সা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন