রবিবার | জুলাই ০৩, ২০২২ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  

সম্পাদকীয়

পাঠকমত

ছোট যানবাহন মহাসড়কে চলা বন্ধ করতে হবে

ঈদ সামনে রেখে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ে। বাড়তি চাপ পড়ে সড়ক ব্যবস্থার ওপর। ঘটে অনেক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি বুয়েটের একদল গবেষক তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছেনএবারের সড়ক ব্যবস্থার অবস্থা আরো খারাপ হবে। ঈদযাত্রা কীভাবে নিরাপদ করা যায়তা নিয়ে লেখা পাঠিয়েছেন অনেকে। সেখান থেকে নির্বাচিত কিছু লেখা নিয়ে সাজানো হলো আজকের পাঠকমত 

ঈদে বাড়ি ফেরার আমেজ সবার মাঝেই বিদ্যমান। শিকড়ের টানে সবাইকেই যেন বাড়ি ফিরতে হয়। বছরে দুই ঈদে সবার মাঝে বাড়ি ফেরার প্রবণতা কাজ করে। হাজার বাধা পেরিয়ে ঈদের দিন রাতটুকু কাটানোর জন্য শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হতে পারলে যেন এক তৃপ্তি অনুভব হয়। যুগ যুগ ধরে মানুষ এটিই গ্রহণ করে আসছে। ঈদের দিন এবং রাতটুকু কাটানোর জন্য নিজ ঘর ছাড়া অন্য কোথাও ঈদের আনন্দ নেই।

বাংলাদেশের জনবহুল শহরগুলোর মাঝে ঢাকা, চট্টগ্রাম অন্যতম। গ্রামগঞ্জে বা আশপাশের ছোট ছোট শহর থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে বড় শহরের দিকে ছুটে যায়। কেউবা ছুটে পড়াশোনার তাগিদে, কেউবা ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা চাকরির জন্য। জনবহুল শহরগুলোয় পুরো বছর মানুষের ভিড় জমে। কিন্তু ঈদের কিছুদিন আগে শহর যেন হয়ে পড়ে জনমানবশূন্য। সবাই বাড়ি ফিরতে ব্যস্ত। কোনো দুর্ঘটনা ব্যতীত শহরের অস্থায়ী সব ঈদ উপলক্ষে নিজ বাড়ির দিকে রওনা করে। একসঙ্গে এত মানুষের ঘরে ফেরা যেন পরিবহনের ওপর এক বিশাল চাপ হয়ে ওঠে। এজন্য প্রতি ঈদে পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন দুর্ঘটনার কথা শোনা যায়।

ঈদে দুর্ঘটনার প্রবণতা খুবই বেড়ে যায়। জনবহুল দেশে ঈদে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে যত মানুষ যানবাহনে চলাচল করে, সে পরিমাণে পরিবহন, রাস্তাঘাট, এমনকি দক্ষ চালকের এক বিশাল স্বল্পতা রয়েছে। এছাড়া ঈদের সময় সব রকমের গাড়ি, লঞ্চ এমনকি নিষিদ্ধ যানবাহনও রাস্তাঘাটে দেখা যায়। যেসব যানবাহন চলাচলের অযোগ্য, দ্রুত মেরামত প্রয়োজন, সেগুলোও যেন অপেক্ষায় থাকে ঈদ শেষে মেরামত হবে। এসব যানবাহনে অদক্ষ চালক, কর্মরত শ্রমিকের দক্ষতার অভাব সব মিলিয়ে যেন এক নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করে। ঈদে যানবাহনে বকশিশের নামে অতিরিক্ত কিছু টাকা ধার্য করা হয়। বেশি টাকার আশায় যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়। এই অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একসময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া মানুষের ভিড়ের কারণে, দ্রুত বাড়ি ফেরার প্রয়োজনে অনেকেই যেকোনো ধরনের পরিবহন বেছে নেয়। নিষিদ্ধ যানবাহন, যেমন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নছিমন এমনকি খোলা ট্রাকের ওপর মানুষ দাঁড়িয়ে আসতে থাকে। ফলে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়।

স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আমাদের সবকিছুতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও এসবের উত্তম ব্যবহার করে আমাদের নিরাপদে চলতে হবে। ঈদে বাড়ি ফেরার আগে সবাই একযোগে না ফিরে একটু আগে কিংবা পরে ফিরলে সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে। বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন। এছাড়া বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চে যাতায়াতের সময় অবশ্যই যেসব কোম্পানি দক্ষ চালক কর্মচারী সরবরাহ করে, তাদের পছন্দ করা প্রয়োজন। ট্রেনে যাতায়াতের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ক্রমেই ছাদে কিংবা ঝুলে ঝুলে আসা বর্জন করা জরুরি। এছাড়া নিষিদ্ধ কোনো যানবাহনে ওঠা একদম উচিত নয়। সর্বোপরি নিজের সতর্কতা অবলম্বন সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেও নিরাপদে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করা যায়।

এছাড়া রাস্তাঘাটের প্রশস্ততা বৃদ্ধি, পরিবহনে কর্মরত সবার দক্ষতা অনুযায়ী প্রবেশ, আইনের প্রয়োগ, নির্দিষ্ট স্থানে ট্রাফিক কন্ট্রোলসহ লঞ্চ ট্রেনের ভ্রমণ নিরাপদ করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে নিরাপদে বাড়ি ফেরা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে পড়বে। সর্বোপরি বিষয়ে সবার সচেতনতা জরুরি।

 

আবু সুফিয়ান সরকার: শিক্ষার্থী

সমাজকর্ম বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন