শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

শেষ পাতা

২০২১-২২ অর্থবছর

অতিরিক্ত হাজার কোটি টাকা চায় নির্বাচন কমিশন

মেসবাহুল হক

নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে সরকারি ব্যয় কমাতে ভ্রমণ ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। বিষয়ে গত বছরের জুলাইয়ে পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। তবে বরাদ্দ ভ্রমণ ব্যয়ের পুরোটাই খরচ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সে অনুমতি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২১-২২ অর্থবছরে সাড়ে চার হাজার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বরাদ্দের চেয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা চেয়েছে সংস্থাটি। বরাদ্দ চেয়েও মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মহামারী পরিস্থিতির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে হাজার ৮০০টি স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর ওইসব নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা-জেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ উপনির্বাচনসহ প্রায় সাড়ে হাজার নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে কমিশনকে। এসব নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হবে। তাই চলতি বাজেটে বরাদ্দের অতিরিক্ত প্রায় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বাজেটে নির্বাচনী ব্যয় বাবদ কমিশনের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা, যা দিয়ে এত নির্বাচনের ব্যয় বহন সম্ভব না। সে কথা জানিয়ে আরো হাজার ৮৯ কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা অতিরিক্ত চেয়েছিল কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ ডিসেম্বর সংস্থাটিকে ১৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয় অর্থ বিভাগ। তবে সম্প্রতি আরো ৯৩৯ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ সচিবের কাছে চিঠি লিখেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

চিঠিতে বলা হয়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ উপনির্বাচনসহ হাজার ৪৭১টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিদ্ধান্ত থাকলেও কভিড-১৯-এর কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে হাজার ৮০০টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। ফলে বছর নির্বাচনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই চলতি অর্থবছরে খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

এতে আরো বলা হয়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিশেষ কার্যক্রম নির্বাচন খাতে ৮৬৪ কোটি ৮৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত বাজেট বরাদ্দের চাহিদা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচন ব্যয় খাতে ৪১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু গত অর্থবছরে অনুষ্ঠিত না হওয়া নির্বাচনসহ চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সাধারণ উপনির্বাচন পরিচালনা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যয় বাবদ হাজার ৫০৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে জানিয়ে বরাদ্দকৃত ৪১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার টাকার অতিরিক্ত হাজার ৮৯ কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। সে পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ ডিসেম্বর অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে ১৫০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নির্বাচনা ব্যয় খাতে আরো ৯৩৯ কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সংস্থান রাখার অনুরোধ জানানো হলো।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর মোট হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৫০০ ইউনিয়নের নির্বাচন হবে ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) মাধ্যমে বাকি হাজার ৮০০ ইউনিয়নের নির্বাচন হবে ব্যালট পেটারের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ব্যালট পেপারের তুলনায় ইভিএমে নির্বাচন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। প্রতিটি ইউনিয়নে ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। হিসেবে ৫০০টি ইউনিয়নে নির্বাচনে ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যালট পেপারে নির্বাচনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী হাজার ৮০০টি ইউনিয়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে হাজার ৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে নির্বাচন দুটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও ৪০টি উপজেলা, ৬৪টি জেলা পরিষদ নির্বাচন ৫০টি পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া আরেক চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর অনুকূলে চলতি অর্থবছরে ভ্রমণ ব্যয় খাতে ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু গত বছরের জুলাই অর্থ বিভাগ সরকারি ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ স্থগিত রাখার বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে। সে অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে ৫০ শতাংশ স্থগিত রেখে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু জরুরি অপরিহার্য ছাড়া ভ্রমণ পরিহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের উপনির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনের জন্য  ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণসহ ঢাকা থেকে নির্বাচনী মালামাল গ্রহণ বিভিন্ন নির্বাচনে প্রশিক্ষণ উপলক্ষে জেলা-উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষক হিসেবে ভ্রমণ করতে হচ্ছে।

তাছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রমকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জরুরি সেবা ঘোষণা করায় কভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও সচিবালয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এসব কাজে সচিবালয় মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিল বকেয়াও রয়েছে। কারণে অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা রয়েছে। তাই ভ্রমণ খাতে বরাদ্দ অর্থের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত রাখার বিষয়টি কমিশনের ক্ষেত্রে শিথিল করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বণিক বার্তাকে বলেন, চলতি অর্থবছরেই প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পাশাপাশি অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনও করতে হবে। এসব নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যয়ের জন্যই আমরা হাজার ৮৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা চেয়েছিলাম। প্রথম দফায় অর্থ বিভাগ ১৫০ কোটি টাকা ছাড় করেছে। আশা করছি অর্থ বিভাগ আমাদের প্রস্তাব অনুযায়ী পুরো অর্থ দেবে। কারণ আমাদের ব্যয়টি যথাযথই আছে। এছাড়া সময় অনুযায়ী নির্বাচনও সম্পন্ন করতে হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা খাতে ব্যয় ধরা হয় ৪১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। বাকি অর্থ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে। এর আগে ২০২০-২১ সালের সংশোধিত বাজেটে হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন