শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

খবর

রাজধানীতে বাড়ানো হচ্ছে সড়ক খননের ক্ষতিপূরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৭ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয় রাজধানীর সড়ক খননের ক্ষতিপূরণ। এই রেট শিডিউলে বিটুমিন, ইট, পাথর, বালি, শ্রমিকসহ বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণের যে দাম ধরা হয়েছে, বর্তমান বাজারদর তার চেয়ে বেশিএমন যুক্তিতে সড়ক খননের ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দুই সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবের আলোকে ক্ষতিপূরণের নতুন রেট শিডিউল নির্ধারণ করে সম্মতির জন্য তা এরই মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে সড়ক খননের ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা আপত্তি তুলেছে রাজধানীর বিভিন্ন পরিষেবা সংস্থা। সড়ক খননের নতুন রেটকে একটু বেশি উল্লেখ করে তা বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

রাজধানীতে সড়ক খনন করে মূলত ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) তিতাস গ্যাসের মতো পরিষেবা সংস্থা। খননের পর সড়ক মেরামতের জন্য নির্ধারিত রেট শিডিউল ধরে হিসাব করা হয় ক্ষতিপূরণ ফি, যা আদায় করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সড়ক খননকাজ শুরুর আগেই জমা দিতে হয় ক্ষতিপূরণ। সঙ্গে দিতে হয় সমপরিমাণ জামানত।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যখন কোনো পরিষেবা সংস্থা একটি সড়ক খননের উদ্যোগ নেয়, তখন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন সড়ক খনন করা হবে, কত দৈর্ঘ্য, প্রস্থ গভীরতায় খনন করা হবে এবং কী পরিমাণ সড়ক খনন করা হবে তা বিবেচনায় নেয়া হয়। এর ভিত্তিতে খনন করা সড়ক মেরামত করার জন্য নির্মাণ উপকরণ শ্রমিকের প্রাক্কলন করা হয়। প্রাক্কলিত নির্মাণ উপকরণ শ্রমিকের দাম নির্ধারণ করা হয় রেট শিডিউল ধরে।

ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা ২০১৯-এর আলোকে ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধিক্ষেত্রে সড়ক খনন ক্ষতিপূরণ ফি এর রেট চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্প্রতি একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান সড়ক খনন রেট শিডিউলটি ২০১৭ সালে করা হয়। বর্তমানে বিটুমিন, ইট, সিমেন্ট শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বাড়ায় ২০১৯ সালের রেট শিডিউল সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা জানান, সড়ক খনন ক্ষতিপূরণ ২০২১ সালের রেট শিডিউলটি বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বেশি করা হয়নি।

তবে সভায় উপস্থিত ঢাকা ওয়াসার প্রতিনিধি জানান, প্রস্তাবিত সড়ক খনন রেট শিডিউলটি (২০২১) বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী একটু বেশি। এজন্য তিনি বাস্তবতার নিরিখে রেট শিডিউল নির্ধারণের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ওই রেট শিডিউল তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়েরও অনুরোধ জানান তিনি। একইভাবে সড়ক খননের জন্য জামানত নিয়েও আপত্তি তোলেন ঢাকা ওয়াসার প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা শহরের পানি সরবরাহ পয়োনিষ্কানের জন্য প্রকল্প নিয়ে থাকে। এসব প্রকল্প সাধারণত পাঁচ বছর মেয়াদি হয়। প্রকল্প শেষের পর সড়ক খননের জামানত নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।

একই ধরনের সমস্যার কথা জানান বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক . রফিকুল মতিন। তিনি বলেন, ফাইবার লে-এর লাইন নিতে হলে সিটি করপোরেশনকে ক্ষতিপূরণ সমপরিমাণ জামানত দিতে হয়। বিটিসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে জামানতের অর্থ নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্পের মেয়াদ শেষে জামানতের অর্থ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। জটিলতা নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন