রবিবার | মে ২২, ২০২২ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

শেয়ারবাজার

সপ্তাহজুড়ে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা

সূচক ও লেনদেন দুটোই কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাপ্তাহিক লেনদেনে টানা উত্থানের পর আবারো পতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। গত সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। যার প্রভাব পড়েছে সূচক লেনদেনে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে দশমিক ১০ শতাংশ। আর লেনদেন কমেছে ২৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। সময় কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরও। সূচক লেনদেনে নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই) 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ৭৮ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে সূচকটি হাজার ২৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল হাজার ১০৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে। সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বেক্সিমকো, ব্র্যাক ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মা, এসিআই, গ্রামীণফোন বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার।

গত সপ্তাহে ডিএসইর অন্য সূচকের মধ্যে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৩ দশমিক শূন্য পয়েন্ট বা দশমিক ২৫ শতাংশ কমে হাজার ৬০২ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে হাজার ৪৯৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল হাজার ৫০৮ দশমিক ৪০ পয়েন্টে। 

গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট হাজার ১৪৯ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন কমেছে প্রায় হাজার ৯৪ কোটি টাকা বা ২৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। সময়ে টাকার অংকে ডিএসইর গড় লেনদেনও কমেছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে হাজার ২২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন ছিল হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন কমেছে ৪১৮ কোটি টাকা।

গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল বিবিধ খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক শতাংশ ছিল খাতটির দখলে। ১২ দশমিক শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। ওষুধ রসায়ন খাত ১১ দশমিক শতংশ নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। পরের অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের দশমিক শতাংশ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে খাদ্য আনুষঙ্গিক খাত। খাতটির লেনদেন ছিল দশমিক শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা অন্য খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি, সাধারণ বীমা ব্যাংক খাত।

ডিএসইতে খাতভিত্তিক ইতিবাচক রিটার্নে গত সপ্তাহে শীর্ষে ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। খাতটিতে গত সপ্তাহে রিটার্ন এসেছে শতাংশ। এরপরে রয়েছে সিরামিক খাত, দশমিক শতাংশ। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতে ইতিবাচক রিটার্ন হয়েছে দশমিক শতাংশ। এছাড়া চামড়া, সাধারণ বীমা বস্ত্র খাতেও ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে বিবিধ খাতে, দশমিক শতাংশ। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ভ্রমণ খাত, শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সেবা খাতে রিটার্ন এসেছে দশমিক শতাংশ। এছাড়া পাট, সিমেন্ট, প্রকৌশল টেলিকম খাতে উল্লেখযোগ্য ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে।

সূচক লেনদেনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনও কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন ছিল লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহ শেষে যা কমে দাঁড়িয়েছে লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে হাজার ৩৩২ কোটি টাকা বা দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৯টির, কমেছে ২৬৮টির, অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। আর লেনদেন হয়নি ৪টির শেয়ার।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে সমাপনী দরের ভিত্তিতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স। ১৬ জানুয়ারি কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে। শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে বাকিগুলো হলো যথাক্রমে কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, বিডি ল্যাম্পস, ইয়াকিন পলিমার, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, মালেক স্পিনিং মিলস, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল টি কোম্পানি, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে সমাপনী দরের ভিত্তিতে দরপতনে শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো যথাক্রমে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস, কাট্টলী টেক্সটাইল, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস, গোল্ডেন সন, একমি পেস্টিসাইডস, মুন্নু ফ্যাব্রিকস, জুট স্পিনার্স জিবিবি পাওয়ার।

সাপ্তাহিক লেনদেনে গত সপ্তাহেও শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেড। ডিএসইর মোট লেনদেনের দশমিক ৯০ শতাংশই ছিল কোম্পানিটির দখলে। লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির বাকিগুলো হলো যথাক্রমে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, আরএকে সিরামিক (বাংলাদেশ), ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ফরচুন সুজ, এপেক্স ফুটওয়্যার, ফু-ওয়াং ফুড ওরিয়ন ফার্মা।

অন্যদিকে সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ১৭৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ২৩০ কোটি টাকার। গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ১১ শতাংশ কমে ২০ হাজার ৫৮৬ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২০ হাজার ৮১৭ দশমিক ১৭ পয়েন্টে। আলোচ্য সময়ে সিএসইতে মোট ৩৫০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৪টির। কমেছে ২৩৫টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির শেয়ারদর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন