সোমবার | মে ২৩, ২০২২ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

টেলিকম ও প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন

সহসাই কাটছে না চলমান চিপস্বল্পতা

বণিক বার্তা ডেস্ক

সেমিকন্ডাক্টর খাত নিয়ে গত বছর পরিচালিত একটি গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেমিকন্ডাক্টর খাতে কংগ্রেসের অর্থায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গতকাল ছয় পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ প্রকাশের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো জানান, বর্তমানে চিপস্বল্পতা এত জটিল আকার ধারণ করেছে যে তা সহসাই কাটছে না। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট রয়টার্স।

করোনাকালে চিপস্বল্পতায় গাড়ি নির্মাণসহ অন্যান্য খাতে নেতিবাচক প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত সেপ্টেম্বরে সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা সরবরাহ চেইনে থাকা অন্যান্য কোম্পানির কাছে তথ্য শেয়ারের আহ্বান জানায় তারা। বিভিন্ন কোম্পানির সহায়তা পেলেও বিস্তারিত জানায়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি চিপ ম্যানুফ্যাকচারাররা শঙ্কা প্রকাশ করেন, ২০২৩ সালের শুরু নাগাদ সরবরাহ চেইন সংকট বহাল থাকবে।

১৫০ কোম্পানির ওপর পরিচালিত জরিপের ফল প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো জানান, সহসাই চিপ সংকট কাটছে না। দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল চূড়ান্তের বিষয়টি এগিয়ে নিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান রাইমন্ডো। ইউএস ইনোভেশন অ্যান্ড কম্পিটিশন অ্যাক্ট (ইউএসআইসিএ) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালে চিপের চাহিদা বেড়েছে ১৭ শতাংশ। তবে ক্রয়াদেশকৃত চিপ ডেলিভারি দিতে আগে যেখানে ৪০ দিন পাওয়া যেত, সেখানে বর্তমানে তা পাঁচদিনে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ কারখানা ৯০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এজন্য বিদ্যমান কারখানা দিয়ে চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। বর্ধিত চাহিদা পূরণে নতুন চিপ কারখানা স্থাপন জরুরি বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ওহাইওতে নতুন একটি চিপ কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ইন্টেল। হাজার কোটি ডলারে নির্মিত কারখানাটি ২০২৫ সালে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি ভর্তুকি পেলে নির্মাণকাজ আরো এগিয়ে যাবে বলে জানান ইন্টেলের সিইও।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বৈশ্বিক চিপ বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার হিস্যা ছিল ৩৭ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক চিপ উৎপাদনের ৭৫ শতাংশ হিস্যা এখন পূর্ব এশিয়ার। সবচেয়ে অগ্রসর চিপের ৯০ শতাংশ তৈরি হচ্ছে তাইওয়ানে। করোনা পরিস্থিতিতে সরবরাহ চেইন সংকট এবং তাইওয়ান নিয়ে চীনের পলিসি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই চিপ নির্মাণে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন।

ইউএস হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি গত সপ্তাহে জানান, শিগগিরই প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। ফেব্রুয়ারিতেই হাউজ ফ্লোরে ভোটাভুটি হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 

সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতো কিছু রাজনীতিবিদ অবশ্য চিপ নির্মাতা কোম্পানিকে ভর্তুকির বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এমনিতেই বেশ লাভজনক। সেখানে রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজন নেই।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী রাইমন্ডো বলেন, এশিয়ার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা স্থাপন অনেক ব্যয়বহুল। যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপনে চিপ নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে চাইলে তাদের ভর্তুকি দিতে হবে। চিপ সংকট এখন শুধু অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটা জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু। সামরিক উপকরণ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাপ্লিকেশনের জন্য হাই-টেক চিপ প্রয়োজনীয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন