শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

প্রথম পাতা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য চত্বর। শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে টানানো অসংখ্য প্ল্যাকার্ড-পোস্টার। তার সামনে ব্যালে নৃত্যকলার ছন্দে উড়ছে এক কুশলী। এ যেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংকট থেকে মুক্তির প্রতীকী উড়াল। ছবি: জয়িতা তৃষা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে বিবেকবান নাগরিক সমাজ নামের একটি জোট। আজ জোটের সদস্যরা রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করবেন। অন্যদিকে, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে তাদের অনশন চলছে।

লংমার্চের বিষয়ে জানিয়ে গতকাল বিকালে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খানসহ দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতিতে বলা হয়, শাবিপ্রবির উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চলছে। দীর্ঘ অনশনে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ অনশন ভাঙাতে বা দাবি পূরণের আশ্বাস নিয়ে আসেননি। টানা অনশনে শিক্ষার্থীরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছেন। এভাবে চলতে পারে না। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করা। সেজন্যই লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক, চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে লংমার্চ সফল হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিবেকবান নাগরিক সমাজ।

অন্যদিকে টানা সপ্তম দিন পরেও অনশন ভাঙবেন না বলে জানিয়েছেন ২৮ শিক্ষার্থী। গতকাল রাত সোয়া ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কথা জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, অনশনকারীরাও চালিয়ে যাবেন তাদের কর্মসূচি।

এর আগে গত সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে শপথ নেন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান মোহাইমিনুল বাশার রাজ। সময় তারা সমস্বরে বলেন, আমি শপথ করছি যে স্বৈরাচারী ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের দাবি আদায়ের লড়াই অব্যাহত রাখব। অনশনরত ভাই-বোনদের এতদিনের অকুতোভয় সংগ্রামের অনুপ্রেরণা বুকে ধারণ করে আরো দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। তাদের দুর্বিষহ যন্ত্রণা আমরা বৃথা যেতে দেব না। দিন হোক, রাত হোক আমরা আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে যাব না। আমরা আমাদের এক দফা দাবি আদায় করেই তবে ঘরে ফিরব।

শপথ বাক্য পাঠ করার পর শিক্ষার্থীরা অনশনরতদের অনশন ভাঙাতে যান। তারা বলেন, শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অনশন ভাঙা উচিত। কিন্তু তাদের আন্দোলন চলবে। কিন্তু ডাকে সাড়া দেননি অনশনরত শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

আন্দোলনের পর্যায়ে এসে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কথা জানিয়ে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে অনশনরতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল টিম। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ফুডকোর্ট। যে সেলগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলনকারীদের জন্য অর্থসহায়তা আসত সেগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তা দেয়ায় রাজধানী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এরা হলেন হাবিবুর রহমান স্বপন, রেজা নূর মঈন, নাজমুস সাকিব, মারুফ হোসেন ফয়সাল আহমেদ।

গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কয়েকশ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি তাদের ওপর হামলা চালায় একটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরদিন বিকালে শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে রাবার বুলেট ছোড়ে। সেদিন রাতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

১৯ জানুয়ারি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। সেই থেকে তারা অনশনে রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়, বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কিছুটা সুস্থ হলেই তারা আবার এসে অনশনে যোগ দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত অনশন ভাঙতে এদের কাউকেই রাজি করানো যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন