শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

শেষ পাতা

দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বের মধ্যে দুর্নীতির ধারণা সূচকে একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। সূচকে বর্তমানে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম, আগের বছর যা ছিল ১২তম স্থানে। 

গতকাল বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) পরিচালিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২১-এর বৈশ্বিক প্রকাশ উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তথ্য তুলে ধরেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক . ইফতেখারুজ্জামান।

সিপিআইয়ের তথ্য বলছে, এবার টানা চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের স্কোর অপরিবর্তিত রয়েছে। বিগত তিন বছরই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৬। যদিও বৈশ্বিক গড় স্কোর ৪৩-এর তুলনায় এবারো বাংলাদেশের স্কোর অনেক কম। তাছাড়া গত বছরের মতো এবারো বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর অবস্থানে আছে। খারাপ থেকে ভালো ক্রম অনুযায়ী সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় একই স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে মাদাগাস্কার মোজাম্বিক।

. ইফতেখারুজ্জামান জানান, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় নিচের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। ২০২১ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৮৮ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড নিউজিল্যান্ড। ৮৫ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর, সুইডেন নরওয়ে এবং ৮৪ স্কোর পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। মাত্র ১১ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, ১৩ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে তালিকার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সিরিয়া সোমালিয়া এবং ১৪ স্কোর পেয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ভেনিজুয়েলা। 

বিশ্বের ১৮০টি দেশ অঞ্চলের ২০২১ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ঊর্ধ্বক্রম বা ভালো থেকে খারাপ অনুযায়ী ১৪৭ নম্বরে। বাংলাদেশের অবস্থানকে খুবই হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন . ইফতেখারুজ্জামান। গত এক দশকের স্কোরের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের ২৬- স্থবিরতা এবং সার্বিকভাবে অবস্থানের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না হওয়াকে হতাশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের - শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে উন্নয়ন অর্থনৈতিক সুফল সাধারণ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তবে অবস্থা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা সুযোগ রয়েছে।

গবেষণা তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আটটি জরিপের ফলাফল থেকে সূচকটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে আফগানিস্তান। আর ৬৮ স্কোর পেয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান। ভুটান, ভারত, নেপাল বাংলাদেশের স্কোর অপরিবর্তিত থাকলেও মালদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা আফগানিস্তানের অবনমন হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে এবার অষ্টমবারের মতো বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন।

সিপিআই অনুযায়ী দুর্নীতির সংজ্ঞা হচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা বা লাভের জন্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার সিপিআই সূচকে দুর্নীতির ধারণার মাত্রাকে -১০০-এর স্কেলে নির্ধারণ করা হয়। স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১০০ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত বা সর্বাধিক সুশাসিত বলে ধারণা করা হয়। সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশই এখন পর্যন্ত শতভাগ স্কোর পায়নি। অর্থা? দুর্নীতির ব্যাপকতা সর্বনিম্নএমন দেশগুলোতেও কম মাত্রায় হলেও দুর্নীতি রয়েছে বলে উঠে এসেছে সূচকে। টিআই বলছে, যেসব দেশে নাগরিক স্বাধীনতা অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তারাই সিপিআই সূচকে কম স্কোর পেয়েছে।

দুর্নীতি, মানবাধিকার গণতন্ত্র’—এবারের সিপিআইয়ের প্রতিপাদ্য উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরেন . ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এবারের সিপিআই অনুযায়ী বৈশ্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। বিশেষ করে, গত এক দশকে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রের ঘাটতির ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সারা বিশ্বেই এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। কোনো দেশই শতভাগ স্কোর করতে পারেনি। ১৮০টির মধ্যে ১০০টি দেশ বৈশ্বিক গড় ৪৩-এর কম স্কোর করেছে। ১৩০টি দেশের স্কোর ৫০-এর নিচে। ২০২০-এর তুলনায় স্কোর বেড়েছে ৬৫টি দেশের, ৬৬টি দেশের স্কোর কমেছে এবং ৪৮টি দেশের স্কোর অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি দেশ তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোর করেছে।

প্রতিবেদনে দুর্নীতির পেছনে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারহীনতা, মত প্রকাশ জবাবদিহিতার অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেজন্য দেশে কোনো ভয় বা অনুকম্পা ছাড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির কার্যকর প্রয়োগ এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন