শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

খবর

রাজধানীর সব খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে —স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে অবৈধভাবে দখল হওয়া সব খাল উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

উদ্ধারকৃত খালগুলো সংস্কার করা হলে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসীকে একটি আধুনিক-দৃষ্টিনন্দন বাসযোগ্য নগর উপহার দেয়া সম্ভব হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ স্থাপনা উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, যারা সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ফলে সব জায়গায় একটি মেসেজ চলে যাবে, অবৈধভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। শুধু এখানকার খাল উদ্ধার হবে আর অন্যগুলো হবে না, এমনটা ভাবা উচিত হবে না। ঢাকা শহরের যত জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণ করেছেন বা করার পাঁয়তারা করছেন তারা সতর্ক হবেন। কোনো দখলবাজদের বরদাস্ত করা হবে না। জনগণের কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবকিছু করবে সরকার।

মন্ত্রী বলেন রাজধানীর সব খালকে একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ তৈরি করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করা হবে। লক্ষ্যে বিদেশী বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে একাধিক সভা করে প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। ঢাকা শহরের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। ঢাকা শহরে এখনো ৫৩টি খালের অস্তিত্ব রয়েছে। এসব খাল উদ্ধার করে যদি নৌ-চলাচল দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন করা যায়, তাহলে মানুষ ভেনিস ঘুরতে না গিয়ে ঢাকা শহরে আসবে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির হাতে দায়িত্ব দিলে খাল উদ্ধার করা সহজ হবে। কারণ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণ থাকে। তাদের ঐক্যবদ্ধ করলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। সে উদ্দেশেই রাজধানীর কিছু খাল ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশনকে দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর দুই সিটি করপোরেশন জোরালো অভিযান চালিয়ে খাল উদ্ধারকাজ শুরু করেছে, যার ফলাফল এখন দৃশ্যমান। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য দুই মেয়র আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সরকারের পূর্ণ সমর্থন আছে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার পাশে থাকবে।

খাল দখলকারীদের নিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকজন মানুষের জন্য রাজধানীর দুই কোটি মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হতে পারে না। এটা কখনই করতে দেয়া হবে না। রাজধানীতে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক বাসস্ট্যান্ড নির্মাণকাজ চলছে। যেখানে যে পরিমাণ রাস্তার দরকার তা নির্মাণ করতে হবে। আবাসনের জায়গায় আবাসন হবে। সবার জন্য কল্যাণকর ঢাকা গড়তে যা যা দরকার তার সবই করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

পরিদর্শনকালে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি, নগর স্থপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন