রবিবার | মে ২২, ২০২২ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

দেশের খবর

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক

সংক্রমণ ও মারামারিতে ৯ জেব্রার মৃত্যু হয়েছে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, গাজীপুর

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নয়টি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জেব্রাগুলো মারা যায়। নয়টি জেব্রার মৃত্যুর কারণ জানতে গতকাল সাফারি পার্কে বৈঠক করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, এসব জেব্রার মধ্যে চারটি মারামারি করে পাঁচটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে মারা গেছে।

গতকাল বিকালে সাফারি পার্কের ঐরাবতি বিশ্রামাগারে নয় জেব্রার মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে প্রাণী বিশেষজ্ঞ গবেষক দলের মধ্যে বৈঠক শেষে তথ্য জানানো হয়। 

-২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পার্কে নয়টি জেব্রার মৃত্যু হয়। নেতিবাচক পরিস্থিতির কথা ভেবে পার্ক কর্তৃপক্ষ তা জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি। নয়টি জেব্রার মৃত্যুর পর এখন পার্কে জেব্রার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০।

এসব প্রাণীর মৃত্যুর পর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নমুনা ঢাকার মাননিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছিল। এরই মধ্যে এর প্রতিবেদন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা এসব প্রতিবেদনের আলোকে মৃত্যুর সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।

বিশেষজ্ঞ দলে ছিলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. বিএম শহীদ উল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি অনুষদের অধ্যাপক . মো. আবু হাদী নুর আলী খান, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক . মো. রফিকুল আলম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক . রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম উকিল উদ্দিন সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাত জুলকারনাইন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের অধ্যাপক . মো. রফিকুল আলম বলেন, এসব প্রাণীর মৃতদেহে পাঁচ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা হলো স্টেপটোকোক্কাস, পাস্টোরেলা, সালমোনিলা, ইকোলাই ক্লোসটেডিয়াম। যেহেতু উন্মুক্ত অবস্থায় এসব প্রাণী বিচরণ করে তাই যেকোনোভাবেই মারা যাওয়া জেব্রাগুলো এসব ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয়েছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ বলেন, মানিকগঞ্জ থেকে ঘাস এনে জেব্রার খাবার হিসেবে সরবরাহ করা হয়। সেখানকার ঘাসও পরীক্ষা করে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তাই বর্তমানে অবশিষ্ট যে প্রাণীগুলো সাফারি পার্কে রয়েছে তাদের সুস্থতায় বেশকিছু পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, বাকি প্রাণীগুলোকে টিকিয়ে রাখতে পারব। পর্যবেক্ষণগুলো হচ্ছে, জেব্রার বসতির জায়গার মাটি ওলট-পালট করে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে জীবাণু ধ্বংস, সাফারি পার্কের জলাধারের পানি পরিবর্তন, জেব্রাগুলোকে টিকার আওতায় আনা, জেব্রার খাবার হিসেবে পরিপক্ব ঘাসের ব্যবস্থা, শুকনো খাবার ফাঙ্গাসমুক্ত করে পরিবেশন, ঘাস পানিতে ভালো করে ধুয়ে কেটে পাত্রে পরিবেশন, এসব প্রাণীর বেষ্টনীতে বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা রাখা, পার্কের অভ্যন্তরে পতিত জমিতে ঘাস উৎপাদন করে খাবারের ব্যবস্থা এবং নাইটভিশন ক্যামেরাসহ পুরো বেষ্টনীতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক . রফিকুল ইসলাম বলেন, বাকি প্রাণীগুলোকেও নজরদারি করা হচ্ছে। তাদের খাবারের সঙ্গে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিন মলসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।  

সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল কবির বলেন, হঠাৎ করেই প্রাণীগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। মারা যাওয়া জেব্রাগুলোর বেশির ভাগই হচ্ছে মাদি। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর প্রজননের সময় হলে জেব্রাগুলো একে অপরের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। সময় বড় ধরনের ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা যায়। এভাবে পার্কে চারটি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। 

সাফারি পার্কের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে এভাবে প্রাণীগুলোর মৃত্যু খুবই কষ্টকর। নিজের হাতে লালন-পালনের পর চোখের সামনেই এদের মৃত্যু দেখতে হলো। এখানে আমাদের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন