সোমবার | মে ২৩, ২০২২ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

টেলিকম ও প্রযুক্তি

বিশ্বের দ্রুততম এআই সুপার কম্পিউটার নির্মাণ করছে মেটা

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বের দ্রুততম এআই সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে মেটা। সম্প্রতি একটি পোস্টের মাধ্যমে এমনটাই জানালেন মেটার শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। চলতি বছরের মাঝামাঝি এটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। খবর টেক রাডার।

এক ব্লগ পোস্টে মেটা উল্লেখ করে, মেটা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছে যে আমরা একটি এআই রিসার্চ সুপার ক্লাস্টার (আরএসসি) নির্মাণ করেছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি চালু হওয়া সুপার কম্পিউটারটি সবচেয়ে দ্রুততম এআই সুপার কম্পিউটার হবে বলে আশা করছি।

মেটার সুপার কম্পিউটার বড় আকারের ডাটা প্রসেস করতে পারবে। মেটাভার্স প্রকল্পে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি ফেসবুক পোস্টে জাকারবার্গ বলেন, মেটাভার্সের মাধ্যমে আমরা যে অভিজ্ঞতা দিতে চাইছি তার জন্য বিশাল কম্পিউটিং ক্ষমতা লাগবে। সেকেন্ডেই কুইন্টিলিয়ন কাজ সম্পন্ন করার ক্ষমতা লাগবে। ট্রিলিয়ন উদাহরণ থেকে ডাটা প্রসেস করতে, শত ভাষা বুঝতে সহায়তা করবে নতুন এআই মডেল।

নিজেদের সুপার কম্পিউটার নিয়ে উচ্ছ্বসিত জাকারবার্গ আরো বলেন, আমাদের মতে এটি বিশ্বের দ্রুততম এআই সুপার কম্পিউটার হতে চলেছে।

সুপার কম্পিউটার তৈরিতে বিভিন্ন প্রসেসর একত্রে যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নডস বলা হয়, মেটার আরএসসিতে মোট ৭৬০টি এনভিডিয়া ডিজিএক্স এ১০০ সিস্টেমস প্রসেসর যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া থাকছে হাজার ৮০টি এ১০০ গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ। বহুসংখ্যক জিপিইউকে কম্পিউট নডের মাধ্যমে যুক্ত করে সুপার কম্পিউটার নির্মাণ করা হয়।

মেটা বলছে, আরএসসি পরিচালিত কম্পিউটারটি ২০ গুণ দ্রুত কাজ করতে পারবে। আরএসসি আগামী দিনে ট্রিলিয়ন প্যারামিটারসহ নিউরাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করবে। নিউরাল নেটওয়ার্ক মডেলের প্যারামিটারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসর জিপিটি--তে ১৭ হাজার ৫০০ কোটি প্যারামিটার রয়েছে। ধরনের অত্যাধুনিক এআই সময়ের সঙ্গে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরএসসি মেটাকে নতুন নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে এক বৃহৎ গোষ্ঠীর ব্যবহারকারীদের জন্য রিয়েল টাইম ভয়েস অনুবাদ করা যাবে। মেটাভার্সে যেখানে এআই-চালিত অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সোস্যাল মিডিয়া ছাড়িয়ে মেটাভার্সের দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছেন জাকারবার্গ। মেটা শব্দের অর্থ করলে দাঁড়ায় বেয়ন্ড বা বাইরে। অর্থাৎ আমাদের জগতের বাইরে একটি দ্বিতীয় বিশ্ব তৈরি করাই মেটার লক্ষ্য। সেই ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমেই আগামী দিনে বিনোদন থেকে কাজসবই হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। আর সেই বাজার আগে থেকেই ধরতে চায় মেটা। ঠিক সে কারণেই গত বছর মূল সংস্থার নাম ফেসবুক থেকে বদলে মেটা রাখেন জাকারবার্গ। নতুন এআই সিস্টেমস নির্মাণে কাজ করছে মেটা। এতে বড় কোনো দলের রিয়েল টাইম ভয়েস অনুবাদ করা যাবে। দলে থাকা বিভিন্ন ভাষাভাষীর ভাষা অনুবাদ করতে সক্ষম হবে এআই সিস্টেমস। এছাড়া ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) সক্ষমতার কারণে রিয়েল টাইমে ক্ষতিকর কনটেন্ট চিহ্নিত করে যথাবিহিত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এআই গবেষণা চালাচ্ছে মেটা। ২০১৩ সালে ফেসবুক এআই রিসার্চ ল্যাব (ফেয়ার) প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন