শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

প্রথম পাতা

ওমিক্রন প্রতিরোধ

ফাইজারের চেয়ে স্পুটনিক ভি টিকায় বেশি অ্যান্টিবডি

বণিক বার্তা ডেস্ক

ফাইজারের টিকার চেয়ে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনবিরোধী অ্যান্টিবডি বেশি স্পুটনিক ভি টিকায়। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। তবে গবেষণাটিকে এখনো প্রাথমিক বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। গবেষণাটির এখনো পিয়ার রিভিউ হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ছোট্ট পরিসরে চালানো প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ফাইজারের টিকা গ্রহণ করেছেন তাদের তুলনায় যারা স্পুটনিক ভি টিকা গ্রহণ করেছেন তাদের ওমিক্রন নিরপেক্ষকরণ অ্যান্টিবডি কমেনি। সরাসরি রাশিয়া প্রদত্ত অর্থায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিকভাবে যারা স্পুটনিক ভি বাজারজাত করে রাশিয়া ইতালির এমন যৌথ গবেষক দলের গবেষণায় অন্য টিকা গ্রহণকারীদের সঙ্গে রক্তের সেরাম তুলনা করা হয়। স্পুটনিক ভি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত গামালেয়া ইনস্টিটিউট ইতালির স্প্যালানজানি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক গবেষণাকাজ পরিচালনা করেন।

গবেষকরা বলেন, তিন থেকে ছয় মাস আগে টিকার দুই ডোজ গ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেয়া নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ফাইজার টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের তুলনায় স্পুটনিক ভি টিকা বেশি ওমিক্রন প্রতিরোধ সক্ষমতাসম্পন্ন। প্রাথমিক গবেষণার ফল ১৯ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, বর্তমানে তৃতীয় বুস্টার ডোজ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।

তবে গবেষণাটির পিয়ার রিভিউ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দাবি করা হচ্ছে, স্পুটনিক ভি গ্রহণকারী ব্যক্তিদের রক্তের সেরামে ওমিক্রন প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি ৭৪ দশমিক শতাংশ। অন্যদিকে ফাইজার-বায়োএনটেক গ্রহণকারী ব্যক্তিদের এই হার ৫৬ দশমিক শতাংশ।

স্পুটনিক ভি টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গামালেয়া ইনস্টিটিউটের এর আগের গবেষণায় দেখা গেছেওমিক্রনের বিরুদ্ধে দুই ডোজ স্পুটনিক ভি টিকা গ্রহণকারীদের চেয়ে স্পুটনিক ভি লাইট বুস্টার ডোজ অ্যান্টিবডিকে শক্তিশালী করেছে। আরডিআইএফ প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিভিন্ন প্লাটফর্মে অংশীদারিত্ব হলো চাবিকাঠি, যাতে ডেল্টা ওমিক্রন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্যান্য টিকার সঙ্গে যৌথভাবে স্পুটনিক লাইট টিকা ফলপ্রসূ হবে।

করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক নতুন ধরন ওমিক্রন পশ্চিম ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু নতুন ধরনটি রাশিয়ায় মাত্রই ছড়াতে শুরু করেছে। সরকারি তথ্য মোতাবেক রাশিয়ায় মঙ্গলবার নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৫০ জন। আগের দিন ১৯ জানুয়ারি এই সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৮৯৯ জন।

রাশিয়ায় সরকারিভাবে হাজার ৬০০ জনের ওমিক্রন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। সংখ্যাটা যাতে আর না বাড়ে সেজন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি স্বাস্থ্য সতর্কতা। এর পরও কর্তৃপক্ষ বলছে, শনাক্ত করা হয়নি এমন অসংখ্য মানুষ ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছে। রাশিয়ায় পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত নিশ্চিত হয়েছে মোট কোটি লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষের। এছাড়া করোনায় মারা গেছে লাখ ২৩ হাজারের বেশি মানুষ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন