শনিবার | মে ২১, ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

প্রথম পাতা

জ্বালানি তেল সরবরাহ

ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনের কমিশনিং আগামী মাসে

জেসমিন মলি

উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ পরিবহন খরচ কমাতে ভারতের শিলিগুড়ি জেলা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কাজের কমিশনিং আগামী মাসে হতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিপিসির পক্ষে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সূত্রে তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৫২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত সরকারের অনুদান ৩০৩ কোটি রুপি বিপিসি দেবে ২১৭ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ সম্ভব হবে। এতে কৃষি বাণিজ্যে গতি সঞ্চার হবে। সামগ্রিকভাবে অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক জীবন-মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এটি।

সম্প্রতি এনআরএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসকে বড়ুয়া ভারতীয় থিংক সেন্টার ইরাবতী রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টারের (আইআরসিসি) সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, শিলিগুড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কাজের কমিশনিং শুরু হতে পারে আগামী মাসে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক টিপু সুলতান বণিক বার্তাকে জানান, প্রকল্পের কাজ চলছে। পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষের পথে। এখন প্রকল্পের নদীপথের অংশ সংযুক্ত করার কাজ চলছে। আশা করা যায় প্রকল্পের যে মেয়াদ রয়েছে তার মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হলে দেশে জ্বালানি সরবরাহ খরচ কমে আসবে। চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে ব্যারেলপ্রতি যেখানে ডলার খরচ হবে, সেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ হলে ব্যারেলপ্রতি ডলার করে খরচ হবে। জ্বালানি সরবরাহে সময় কম লাগার পাশাপাশি সুবিধা ভোগ করতে পারবে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষ। উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ২০১৮ সালে। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

মোট ১৩১ দশমিক কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১২৬ দশমিক কিলোমিটার ভারতীয় অংশে কিলোমিটার। ১০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন উত্তরের সর্বশেষ জেলা পঞ্চগড়ে ৮২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার, দিনাজপুর জেলায় ৩৫ দশমিক কিলোমিটার নীলফামারী জেলায় নয় কিলোমিটার বসানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এর মাধ্যমে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে জ্বালানি তেল আসবে। সময় লাগবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এখান থেকে উত্তরের বিভিন্ন জেলায় তেল সরবরাহ করা হবে। পরিবহন ব্যয় সিস্টেম লস অনেক কমে যাবে। পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর বর্তমান ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার টন থেকে ৪৩ হাজার ৮০০ টনে উন্নীত করা হবে। বর্তমানে আমদানি করা জ্বালানি তেল পার্বতীপুরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রতি ব্যারেলে পরিবহন খরচ হয় তিন ডলারের মতো। সেই তেল চট্টগ্রামে শোধন করে সড়ক নৌপথে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তেল পরিবহনে খরচ হয় ব্যারেলপ্রতি - ডলার। ফলে পরিবহন ব্যয় দাঁড়ায় সব মিলিয়ে - ডলার। আর ভারত থেকে পাইপলাইনে পরিশোধিত তেল এনে দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করতে পরিবহন ব্যয় হবে সাড়ে ডলারের মতো।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন