মঙ্গলবার | জুন ২৮, ২০২২ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৯  

প্রথম পাতা

তৃতীয়বারের মতো নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফল ঘোষণার পর ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনে আরো একবার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেলেন তিনি। এর আগে ২০১১ সালে প্রথমবার ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

গতকাল সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ। একটানা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসতে শুরু করে। সন্ধ্যা নাগাদ আইভীর জয়ের আভাস মিলতে থাকে। এরপর রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার।

১৯২টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত আইভী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট।

আইভী তৈমুর আলম ছাড়া মেয়র পদে আরো নির্বাচন করেছেন দেয়ালঘড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাছুম বিল্লাহ, হাতঘড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস, বটগাছ প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম।

সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর  ওয়ার্ডের ১৯২টি ভোটকেন্দ্রে হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষে হয় নির্বাচন।

ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটারের বিপরীতে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা সংঘাতের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ভোট দেয়ার পরই নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নৌকারই জয় হবে। দিনশেষে শেষ হাসিটি তিনিই হেসেছেন। আর এর মাধ্যমে দেশের কোনো সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো একজন নারী পরপর তিনবার মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন।

জয়ের পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইভী বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ তাকে ভোট দিয়েছেন তা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করবেন তিনি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত মেয়র। নিজের বিজয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। আইভী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর ছিল বলে নির্বাচনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি।

নিজের বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আইভী আরো বলেন, আইভীর জয় মানে তৈমুর আলমেরও জয়। কারণ চুনকার মেয়ে মানে তৈমুর আলম খন্দকারেরও মেয়ে। তৈমুর আলম তার নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করেছেন, তার বেশির ভাগ এরই মধ্যে আমি বাস্তবায়ন করেছি। বাকিগুলো তাকে সঙ্গে নিয়েই বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন, আমি সবসময় অন্যায়, অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমার এখন প্রথম অগ্রাধিকার হলো শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কদমরসুল সেতু নির্মাণ। এছাড়া নগরবাসীর সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এর আগে সকালে নিজের ভোট দিয়ে বের হয়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, সরকার বা নির্বাচন কমিশনের দৃশ্যমান কোনো কারচুপি না হলে জনগণের যেকোনো রায় মেনে নেবেন তিনি।

নির্বাচনে যেসব কাউন্সিলর প্রার্থী জয়ী হয়েছেন তারা হলেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মাকসুদা মোজাফ্ফর, মনোয়ারা বেগম, আয়েশা আক্তার, মিনোয়ারা বেগম, শারমিন হাবিব বিন্নি, আফসানা আফরোজ বিভা, শিউলি নওশাদ শাওন অংকন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন, শাহজালাল বাদল, নুর উদ্দিন মিয়া, গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল, মোহাম্মদ মতিউর রহমান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান রিপন, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, ইস্রাফিল প্রধান, ইফতেখার আলম খোকন, মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম ছক্কু, মোহাম্মদ শওকত হাশেম, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মনিরুজ্জামান মনির, অসিত বরন বিশ্বাস, মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, শাহেন শাহ্ আহমেদ, শাহীন মিয়া, সুলতান আহমেদ ভূইয়া, আবুল কাওসার আশা, আফজাল হোসেন, এনায়েত হোসেন, সামসুজ্জোহা সিরাজুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পাশাপাশি গতকাল টাঙ্গাইল- আসনের উপনির্বাচন পাঁচ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব স্থানেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। গতকাল সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কথা বলেন।

সচিব বলেন, সব নির্বাচনেই ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ছিল। তিনটি নির্বাচনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হওয়ায় দ্রুত বিস্তারিত জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জাতীয় সংসদের ১৩৬ টাঙ্গাইল- আসনের উপনির্বাচনে প্রায় ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া যে পাঁচটি পৌরসভায় ভোট হয়েছে সেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এখন পর্যন্ত কোথাও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ টাঙ্গাইল- আসনের নির্বাচন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন পাঁচ পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইভিএমের কারণে ভোটদানে ধীরগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে ছায়া ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু নারী ভোটাররা তাতে অংশ নিতে আসেননি। ফলে ভোট দেয়ার নিয়মকানুন সম্পর্কে তাদের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থাতেই বুঝিয়ে দিতে হয়েছে। সেখানে হয়তো একটু সময় লেগেছে। তবে যারাই ভোট দিতে গিয়েছেন তাদের সবার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন


×