বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

শেষ পাতা

সংসদীয় কমিটিতে জ্বালানি বিভাগের প্রতিবেদন

সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ আগস্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানি করা জ্বালানি তেল জাহাজ থেকে দ্রুত সাশ্রয়ীভাবে খালাস করার জন্য গভীর সমুদ্রে ডাবল পাইপলাইনের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। শেষ হবে আগামী আগস্টে। প্রকল্পটি চালু হলে ১১ দিনে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল খালাস করা যায়, সেটির সময় কমে আসবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হবে না। ফলে পরিবহন খরচের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। জ্বালানি বিভাগের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানীকৃত ক্রুড অয়েল ফিনিশড প্রডাক্ট স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং নিরাপদে খালাস করার জন্য ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ চীন সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনস্থ কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রায় সাড়ে হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে প্রায় সাড়ে হাজার কোটি টাকা।

সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বয়াটি মহেশখালী দ্বীপের পশ্চিম পাশে স্থাপিত হবে। জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল ফিনিশড প্রডাক্ট সরাসরি ভেসেল মুরিং পয়েন্টে আনা হবে। সেখান থেকে পাম্প করে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথমে তেল আনা হবে মহেশখালীর কালারমারছড়ার স্টোরেজ ট্যাংকে। সেখান থেকে আবার পাম্প করে পাইপলাইনে পাঠানো হবে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। গতানুগতিক পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যয়বহুল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে মুরিং পয়েন্ট নির্মাণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনার লক্ষ্যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৯০ একরের কাছাকাছি জায়গা অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের জন্য ছয়টি স্টোরেজ ট্যাংক নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি পরিশোধিত তেলের জন্য তিনটি অপরিশোধিত তেলের জন্য। প্রতিটি পরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাংকারের ধারণক্ষমতা ৫০ হাজার ঘনমিটার। অপরিশোধিত স্টোরেজ ট্যাংকারের ধারণক্ষমতা ৩০ হাজার ঘনমিটার।

প্রকল্পটির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার অফশোর পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ১৭টি এইচডিডিসহ অনশোরে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। বাকি পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের পাম্পিং স্টেশন ট্যাংক ফার্ম নির্মাণের জন্য মহেশখালীতে নির্বাচিত জায়গায় ভূমি উন্নয়ন কাজ প্রায় ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। স্টোরেজ ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ছয়টি ট্যাংকের মেকানিক্যাল কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ। আর বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ। বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। ইস্টার্ন রিফাইনারি দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে পরিশোধন ক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। এসপিএম প্রকল্পটি পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে জ্বালানির তেলের মজুদ সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং জোগানের নিরাপত্তা বাড়বে।

বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা বাড়বে। বৈঠকে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি শেষ হতে একটু সময় লাগবে। চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন